ইসলাম • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২০

ইসলাম প্রশ্ন

জামি সাহেব একজন অফিস প্রধান। ছোটবেলা থেকেই তিনি নীতি-নৈতিকতার মধ্যে দিয়ে বড় হয়েছেন। গ্রাম থেকে আসা বশির মিয়া ঐ অফিসে তার ছেলেকে একটি চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য জামি সাহেবকে একটি উপহার প্রদানের প্রস্তাব করেন। জামি সাহেব শ্র প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এ ব্যাপারে আমি এক অদৃশ্য সভায় ভয় করি। আর যোগ্যতা থাকসে আপনার ছেলের চাকরি এমনিতেই হয়ে যাবে। অন্যদিকে দশম শ্রেণির শ্রেণিকক্ষে সামি নামের এক ছাত্রের ব্যাগ থেকে কিছু টাকা হারানো যায। শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করার পর ঘটনাটি উপলব্ধি করে অন্যান্য ছাত্রদেরকে বিষয়টি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। 'ক' নামক একজন ছাত্র শ্রেণিকক্ষে যা ঘটেছে তা বিকৃত না করে হুবহু শিক্ষককে বললেন।

  1. ক)

    পৃথিবীর সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধান কোনটি?

    (1)
  2. খ)

    'খিয়ানতকারী মুমিন নয়'- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    জামি সাহেবের কর্মকান্ডে আখলাকে হামিদাহ্র কোন গুণটি প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'ক' এর ভূমিকা আখলাকে হামিদার আলোকে চিহ্নিতপূর্বক মানবজীবনে এর প্রভাব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    পৃথিবীর সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধান মদিনা সনদ।

  2. খ)

    খিয়ানত অর্থ বিশ্বাসভঙ্গ বা আমানতের অপব্যবহার। যে ব্যক্তি কারও গচ্ছিত সম্পদ বা দায়িত্বে খিয়ানত করে, সে ঈমানের দাবি পূরণ করে না। রাসুল (স) বলেছেন, যার আমানতদারি নেই, তার ঈমান নেই। প্রকৃত মুমিন সর্বদা বিশ্বস্ত ও সৎ থাকে। তাই খিয়ানতকারীকে মুমিন বলা যায় না।

  3. গ)

    জামি সাহেব বশির মিয়ার উপহার বা ঘুষের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, তিনি অদৃশ্য সত্তা আল্লাহকে ভয় করেন। এতে আখলাকে হামিদাহর তাকওয়া গুণটি প্রকাশ পেয়েছে।

    তাকওয়া অর্থ আল্লাহর ভয়ে সব অন্যায় ও নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকা। যার তাকওয়া আছে, সে সবসময় মনে রাখে আল্লাহ তাকে দেখছেন। তাই জামি সাহেব পদের সুযোগ নিয়ে অবৈধ সুবিধা নেননি। সুতরাং, তাঁর কাজে তাকওয়া ও সততা ফুটে উঠেছে।

  4. ঘ)

    ‘ক’ নামক ছাত্রটি ঘটনা বিকৃত না করে হুবহু শিক্ষককে জানিয়েছে। তার এই ভূমিকা আখলাকে হামিদাহর সত্যবাদিতা (সিদক)-এর পরিচয় বহন করে।

    মানবজীবনে সত্যবাদিতার প্রভাব—

    ১. নৈতিক উন্নতি: সত্যবাদী ব্যক্তি সব অন্যায় থেকে দূরে থাকে এবং চরিত্রবান হয়।
    ২. আস্থা অর্জন: সত্যবাদীকে সবাই বিশ্বাস করে। ফলে পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক দৃঢ় হয়।
    ৩. সামাজিক শান্তি: সত্য প্রতিষ্ঠিত হলে মিথ্যা, প্রতারণা ও চুরির মতো অপরাধ কমে।
    ৪. পরকালীন মুক্তি: রাসুল (স) বলেছেন, সত্য মানুষকে নেকির পথে এবং নেকি জান্নাতের পথে নিয়ে যায়।

    সুতরাং, সত্যবাদিতা ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের কল্যাণের ভিত্তি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন