পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩

পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন

মাসুদের বিদ্যালয়ে এবার অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে বিজয় দিবস পালিত হয়। অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় প্রধান শিক্ষক বলেন, 'আজকের এই দিনটি আমরা অনেক ত্যাগ তিতিক্ষার মাধ্যমে অর্জন করেছি। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীন বাংলাদেশ'। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সংগঠন পরিচালনা নিয়েও আলোচনা করেন। তিনি আরও বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। যে আদর্শ ও চেতনা নিয়ে তারা যুদ্ধে নেমেছিল তার পরিপূর্ণতা আমাদের সংবিধান দিয়েছে।

  1. ক)

    ছয় দফা দাবি কে পেশ করেন?

    (1)
  2. খ)

    ৭ই মার্চের ভাষণের মূল বক্তব্য কী ছিল?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বিজয় দিবস অর্জনের ধাপসমূহ ব্যাখ্যা করো

    (3)
  4. ঘ)

    'যে আদর্শ ও চেতনা নিয়ে তারা যুদ্ধে নেমেছিল তার পরিপূর্ণতা আমাদের সংবিধান দিয়েছে'- বক্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফা দাবি পেশ করেন।

  2. খ)

    ৭ই মার্চের ভাষণের মূল বক্তব্য ছিল বাঙালির মুক্তি ও স্বাধীনতার সংগ্রামের আহ্বান। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেন, "এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।" তিনি সামরিক শাসন প্রত্যাহার, সেনাবাহিনীর ব্যারাকে ফেরত যাওয়া, হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি জানান। তিনি সবাইকে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলতে বলেন।

  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বিজয় দিবস (১৬ ডিসেম্বর) অর্জনের ধাপগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো।

    ১. ভাষা আন্দোলন (১৯৫২): বাঙালির জাতীয় চেতনার সূচনা।
    ২. যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন (১৯৫৪) ও ৬২-র শিক্ষা আন্দোলন: স্বায়ত্তশাসনের দাবি জোরালো হয়।
    ৩. ছয় দফা (১৯৬৬): বাঙালির মুক্তির সনদ হিসেবে পেশ করা হয়।
    ৪. ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান: আইয়ুব খানের পতন ঘটে।
    ৫. ১৯৭০-এর নির্বাচন: আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়, কিন্তু ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়নি।
    ৬. ৭ মার্চের ভাষণ ও অসহযোগ আন্দোলন (১৯৭১): স্বাধীনতার প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
    ৭. ২৫ মার্চের কালরাত্রি ও ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা: মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়।
    ৮. মুজিবনগর সরকার গঠন (১০ এপ্রিল) ও মুক্তিযুদ্ধ: নয় মাসের যুদ্ধ শেষে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জিত হয়।

  4. ঘ)

    মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনার পরিপূর্ণ প্রতিফলন সংবিধানে ঘটেছে।

    ১. চার মূলনীতি: মূল সংবিধানে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি করা হয়েছে। এগুলোই ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।
    ২. মৌলিক অধিকার: মুক্তিযুদ্ধ ছিল বৈষম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে। সংবিধানের তৃতীয় ভাগে নাগরিকের সমানাধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, জীবনের নিরাপত্তাসহ মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।
    ৩. জনগণের সার্বভৌমত্ব: সংবিধানে বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের সব ক্ষমতার মালিক জনগণ। এটি গণতান্ত্রিক শাসনের স্বপ্ন পূরণ করেছে।

    সুতরাং, সংবিধান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনার দলিল বলে প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন