হিন্দু ধর্ম • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
সমীর শরীর সুস্থ রাখার জন্য একটি আসন অনুশীলন করে। যার ফলে তার কিডনি সজীব থাকে। ছাত্রজীবনের দায়িত্ব পালন করা সহজ হয়। শরীর লম্বা হয়। অন্যদিকে মাখন বাবু পাচনতন্ত্রকে ভালো রাখা, শরীরকে সুস্থ রাখা, জীব আত্মার সাথে পরমাত্মার যোগ স্থাপন, শরীরের চর্বি কমানো এ সকল কাজে সাফল্যের জন্য বিশেষ কৌশলে সাধনা করেন।
- ক)(1)
স্তেয় কাকে বলে?
- খ)(2)
সাধক কীসের মাধ্যমে নিজের মনকে সম্পূর্ণরূপে ঈশ্বরে সপে দিতে পারে? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
সমীর শরীর সুস্থ রাখার জন্য যে আসন অনুশীলন করে উক্ত আসনের অনুশীলন পদ্ধতির বর্ণনা দাও।
- ঘ)(4)
মাখন বাবুর কার্যকলাপ সাধনার যে পর্যায়ভুক্ত তার গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
অপরের জিনিস না বলে অধিকার করাকে স্তেয় (চুরি) বলে।
- খ)
সাধক সমাধির মাধ্যমে নিজের মনকে সম্পূর্ণরূপে ঈশ্বরে সঁপে দিতে পারেন। সমাধি অষ্টাঙ্গ যোগের সর্বশেষ ধাপ, যার অর্থ সম্পূর্ণরূপে ঈশ্বরে চিত্তসমর্পণ। ধ্যানের অত্যুচ্চ শিখরে উঠে সাধক সমাধি লাভ করেন। তখন তাঁর দেহ, মন ও বুদ্ধি স্তব্ধ থাকে, 'আমি' বা 'আমার' জ্ঞান থাকে না এবং জীবাত্মা পরমাত্মার সঙ্গে মিলিত হয়।
- গ)
সমীরের অনুশীলনকৃত আসনটি গরুড়াসন।
আসনটি শনাক্তকরণ: আসন অর্থ স্থির হয়ে সুখে অধিষ্ঠিত থাকা; দেহ ও মনকে সুস্থ ও স্থির রাখার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দেহভঙ্গিকে আসন বলে। গরুড়াসনের প্রভাবের মধ্যে রয়েছে কিডনি ভালো থাকা, দেহ লম্বা হওয়া এবং ব্রহ্মচর্য রক্ষা সহজ হওয়া। উদ্দীপকে সমীরের কিডনি সজীব থাকা, শরীর লম্বা হওয়া ও ছাত্রজীবনের (ব্রহ্মচর্যের) দায়িত্ব পালন সহজ হওয়া—এই তিনটি ফলই গরুড়াসনের প্রভাবের সঙ্গে মেলে। তাই আসনটি গরুড়াসন। এই আসনে দেহভঙ্গি গরুড়ের মতো হয় বলে এর নাম গরুড়াসন।
অনুশীলন পদ্ধতি:
১. দুই পা জোড়া করে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে।
২. ডান হাত কনুইয়ের কাছে ভেঙে বাঁ কনুইয়ের নিচ দিয়ে নিয়ে গিয়ে ডান হাতের তালু বাঁ হাতের তালুতে নমস্কারের ভঙ্গিতে রাখতে হবে।
৩. এবার বাঁ পা মাটিতে রেখে ডান পা দিয়ে বাঁ পা পেঁচিয়ে ধরতে হবে।
৪. স্বাভাবিকভাবে দম নিতে ও ছাড়তে হবে এবং এই অবস্থানে ৩০ সেকেন্ড থাকতে হবে।
৫. এরপর হাত-পা বদল করে একইভাবে আসনটি করতে হবে। এভাবে ৪ বার অভ্যাস করে শেষে শবাসনে বিশ্রাম নিতে হবে।এভাবে সমীর গরুড়াসন অনুশীলন করে শারীরিক সুস্থতা ও সংযম লাভ করছে।
- ঘ)
মাখন বাবুর কার্যকলাপ যোগসাধনা পর্যায়ভুক্ত। যোগসাধনার গুরুত্ব অপরিসীম।
যোগসাধনার ধারণা: হিন্দুধর্মশাস্ত্রে 'যোগ' মানে মিলন। সংযমপূর্বক সাধনার মাধ্যমে আত্মাকে পরমাত্মার সঙ্গে যুক্ত করে সমাধি লাভকে যোগ বলে। যোগের মাধ্যমে ঈশ্বর আরাধনার প্রক্রিয়াকেই যোগসাধনা বলে। উদ্দীপকে মাখন বাবু পাচনতন্ত্র ও শরীর সুস্থ রাখা, জীবাত্মার সঙ্গে পরমাত্মার যোগ স্থাপন এবং শরীরের চর্বি কমানোর জন্য বিশেষ কৌশলে সাধনা করেন। এগুলোই যোগসাধনার লক্ষ্য।
১. শারীরিক সুস্থতা: যোগের মাধ্যমে পাচনতন্ত্র সম্পূর্ণরূপে সুস্থ হয়, ফলে শরীর সুস্থ, হালকা ও স্ফূর্তিদায়ক হয়। যোগসাধনা দ্বারা হৃদরোগ, হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি ইত্যাদি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। যৌগিক ক্রিয়ার দ্বারা মেদ ঝরে শরীরের ওজন কমে এবং শরীর সুন্দর হয়। স্থূলকায় মানুষের জন্য যোগের বিকল্প নেই।
২. মানসিক প্রশান্তি ও সংযম: যোগের দ্বারা ইন্দ্রিয় ও মনের নিগ্রহ হয়। আসনে দেহ-মন সতেজ হয়, প্রাণায়াম ও প্রত্যাহারে মন বশে আসে এবং ইন্দ্রিয় বৈষয়িক আকাঙ্ক্ষার দাসত্ব থেকে মুক্ত হয়। ফলে সাধক দুশ্চিন্তাহীন মনের অধিকারী হন।
৩. আধ্যাত্মিক উন্নতি ও মোক্ষলাভ: যম, নিয়ম, আসন, প্রাণায়াম, প্রত্যাহার, ধারণা, ধ্যান ও সমাধি—এই অষ্টাঙ্গ যোগ অভ্যাস করে সাধক পরমাত্মা পর্যন্ত পৌঁছতে পারেন। যে যোগী অহিংসাব্রত পরায়ণ হয়ে জীবাত্মার সঙ্গে পরমাত্মার সংযোগ ঘটাতে পারেন, তিনি যোগবলে মুক্তি লাভ করেন। ব্যাসদেব বলেছেন, 'যোগই হলো এক অর্থে সমাধি।'
৪. ঋষিদের আদর্শ ও সামাজিক গুরুত্ব: পুরাকালে মুনিঋষিগণ যোগাসন, ধ্যান, তপ-জপ ও প্রাণায়ামের মাধ্যমে দেহ সুস্থ-সবল রাখতেন। কোনো কোনো যোগী কঠোর তপস্যায় মায়াপাশ ছিন্ন করে বিশ্বজনের কল্যাণে ব্রতী হন। অষ্টাঙ্গ যোগের চর্চা বিশ্বে হানাহানি বন্ধ ও শান্তি স্থাপনেও সহায়ক।
সুতরাং, যোগসাধনা দেহ ও মনের সুস্থতা এবং ঈশ্বরলাভ—উভয় ক্ষেত্রেই অপরিহার্য। মাখন বাবুর সাধনার লক্ষ্যগুলো এর গুরুত্বই প্রমাণ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও