বাংলা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

পিতার অভাবের সংসারে রেবেকা অতি কষ্টে মানুষ হয়েছে। জীবনে কত ছোটখাটো ইচ্ছাই তাকে নীরবে বিসর্জন দিতে হয়েছে! শিক্ষিত ও সুশ্রী হওয়া সত্ত্বেও বৈবাহিক জীবনে একটা ভালো সংসার জোটেনি। কিন্তু নিজের অবস্থাকে সে ভাগ্য হিসেবে মেনে নিয়েছে এবং গৃহ শিক্ষক স্বামীর সামান্য আয়ে সুন্দরভাবে সংসার পরিচালনা করছে। মেনে নেয়া এই জীবনে তার কোনো বিড়ম্বনা নেই।

  1. ক)

    'নেকলেস' গল্পের বাংলা অনুবাদক কে?

    (1)
  2. খ)

    স্ত্রীর প্রতি লোইসেলের ভালোবাসা ও কর্তব্যপরায়ণতার দুটি দৃষ্টান্ত দাও।

    (2)
  3. গ)

    রেবেকার সাথে 'নেকলেস' গল্পের মাতিলদার তুলনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "মেনে নেয়া এই জীবনে কোনো বিড়ম্বনা নেই'- রেবেকার এই জীবন সত্যই 'নেকলেস' গল্পের মূলভাব।"- এই মতের পক্ষে তোমার বক্তব্য উপস্থাপন করো ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'নেকলেস' গল্পের বাংলা অনুবাদক হলেন পূর্ণেন্দু দস্তিদার।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    স্ত্রীর প্রতি লোইসেলের ভালোবাসা ও কর্তব্যপরায়ণতার দুটি দৃষ্টান্ত হলো:
    ১. স্ত্রীর আনন্দের জন্য লোইসেল বহু কষ্টে শিক্ষা মন্ত্রীর দেওয়া একটি বল-নাচের নিমন্ত্রণপত্র সংগ্রহ করেছিলেন।
    ২. বন্ধুবান্ধবদের সাথে শিকারে যাওয়ার জন্য বন্দুক কেনার উদ্দেশ্যে জমিয়ে রাখা নিজের চারশত ফ্রাঁ তিনি নিঃসংকোচে স্ত্রীকে সুন্দর পোশাক কেনার জন্য দিয়ে দিয়েছিলেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রেবেকা ও 'নেকলেস' গল্পের মাতিলদা উভয়েই সাধারণ ও দরিদ্র পরিবারের নারী হলেও তাদের মানসিকতা ও জীবনদর্শনের দিক থেকে তারা পরস্পরের সম্পূর্ণ বিপরীত।

    'নেকলেস' গল্পের মাতিলদা সুন্দরী ও আকর্ষণীয় হওয়া সত্ত্বেও সাধারণ এক কেরানি পরিবারে জন্ম ও বিয়েকে মেনে নিতে পারেনি। সে সর্বদা বিলাসী ও আভিজাত্যপূর্ণ জীবনের স্বপ্ন দেখত এবং নিজের বাস্তব জীবন নিয়ে অতৃপ্তি, হতাশা ও ক্ষোভে ভুগত। এই উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও কৃত্রিম আভিজাত্য প্রদর্শনের মোহ থেকেই সে বান্ধবীর কাছ থেকে হীরার নেকলেস ধার করে এবং তা হারিয়ে জীবনের পরবর্তী দশটি বছর চরম দারিদ্র্য ও যন্ত্রণার মুখে পতিত হয়।

    অন্যদিকে, উদ্দীপকের রেবেকা পিতার অভাবের সংসারে কষ্ট করে বড় হয়েছে এবং সুশ্রী ও শিক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও ভালো কোনো বিত্তবান পরিবারে তার বিয়ে হয়নি। কিন্তু সে মাতিলদার মতো কাল্পনিক বিলাসের মোহে উন্মত্ত হয়নি; বরং বাস্তব অবস্থাকে ভাগ্য বলে মেনে নিয়েছে। গৃহশিক্ষক স্বামীর সামান্য আয়ে সে দক্ষতার সাথে সংসার পরিচালনা করছে এবং তৃপ্তির সাথে জীবনযাপন করছে।

    সুতরাং, রূপ ও শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও মাতিলদা যেখানে উচ্চাভিলাষ ও অতৃপ্তির প্রতীক, রেবেকা সেখানে বাস্তবতাবোধ, সন্তুষ্টি ও সংসার-নিপুণতার প্রতীক।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "মেনে নেয়া এই জীবনে কোনো বিড়ম্বনা নেই"—রেবেকার এই জীবন সত্যই 'নেকলেস' গল্পের অন্তর্নিহিত মূলভাব বা শিক্ষার প্রতিফলন, উক্তিটি তাৎপর্যপূর্ণ ও যথার্থ।

    গি দ্য মোপাসাঁর 'নেকলেস' গল্পের মূল শিক্ষা হলো বাস্তবতাকে অস্বীকার করে অতিরিক্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও কৃত্রিম প্রদর্শনপ্রিয়তা মানুষের জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনে। গল্পের মাতিলদা ছিল রূপবতী কিন্তু দরিদ্র। নিজের মধ্যবিত্ত বাস্তবতাকে সে কখনোই মেনে নিতে পারেনি। সে সর্বদা বিলাসিতা ও ধনাঢ্য জীবনের স্বপ্নে বিভোর থাকত। এক রাতের আভিজাত্য প্রদর্শনের জন্য সে ধার করা কৃত্রিম নেকলেস পরে অনুষ্ঠানে যায় এবং তা হারিয়ে ফেলে। সেই নেকলেসের ক্ষতিপূরণ দিতে গিয়ে তাকে ও তার স্বামীকে পরবর্তী দশ বছর হাড়ভাঙা খাটুনি ও ঋণের বোঝায় জর্জরিত হতে হয়, যা তার সমগ্র যৌবন ও সৌন্দর্যকে নিঃশেষ করে দেয়।

    বিপরীতে উদ্দীপকের রেবেকা শিক্ষিত ও সুশ্রী হওয়া সত্ত্বেও নিজের বাস্তব সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থাকে মেনে নিয়েছে। গৃহশিক্ষক স্বামীর সামান্য আয়ে সে সুচারুভাবে সংসার পরিচালনা করে শান্তিতে বাস করছে। সে অবাস্তব মোহের পেছনে না ছুটে বাস্তবতাকে মেনে নেওয়ায় তার জীবনে কোনো বিড়ম্বনা বা বিপর্যয় ঘটেনি।

    'নেকলেস' গল্পে মাতিলদার জীবনের করুণ পরিণতি মূলত পাঠকদের এই শিক্ষাই দেয় যে, নিজের অবস্থানকে মেনে না নিয়ে অবাস্তব বিলাসিতার পেছনে ছুটলে জীবন ধ্বংসের মুখোমুখি হয়। রেবেকা সেই ফাঁদে পা না দিয়ে জীবনকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করেছে। তাই বলা যায়, রেবেকার বাস্তবতাকে মেনে নেওয়ার জীবনদৃষ্টিই মূলত 'নেকলেস' গল্পের নীতিশিক্ষা বা অন্তর্নিহিত মূলভাবকে তুলে ধরে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন