ইসলাম • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২০

ইসলাম প্রশ্ন

মুরাদ সাহেব একজন বিজ্ঞানের শিক্ষক। সম্প্রতি তিনি উচ্চ ডিগ্রি অর্জনের জন্য বিদেশ গমন করেন। সেখানে তিনি বিজ্ঞানের গুরত্বপূর্ণ বিষয়ে যথা পরিস্রবণ, দ্রবণ, ভস্মীকরণ ইত্যাদি বিষয়ে গবেষণা করে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করে নিজ দেশে সফলতার স্বাক্ষর বহন করেন। অন্যদিকে আলমপুর গ্রামে জনাব আমির আলী ফিকহ শাস্ত্রে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে শিক্ষকতা করেন। তার ছাত্ররা তার সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, তার মতো জ্ঞানী, খোদাভীরু ও ইসলামের সমস্যা সমাধানের চাহিদা পূরণে পারদর্শী কাউকে দেখিনি। এই শিক্ষকের জীবনে একজন আদর্শ মুসলিম মনীষীর দৃষ্টান্ত রয়েছে।

  1. ক)

    'বাইতুল হিকমার' প্রতিষ্ঠাতা কে?

    (1)
  2. খ)

    'হিলফুল ফুযুল' গঠনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    মুরাদ সাহেবের কর্মকাণ্ড কোন মনীষীকে স্মরণ করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    জনাব আমির' আলীর জীবন ও কর্মে যে মুসলিম মনীষীর কর্মের প্রতিফলন ঘটেছে তা উল্লেখপূর্বক তার গুণাবলি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    'বাইতুল হিকমা'-র প্রতিষ্ঠাতা আব্বাসীয় খলিফা হারুনুর রশিদ। পরে খলিফা আল-মামুন একে আরও সমৃদ্ধ করেন।

  2. খ)

    হিলফুল ফুযুল গঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা। এর সদস্যরা অঙ্গীকার করেন, তাঁরা অত্যাচারিত ও অসহায়ের পাশে দাঁড়াবেন, জুলুমকারীকে বাধা দেবেন এবং দেশি-বিদেশি সবার জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। মহানবি (স) এই সংঘের সদস্য হিসেবে অংশ নেন। এর ফলে আরব সমাজে গোত্রীয় সংঘাত কমে ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।

  3. গ)

    মুরাদ সাহেবের কর্মকাণ্ড জাবির ইবনে হাইয়ানকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

    জাবির ইবনে হাইয়ান ছিলেন মুসলিম বিজ্ঞানী ও আধুনিক রসায়নশাস্ত্রের জনক। তিনি পরিস্রবণ, দ্রবণ, ভস্মীকরণ, পাতন ও স্ফটিকীকরণের মতো রাসায়নিক প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করেন এবং এসব প্রক্রিয়া উন্নত করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থ ইউরোপে রসায়নের ভিত্তি গড়তে সাহায্য করেছে। উদ্দীপকে মুরাদ সাহেব পরিস্রবণ, দ্রবণ ও ভস্মীকরণ নিয়ে গবেষণা করে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তাই তিনি জাবির ইবনে হাইয়ানকে স্মরণ করিয়ে দেন।

  4. ঘ)

    জনাব আমির আলীর জীবন ও কর্মে ইমাম আবু হানিফা (র)-এর কর্মের প্রতিফলন ঘটেছে।

    ইমাম আবু হানিফা (র)-এর গুণাবলি:
    ১. ফিকহ শাস্ত্রে পাণ্ডিত্য: তিনি হানাফি মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা এবং ফিকহ শাস্ত্রের একজন বড় ইমাম। কুরআন ও হাদিসের আলোকে তিনি নতুন সমস্যার সমাধান দিতেন। আমির আলীও ফিকহ শাস্ত্রে দক্ষ এবং ইসলামের সমস্যা সমাধানে পারদর্শী।
    ২. খোদাভীরুতা: তিনি অত্যন্ত আল্লাহভীরু ও ইবাদতগুজার ছিলেন। আমির আলী সম্পর্কে ছাত্রদের মন্তব্যেও খোদাভীরুতার কথা এসেছে।
    ৩. শিক্ষকতা: তিনি বহু ছাত্রকে শিক্ষা দিয়েছেন। ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ তাঁর বিখ্যাত ছাত্র।
    ৪. নীতিনিষ্ঠা: তিনি শাসকের প্রস্তাবিত পদ গ্রহণ না করে নীতিতে অটল থেকেছেন।

    সুতরাং, আমির আলীর জ্ঞান, খোদাভীরুতা ও শিক্ষাদানে ইমাম আবু হানিফা (র)-এর আদর্শ প্রতিফলিত হয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন