সমাজকর্ম ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)
সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
ধর্ম কী?
- খ)(2)
গণমাধ্যমের একটি সুবিধা ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধে উক্ত প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা আলোচনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ধর্ম হলো অতিপ্রাকৃতিক বা পরম শক্তিতে বিশ্বাস এবং সেই বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা কতগুলো আচার-অনুষ্ঠান, বিশ্বাস ও মূল্যবোধের সমষ্টি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গণমাধ্যমের একটি অন্যতম প্রধান সুবিধা হলো জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং দ্রুত তথ্য পৌঁছানো। সংবাদপত্র, টেলিভিশন, রেডিও বা ইন্টারনেটের মতো গণমাধ্যমের মাধ্যমে দেশ-বিদেশের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ খবর, সামাজিক সমস্যা এবং শিক্ষণীয় বিষয় অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। এর ফলে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত হয় এবং তারা যেকোনো সামাজিক সমস্যা সমাধানে সচেতন ও উদ্বুদ্ধ হতে পারে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত সামাজিক প্রতিষ্ঠানটি হলো 'বিবাহ' (Marriage)।
বিবাহ হলো একটি সার্বজনীন ও মৌলিক সামাজিক প্রতিষ্ঠান, যার মাধ্যমে একজন পুরুষ ও নারী সমাজস্বীকৃতভাবে একত্রে বসবাস করার এবং সন্তান জন্মদানের বৈধতা লাভ করে।
উদ্দীপকের চিত্রে একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠানের চারটি প্রধান বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে— ১. জৈবিক চাহিদা পূরণ, ২. পরিবার গঠন, ৩. সামাজিক চুক্তি এবং ৪. সামাজিক নিয়ন্ত্রণ। এই চারটি বৈশিষ্ট্যই মূলত বিবাহ নামক প্রতিষ্ঠানের নির্দেশক। বিবাহের মাধ্যমেই মানুষের জৈবিক চাহিদার বৈধ ও সুশৃঙ্খল চরিতার্থ ঘটে। বিবাহ মূলত একটি সামাজিক ও আইনি চুক্তি, যার ওপর ভিত্তি করে পরিবার গঠিত হয় এবং সমাজ স্বীকৃত কাঠামোর মধ্যে যৌনতা ও সামাজিক শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রিত থাকে। অতএব, উদ্দীপকে সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবাহকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধে উদ্দীপকে উল্লেখিত সামাজিক প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ 'বিবাহ'-এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. অনৈতিকতা ও যৌন অনাচার প্রতিরোধ: বিবাহ নারী-পুরুষের জৈবিক চাহিদাকে সমাজসম্মত ও নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসে। এর ফলে সমাজে পরকীয়া, ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন ও নৈতিক অবক্ষয়ের মতো সামাজিক সমস্যা বহুলাংশে হ্রাস পায়।
২. যৌনরোগ ও স্বাস্থ্যগত সমস্যা প্রতিরোধ: অবাধ ও বিশৃঙ্খল যৌন সম্পর্ক রোধ করার মাধ্যমে বিবাহ এইচআইভি/এইডস সহ বিভিন্ন যৌনবাহিত সংক্রামক ব্যাধি বিস্তার রোধে প্রধান ভূমিকা পালন করে।
৩. পরিবার গঠন ও শিশুর নিরাপত্তা বিধান: বিবাহের মাধ্যমেই পরিবার প্রতিষ্ঠিত হয়। বিবাহিত সম্পর্কের ফলে জন্ম নেওয়া সন্তান সামাজিক বৈধতা পায় এবং সে পরিবার থেকে আদর-যত্ন ও নৈতিক শিক্ষা লাভ করে। এটি পিতৃপরিচয়হীন সন্তানের সমস্যা ও অনাথ শিশুর জন্ম রোধ করে।
৪. সামাজিক নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা রক্ষা: বিবাহ কেবল দুটি ব্যক্তির মধ্যেই সম্পর্ক স্থাপন করে না, বরং দুটি পরিবার ও সমাজের মধ্যেও যোগসূত্র তৈরি করে। এটি মানুষের আচরণকে নিয়মতান্ত্রিক করে এবং তাদের সামাজিক দায়িত্ববোধ বৃদ্ধি করে সমাজের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
পরিশেষে বলা যায়, সুস্থ ও সুশৃঙ্খল সমাজব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা এবং নানাবিধ সামাজিক অবক্ষয় ও সমস্যা প্রতিরোধে বিবাহ একটি অপরিহার্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও