কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)
কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
নিচের চিত্রটি লক্ষ কর এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

- ক)(1)
মালচিং কী?
- খ)(2)
সবুজ সার হিসেবে ধৈঞ্চা উপযোগী কেন?
- গ)(3)
চিত্র-১ এ প্রদর্শিত প্রযুক্তিটি কোন ফসলে ব্যবহার করা হয়? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
চিত্র-১ প্রযুক্তিটি ব্যবহারের ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যয় কমে আসবে কি? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মাটি থেকে বাষ্পীভবন রোধ করে আর্দ্রতা ধরে রাখা এবং আগাছা দমনের জন্য কোনো উপাদান (যেমন- খড়, পাতা, পলিথিন ইত্যাদি) দিয়ে মাটির উপরিভাগ ঢেকে দেওয়ার পদ্ধতিকে মালচিং বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ধৈঞ্চা একটি দ্রুত বর্ধনশীল লিগিউম বা শিমজাতীয় উদ্ভিদ। এর শিকড়ে 'রাইজোবিয়াম' নামক ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে বাতাস থেকে প্রচুর নাইট্রোজেন মাটিতে সংবন্ধন (ফিক্স) করতে পারে। এছাড়া এর কচি গাছ মাটিতে দ্রুত পচে গিয়ে প্রচুর জৈব পদার্থ ও পুষ্টি উপাদান যুক্ত করে এবং মাটির ভৌত ও রাসায়নিক গুণাগুণ বৃদ্ধি করে। তাই সবুজ সার হিসেবে ধৈঞ্চা অত্যন্ত উপযোগী।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চিত্র-১ এ প্রদর্শিত প্রযুক্তিটি মূলত বোরো ধান (বা ধান) ফসলে সেচ পানি সাশ্রয়ের জন্য ব্যবহার করা হয়। এটি পর্যায়ক্রমে ভেজানো ও শুকানো পদ্ধতি বা এডব্লিউডি (Alternate Wetting and Drying - AWD) প্রযুক্তির ছিদ্রযুক্ত পাইপ।
ধান চাষে বিশেষ করে বোরো মৌসুমে প্রচুর সেচের পানির প্রয়োজন হয়। এ পদ্ধতিতে ২৫-৩০ সেমি লম্বা এবং ৭-১০ সেমি ব্যাসের একটি প্লাস্টিক বা বাঁশের পাইপের নিচের ২০ সেমি অংশ ছিদ্রযুক্ত করে মাটির নিচে প্রবেশ করানো হয় এবং উপরের ছিদ্রহীন অংশটি মাটির উপরে থাকে। পাইপের ভেতরের পানির স্তর পর্যবেক্ষণ করে জমিতে সেচের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করা হয়। পাইপের ভেতরের পানি মাটির নিচে ১৫ সেমি নেমে গেলে পুনরায় জমিতে সেচ প্রদান করা হয়। ফলে অপ্রয়োজনীয় সেচ এড়িয়ে ধান চাষে পানির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, চিত্র-১ এ প্রদর্শিত এডব্লিউডি (AWD) প্রযুক্তিটি ব্যবহারের ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। নিম্নে এর সপক্ষে যুক্তি দেওয়া হলো:
১. সেচের পানির সাশ্রয়: প্রচলিত পদ্ধতিতে ধানক্ষেতে সবসময় পানি ধরে রাখতে গিয়ে প্রচুর সেচ দিতে হয়। কিন্তু এডব্লিউডি পদ্ধতিতে জমিতে প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে সেচ দেওয়ার ফলে প্রায় ২৫-৩০% সেচের পানি সাশ্রয় হয়।
২. জ্বালানি বা বিদ্যুৎ খরচ হ্রাস: সেচের পানির পরিমাণ কম লাগার কারণে সেচ পাম্প বা ডিজেল চালিত ইঞ্জিন অনেক কম সময় চালাতে হয়, যা কৃষকের ডিজেল বা বিদ্যুৎ খরচ অনেকাংশে কমিয়ে দেয়।
৩. শ্রমিকের মজুরি হ্রাস: ঘন ঘন জমিতে পানি তদারকি ও সেচ নালা পরিচর্যার শ্রম সাশ্রয় হয়, ফলে শ্রমিকের মজুরি বাবদ ব্যয় হ্রাস পায়।
৪. অপচয় রোধ: জমিতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি না থাকায় অপচয় হয় না এবং সারের লিচিং জনিত ক্ষতি রোধ হয়।
৫. রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ হ্রাস: জমিতে সবসময় পানি না জমে থাকার কারণে শিকড় শক্ত ও মজবুত হয়, গাছ হেলে পড়ে না এবং কিছু জলজ পোকা ও ছত্রাকের আক্রমণ কম হয়। ফলে বালাইনাশক প্রয়োগের খরচও কমে যায়।সুতরাং, এডব্লিউডি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সেচ সংখ্যা ও সেচের খরচ হ্রাস পাওয়ায় সামগ্রিকভাবে ধান ফসল উৎপাদনের উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও