বাংলা ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫

বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন

11.

(ক) লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ রচনা কর।অথবা,(খ) প্রদত্ত উদ্দীপক অনুসরণে একটি ক্ষুদে গল্প রচনা কর।মাকে সেবা করতে না পারার যন্ত্রণায় দগ্ধ হয় হাসান।

উত্তর ও ব্যাখ্যা

AI-তৈরি নমুনা উত্তর

(ক) লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ:

স্থান: গ্রামের একটি চায়ের দোকান সংলগ্ন পথ।
চরিত্র: রাহাত ও ফাহিম।

রাহাত: কেমন আছিস ফাহিম? বেশ কিছুদিন ধরে তোকে কিছু একটা নিয়ে খুব ব্যস্ত দেখছি!
ফাহিম: ভালো আছি রাহাত। আসলে আমাদের গ্রামের যুবসমাজকে বইমুখী করতে একটা উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবছি।
রাহাত: দারুণ ভাবনা! কী করার পরিকল্পনা করছিস?
ফাহিম: আমি চাচ্ছি আমাদের গ্রামে একটি পাবলিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করতে। যেখানে সব বয়সের মানুষ পড়ার সুযোগ পাবে।
রাহাত: চমৎকার প্রস্তাব! বর্তমান সময়ে তরুণরা যেখানে মোবাইল আসক্তিতে নিমজ্জিত, সেখানে একটি পাঠাগার তাদের সুপথে ফিরিয়ে আনতে খুব সাহায্য করবে।
ফাহিম: ঠিক তাই। জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে লাইব্রেরির কোনো বিকল্প নেই। তবে কাজটি একার পক্ষে সম্ভব নয়, সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
রাহাত: একদম সত্য। প্রথমে আমাদের একটা পরিচালনা কমিটি গঠন করতে হবে এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে।
ফাহিম: হ্যাঁ, ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের নিচতলার ফাঁকা ঘরটি সাময়িকভাবে ব্যবহারের জন্য আমরা চেয়ারম্যান সাহেবের কাছে আবেদন করতে পারি।
রাহাত: আর বই সংগ্রহের জন্য আমরা গ্রামে গ্রামে গিয়ে পুরোনো বই অনুদান হিসেবে তুলতে পারি। পাশাপাশি নিজেরাও কিছু চাঁদা দিয়ে নতুন বই কিনব।
ফাহিম: চমৎকার বুদ্ধি! আগামী শুক্রবার গ্রামের তরুণদের নিয়ে একটা প্রাথমিক মিটিং ডাকি, কী বলিস?
রাহাত: অবশ্যই। আমি সব বন্ধুদের জানিয়ে দেব। চল, সবাই মিলে এই মহৎ কাজটি সফল করে তুলি।
ফাহিম: অসংখ্য ধন্যবাদ বন্ধু, তোর এই উৎসাহ আমার সাহস বাড়িয়ে দিল।
রাহাত: ধন্যবাদ তোমাকেও, শুভ উদ্যোগের সাথে আমি সবসময় আছি।

অথবা,

(খ) ক্ষুদে গল্প:

অসহায় আত্মনাদ

হাসান মধ্যবিত্ত পরিবারের বড় সন্তান। পরিবারের অভাব-অনটন দূর করতে পড়াশোনা শেষ করেই পাড়ি জমিয়েছিল দূর প্রবাসে—মরুভূমির দেশ ওমানে। দিনরাত হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে দেশে থাকা মা আর ছোট ভাই-বোনদের জন্য টাকা পাঠাত সে। মা ছিলেন হাসানের সমস্ত পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দু। জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে মায়ের আশীর্বাদই ছিল তার একমাত্র পাথেয়।

একদিন গভীর রাতে দেশ থেকে ছোট ভাইয়ের এক কম্পিত কণ্ঠের ফোন এলো। জানতে পারল, মা স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। খবরটি শুনে হাসানের পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে গেল। মুহূর্তে বুক ফেটে কান্না এলো তার। সে তখনই দেশে ফেরার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠল। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—তার পাসপোর্ট ও ভিসা রিনিউ করার প্রক্রিয়ায় কোম্পানির অফিসে আটকা পড়েছিল। কোনোভাবেই তৎক্ষণাৎ বিমান টিকিট কেটে দেশে যাওয়ার অনুমতি মিলল না।

পরের তিন দিন হাসপাতালের বিছানায় মা নিথর হয়ে পড়ে রইলেন, আর হাজার মাইল দূরে বসে একাকী ঘরের চার দেয়ালে বুক চাপড়ে কাঁদছিল হাসান। মায়ের শেষ মুহূর্তে এক ফোঁটা পানি মুখে তুলে দেওয়ার মতো কেউ কাছে নেই। অসুস্থ মায়ের হাতটি ধরে একটু সান্ত্বনা দেওয়ার আকুতি তাকে ভেতর থেকে কুরে কুরে খাচ্ছিল। অবশেষে চতুর্থ দিন সকালে মোবাইল বেজে উঠল—ওপাশ থেকে কান্নার রোল। মা আর নেই!

হাসান মেঝেতে বসে পড়ল। বুকের ভেতরটা দুমড়েমুচড়ে এক তীব্র অপরাধবোধ তাকে গ্রাস করল। যার জন্য এত প্রবাসজীবন, যার মুখে হাসি ফোটাতে এত রক্ত পানি করা পরিশ্রম, শেষ সময়ে সেই মমতাময়ী মাকে সেবা করতে না পারার নিদারুণ যন্ত্রণায় হাসান আজীবন দগ্ধ হতে লাগল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন