বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৬
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সবুজ ছুটিতে সোনারগাঁও ভ্রমণে গিয়ে ছোট ভাইকে জানাল, এখানেই এক শাসক দিল্লীর কর্তৃত্ব অস্বীকার করে নিজেকে স্বাধীন ঘোষণা করেন, যার মাধ্যমে বাংলায় প্রায় দুইশ বছরের স্বাধীন সুলতানি আমলের সূচনা হয়।দৃশ্যকল্প-২: মিনার দাদু মারাঠা জাতির ইতিহাস পড়ে শোনালেন, যেখানে শিবাজির নেতৃত্বে তারা মুঘলদের বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। দাদু আরও বললেন, মধ্যযুগে বাংলার এক আঞ্চলিক নেতা স্থানীয় শাসকদের ঐকব্যস্থ করে আমৃত্যু স্বাধীনতা অক্ষুন্ন রাখার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।
- ক)(1)
মামলুক কী?
- খ)(2)
শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহকে কেন শাহ-ই-বাঙালিয়ান বলা হয়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১ এ সবুজের বর্ণনায় যে শাসকের চিত্র ফুটে উঠেছে তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-২ এ মিনার দাদুর শেষ উক্তিটির যথার্থতা পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
মামলুক শব্দের অর্থ ক্রীতদাস; যে তুর্কি দাস-সেনারা পরে সুলতান হয়েছিলেন, তাঁরাই মামলুক নামে পরিচিত।
- খ)
শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ লখনৌতি, সাতগাঁও ও সোনারগাঁও—বাংলার এই তিনটি প্রধান অংশকে একত্র করে প্রথমবারের মতো সমগ্র বাংলাকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত করেন। দিল্লির সুলতানের কর্তৃত্ব অস্বীকার করে তিনি বাংলার স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং সমগ্র বাংলার শাসক হন। এই কৃতিত্বের জন্য তাঁকে ‘শাহ-ই-বাঙ্গালা’ ও ‘শাহ-ই-বাঙালিয়ান’ উপাধি দেওয়া হয়।
- গ)
দৃশ্যকল্প-১-এ সবুজের বর্ণনায় ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ-এর চিত্র ফুটে উঠেছে।
১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দে তিনি সোনারগাঁওয়ে দিল্লির সুলতান মুহম্মদ বিন তুঘলকের কর্তৃত্ব অস্বীকার করে নিজেকে স্বাধীন সুলতান ঘোষণা করেন। এর মাধ্যমে বাংলায় প্রায় দুইশ বছরের স্বাধীন সুলতানি আমলের সূচনা হয়। সোনারগাঁওকে কেন্দ্র করে স্বাধীনতা ঘোষণা এবং দিল্লির কর্তৃত্ব অস্বীকারের বিষয়টি উদ্দীপকের বর্ণনার সঙ্গে মিলে যায়।
- ঘ)
মিনার দাদুর শেষ উক্তিটি যথার্থ। মধ্যযুগে বাংলার এই আঞ্চলিক নেতা হলেন ঈসা খাঁ।
১. ঈসা খাঁ ছিলেন বারো ভূঁইয়াদের প্রধান। মুঘল আক্রমণের মুখে তিনি বাংলার স্থানীয় ভূঁইয়া বা জমিদারদের ঐক্যবদ্ধ করেন।
২. তিনি সোনারগাঁওকে কেন্দ্র করে মুঘল বাহিনীর বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং বহুবার মুঘলদের মোকাবিলা করেন।
৩. ১৫৯৯ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বাংলার স্বাধীনতা অক্ষুন্ন রাখেন। শিবাজির মতোই এটি ছিল মুঘল শক্তির বিরুদ্ধে অনন্য প্রতিরোধের দৃষ্টান্ত।সুতরাং, স্থানীয় শাসকদের ঐক্যবদ্ধ করে আমৃত্যু স্বাধীনতা রক্ষার উক্তিটি ঈসা খাঁর ক্ষেত্রে যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও