‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২২

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

তীব্র গণআন্দোলনের প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের পতন হয়। এ পরিস্থিতিতে পাকিস্তান সরকার সাধারণ নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়।

  1. ক)

    কোন নেতাকে দেশবন্ধু বলা হয়?

    (1)
  2. খ)

    ৭ মার্চের ভাষণের গুরুত্ব কী?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে যে নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে তা ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত নির্বাচনের ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চিত্তরঞ্জন দাশকে (সি. আর. দাশ) 'দেশবন্ধু' বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন, তা ছিল বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনা ও প্রেরণার উৎস। এই ভাষণে তিনি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর দীর্ঘ শোষণ ও নিপীড়নের ইতিহাস তুলে ধরেন, সামরিক আইন প্রত্যাহার ও ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি জানান এবং 'এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম' ঘোষণার মাধ্যমে জাতিকে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান। এটি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করেছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে আইয়ুব খানের পতনের প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত ১৯৭০ সালের পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে।

    ১৯৬৯ সালের তীব্র গণঅভ্যুত্থানের মুখে পাকিস্তানের সামরিক শাসক ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান ক্ষমতাচ্যুত হন এবং জেনারেল ইয়াহিয়া খান ক্ষমতা গ্রহণ করেন। গণদাবির প্রেক্ষিতে ইয়াহিয়া খান প্রাপ্তবয়স্কদের সর্বজনীন ভোটাধিকার এবং 'এক ব্যক্তি এক ভোট' নীতির ভিত্তিতে ১৯৭০ সালের ডিসেম্বর মাসে পাকিস্তানের জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সাধারণ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন। এটি ছিল অখণ্ড পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথম ও শেষ সাধারণ নির্বাচন। জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানের ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসনে জয়লাভ করে জাতীয় পরিষদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ এবং স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এক অনন্য ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে।

    প্রথমত, এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাঙালিরা ব্যালটের মাধ্যমে পাকিস্তানের ঔপনিবেশিক শাসন, শোষণ ও সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে নিজেদের রায় সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করে। আওয়ামী লীগ ১৬৭টি আসন লাভ করে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে, যার ফলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সমগ্র পাকিস্তানের অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন।

    দ্বিতীয়ত, এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার ছিল ঐতিহাসিক ৬ দফা এবং ১১ দফা। জনগণের বিপুল জয়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন ও মুক্তির পক্ষে ঐক্যবদ্ধ।

    তৃতীয়ত, নির্বাচনে জয়ী দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে পাকিস্তানি জান্তা ও জুলফিকার আলী ভুট্টো ষড়যন্ত্র শুরু করে। ৩ মার্চ ডাকা জাতীয় পরিষদের অধিবেশন একতরফা স্থগিত করা হলে পূর্ব পাকিস্তানে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে, যা পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধে রূপ নেয়। নির্বাচনের মাধ্যমেই বিশ্ববাসীর কাছে স্পষ্ট হয়েছিল যে বাঙালিরা নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই নির্ধারণ করতে সক্ষম এবং পাকিস্তানের সাথে বাঙালিদের আর একত্রে থাকা সম্ভব নয়। সুতরাং, ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের অন্যতম প্রধান ভিত্তি ছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন