ব্যবসায় উদ্যোগ • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৪

ব্যবসায় উদ্যোগ প্রশ্ন

রানা ও তার পাঁচ বন্ধু চুক্তির ভিত্তিতে একটি খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন। তাদের উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান ভালো হওয়ায় দিন দিন পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পেতে থাকে। কিন্তু তাদের অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ব্যবসায় বৃদ্ধিকরণ ও আধুনিকায়নে সমস্যা হচ্ছে। তাই তারা সংগঠনের ধরন পরিবর্তন করে ১৯৯৪ সালের আইন অনুযায়ী 'রানা এন্ড ফ্রেন্ডস' কোম্পানি নামে প্রতিষ্ঠানটি নিবন্ধন করে বৃহৎ পরিসরে কাজ শুরু করেন। দুই বছরের মধ্যে তারা তিনটি বিভাগীয় শহরে তাদের শাখা খুলে ব্যবসায় পরিচালনা করেন।

  1. ক)

    বাধ্যতামূলক বিলোপসাধন কী?

    (1)
  2. খ)

    একমালিকানা ব্যবসায় "মালিকের দায় অসীম" কথাটি ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    তাদের প্রথম ব্যবসায়টির ধরন কী? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    সাংগঠনিক ধরন পরিবর্তন করায় রানাদের প্রতিষ্ঠানটি দেশের অর্থনীতিতে আরও বেশি ভূমিকা রাখবে- মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    অংশীদারি আইনের ৪১ ধারা অনুসারে একজন ব্যতীত সকল অংশীদার দেউলিয়া হলে অথবা ব্যবসায়টি আইন বিরুদ্ধ বা অবৈধ হয়ে পড়লে অংশীদারি ব্যবসায়ের যে বিলোপ ঘটে, তাকে বাধ্যতামূলক বিলোপসাধন বলে।

  2. খ)

    একমালিকানা ব্যবসায়ের মালিক ব্যবসায়ের সকল ঝুঁকি, দায়, লাভ ও লোকসান একাই বহন করেন। ব্যবসায়ের ঋণ বা লোকসান ব্যবসায়ের সম্পত্তি দিয়ে শোধ না হলে মালিকের ব্যক্তিগত সম্পত্তি থেকেও তা পরিশোধ করতে হয়। কারণ ব্যবসায় ও মালিকের মধ্যে কোনো আইনগত পার্থক্য নেই। এজন্য বলা হয়, একমালিকানা ব্যবসায়ে মালিকের দায় অসীম।

  3. গ)

    রানা ও তার পাঁচ বন্ধুর প্রথম ব্যবসায়টি অংশীদারি ব্যবসায়।

    ১. ধারণা: মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে দুই বা ততোধিক ব্যক্তি চুক্তিবদ্ধ হয়ে যে ব্যবসায় গঠন করে, তাকে অংশীদারি ব্যবসায় বলে।
    ২. উদ্দীপকের সাথে মিল: রানাসহ ছয়জন বন্ধু চুক্তির ভিত্তিতে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা প্রতিষ্ঠা করেছেন। এতে একাধিক সদস্য ও চুক্তি আছে।
    ৩. সীমাবদ্ধতা: এ ব্যবসায়ে মূলধন সীমিত থাকে বলে উদ্দীপকে তাঁদের অর্থনৈতিক সংকটে সম্প্রসারণে সমস্যা হচ্ছিল।

    অতএব, তাঁদের প্রথম ব্যবসায়টি অংশীদারি ব্যবসায়।

  4. ঘ)

    রানারা অংশীদারি ব্যবসায় থেকে ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনে 'রানা এন্ড ফ্রেন্ডস কোম্পানি' গঠন করেছেন। এতে প্রতিষ্ঠানটি অর্থনীতিতে আরও বেশি ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি।

    ১. বৃহৎ মূলধন: কোম্পানিতে শেয়ার বিক্রি করে অনেক বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে প্রচুর মূলধন সংগ্রহ করা যায়। ফলে ব্যবসায় বৃদ্ধি ও আধুনিকায়ন সম্ভব। উদ্দীপকেও বৃহৎ পরিসরে কাজ শুরু হয়েছে।
    ২. কর্মসংস্থান: তিনটি বিভাগীয় শহরে শাখা খোলায় নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে, যা বেকারত্ব কমায়।
    ৩. সীমিত দায় ও স্থায়িত্ব: সদস্যদের দায় শেয়ারের মূল্য পর্যন্ত সীমিত এবং কোম্পানি আইনসৃষ্ট কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তা হওয়ায় এর স্থায়িত্ব বেশি। তাই ঝুঁকি কমে এবং বিনিয়োগ বাড়ে।
    ৪. উৎপাদন ও রাজস্ব: বেশি উৎপাদনে পণ্যের জোগান বাড়ে এবং সরকার বেশি কর পায়।

    সুতরাং, সাংগঠনিক ধরন পরিবর্তনের ফলে প্রতিষ্ঠানটি দেশের অর্থনীতিতে আরও বেশি অবদান রাখতে পারবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন