‍অর্থনীতি ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)

‍অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন

ধানের উৎপাদন সংক্রান্ত তথ্য নিম্নরূপ :

জমি (একর) | মূলধন (একক) | শ্রম (একক) | মোট উৎপাদন (মন)
১ | ১০০ | ১ | ১০০
১ | ১০০ | ২ | ১৭০
১ | ১০০ | ৩ | ২৩০
১ | ১০০ | ৪ | ২৮০

  1. ক)

    প্রান্তিক আয় কী?

    (1)
  2. খ)

    “শ্রম সঞ্চয় করা যায় না” — ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের প্রদত্ত তথ্য থেকে ধানের মোট উৎপাদন রেখা অঙ্কন কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ উৎপাদন বিধির শিল্প ক্ষেত্রে কার্যকারিতা বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো দ্রব্যের অতিরিক্ত এক একক বিক্রয় করে যে অতিরিক্ত আয় পাওয়া যায়, তাকে প্রান্তিক আয় (Marginal Revenue) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    শ্রম একটি অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী বা পচনশীল উপাদান, যা সঞ্চয় করে রাখা যায় না। একজন শ্রমিক কোনো দিনে কাজ না করলে সেই দিনের শ্রম সময় ও কার্যক্ষমতা চিরতরে হারিয়ে যায়, তা পরবর্তী সময়ের জন্য জমিয়ে রাখা সম্ভব নয়। এ কারণেই বলা হয় 'শ্রম সঞ্চয় করা যায় না'।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সূচিতে জমি ও মূলধন স্থির রেখে শ্রম বৃদ্ধির সাথে সাথে মোট উৎপাদন (TP) নিচে দেওয়া হলো:

    • শ্রম ১ একক হলে TP = ১০০ মন
    • শ্রম ২ একক হলে TP = ১৭০ মন
    • শ্রম ৩ একক হলে TP = ২৩০ মন
    • শ্রম ৪ একক হলে TP = ২৮০ মন

    রেখাচিত্র অঙ্কনের বিবরণ:
    লেখচিত্রের ভূমি অক্ষে শ্রমের পরিমাণ (একক) এবং লম্ব অক্ষে ধানের মোট উৎপাদন (মন) নির্দেশ করা হলো। ভূমি অক্ষে ১, ২, ৩, ৪ একক এবং লম্ব অক্ষে ১০০, ১৭০, ২৩০, ২৮০ মন চিহ্নিত করা হলো।

    • শ্রম ১ হলে মোট উৎপাদন ১০০, প্রাপ্ত বিন্দু A;
    • শ্রম ২ হলে মোট উৎপাদন ১৭০, প্রাপ্ত বিন্দু B;
    • শ্রম ৩ হলে মোট উৎপাদন ২৩০, প্রাপ্ত বিন্দু C;
    • শ্রম ৪ হলে মোট উৎপাদন ২৮০, প্রাপ্ত বিন্দু D।

    এখন A, B, C, D বিন্দুগুলো যোগ করলে যে রেখা পাওয়া যায়, তা-ই ধানের মোট উৎপাদন রেখা (TP রেখা)। রেখাটি প্রথম থেকেই ক্রমহ্রাসমান হারে ঊর্ধ্বগামী।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে জমি ও মূলধন অপরিবর্তিত রেখে শ্রম ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি করলে প্রান্তিক উৎপাদন যথাক্রমে ১০০ মন, ৭০ মন (১৭০ - ১০০), ৬০ মন (২৩০ - ১৭০) এবং ৫০ মন (২৮০ - ২৩০)। অর্থাৎ প্রান্তিক উৎপাদন ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। সুতরাং উদ্দীপকটি 'ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উৎপাদন বিধি' নির্দেশ করে।

    শিল্প ক্ষেত্রে এ বিধির কার্যকারিতা বিশ্লেষণ:
    ঐতিহ্যগতভাবে ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উৎপাদন বিধি কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে প্রযোজ্য হলেও শিল্প ক্ষেত্রেও এর কার্যকারিতা রয়েছে।
    ১. শিল্প ক্ষেত্রে প্রাথমিক অবস্থায় শ্রম ও পরিবর্তনশীল উপাদান বাড়ালে শ্রমবিভাজন, আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার ও অভ্যন্তরীণ সুবিধার কারণে উৎপাদন ক্রমবর্ধমানে বাড়ে।
    ২. তবে শিল্প কারখানার আকার, দালানকোঠা বা যন্ত্রপাতির ক্ষমতা স্থির থাকা অবস্থায় যদি ক্রমাগত অতিরিক্ত শ্রম নিয়োজিত করা হয়, তবে একটি নির্দিষ্ট সীমার পর সমন্বয়ের অভাব, তদারকিতে জটিলতা ও ভিড়ের সৃষ্টি হয়।
    ৩. ফলে অতিরিক্ত শ্রমিকের প্রান্তিক উৎপাদন হ্রাস পেতে শুরু করে।

    অতএব, দীর্ঘমেয়াদে বা কারখানা ও যন্ত্রপাতির সীমাবদ্ধতার দরুন শিল্প ক্ষেত্রেও একপর্যায়ে ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উৎপাদন বিধি কার্যকর হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন