ভূগোল এবং পরিবেশ • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৫

ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন

দৃশ্যপট-১: দিপু ফয়েস লেকে বেড়াতে গিয়ে সেখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয়।দৃশ্যপট-২: জাফর আমের মৌসুমে রাজশাহী গিয়ে আম বাগান দেখে খুবই আনন্দিত হলেন। অন্যদিকে নাজিম পতেঙ্গা সৈকতে বেড়াতে গিয়ে অনেক জাহাজ দেখতে পেলেন। ভ্রমণকালে তারা উক্ত দুটি অঞ্চলে প্রধান নদী সম্পর্কে জানতে পারল।

  1. ক)

    দোয়াব কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ নদীর কোন পর্যায়ে সৃষ্টি হয়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যপট-১ এ উল্লিখিত স্থানের ভূপ্রকৃতির ধরন ব্যাখ্যা করো

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যপট-২ এ উল্লিখিত নদী দুটির মধ্যে কোনটি ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অধিক গুরুত্বপূর্ণ? যুক্তিসহ মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    প্রবহমান দুটি নদীর মধ্যবর্তী ভূমিকে দোয়াব বলে।

  2. খ)

    অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ নদীর মধ্য ও নিম্নগতিতে (প্লাবন সমভূমি অঞ্চলে) সৃষ্টি হয়।

    এই পর্যায়ে নদীর স্রোত কমে যায় এবং নদী সমভূমির ওপর দিয়ে আঁকাবাঁকা পথে বয়ে চলে। কোনো বাঁকের দুই প্রান্তের মধ্যবর্তী অংশ ক্ষয় ও সঞ্চয়ের ফলে কেটে নদী সোজা পথে চলতে শুরু করলে পরিত্যক্ত বাঁকটি আলাদা হয়ে যায়। এই বিচ্ছিন্ন অংশই ঘোড়ার খুরের আকৃতির হ্রদ বা অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ।

  3. গ)

    দৃশ্যপট-১-এর ফয়েস লেক চট্টগ্রামের পাহাড় ঘেরা এলাকায় অবস্থিত। তাই এ স্থানের ভূপ্রকৃতি হলো পাহাড়ি ভূমি, যা দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের টারশিয়ারি যুগের পাহাড়ের অংশ।

    এ পাহাড়গুলোর বৈশিষ্ট্য:
    ১. রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ জুড়ে এর বিস্তৃতি।
    ২. পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার। বান্দরবানের তাজিনডং (বিজয়) বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ, যার উচ্চতা ১,২৮০ মিটার।
    ৩. এই এলাকা পাহাড়, উপত্যকা ও জলাশয়ে ভরা বলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ।

  4. ঘ)

    দৃশ্যপট-২-এর নদী দুটি হলো রাজশাহীর পদ্মা এবং পতেঙ্গার কর্ণফুলী। আমার মতে, ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কর্ণফুলী নদী অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

    ১. সমুদ্রবন্দর: বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত। আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় সব পণ্য এই বন্দর দিয়ে আসে ও যায়।
    ২. আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভূমিকা: জোয়ারের সময় সমুদ্রগামী জাহাজ নদীতে প্রবেশ করতে পারে, তাই পতেঙ্গায় জাহাজ চলাচল হয়। এতে সারা দেশের সাথে বিশ্ব বাজারের সংযোগ ঘটে।
    ৩. শিল্পের বিকাশ: নদীর তীরে চট্টগ্রামে কর্ণফুলী কাগজকলসহ নানা শিল্প গড়ে উঠেছে এবং কাপ্তাই বাঁধে পানিবিদ্যুৎ উৎপাদন হয়।
    ৪. পদ্মার ভূমিকা: পদ্মা অভ্যন্তরীণ নৌপথে পণ্য পরিবহন ও সেচে সহায়ক। কিন্তু এর সাথে বৈদেশিক বাণিজ্যের সরাসরি যোগ নেই।

    সুতরাং, সমুদ্রবন্দর ও বৈদেশিক বাণিজ্যের কারণে কর্ণফুলী নদী ব্যবসা-বাণিজ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন