গার্হস্থ্য বিজ্ঞান • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৪

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান প্রশ্ন

ফাতিমা তার পরিবারকে নিয়ে পিকনিকে যাওয়ার মনস্থির করল। পরিবারের সব সদস্যদের ডেকে বেড়াতে যাওয়ার জায়গা ঠিক করে, কাউকে বাজার করা, কাউকে গাড়ি ভাড়া করতে দিলেন। পিকনিকে যাওয়ার আগে গাড়ি ভাড়া ও বাজারসহ অন্যান্য কাজগুলো সঠিকভাবে হয়েছে কিনা তা যাচাই করেন। এতে করে পিকনিকে গিয়ে কোনো প্রকার সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়নি। অপরদিকে তার বোন মনিকার ৬ বছরের বাচ্চাকে স্কুলে ভর্তি করাতে গিয়ে সমস্যার সম্মুখীন হলেন। কোনো স্কুলের পরিবেশ ভালো, কোনো স্কুলের পড়াশোনা ভালো, কোনোটা বাসায় কাছে আবার কোনোটা দূরে। তিনি একা মতামত না নিতে পারায় পরিবারের বড়দের সাথে বসে যে স্কুলটি কাছে সেখানে ভর্তি করানোর সিদ্ধান্ত নিলেন।

  1. ক)

    সংগঠন কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    কাজের ফলাফল যাচাই করার নাম কী? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    ফাতিমার গৃহ ব্যবস্থাপনার উল্লিখিত পদ্ধতিটি কী? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    মনিকার বাচ্চার স্কুলে ভর্তির সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায় বা পদ্ধতির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    পরিবারের লক্ষ্য অর্জনের জন্য পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সম্পদ, কাজ ও দায়িত্ব সদস্যদের মধ্যে সুশৃঙ্খলভাবে বণ্টন ও সমন্বয় করাকে সংগঠন (Organization) বলে।

  2. খ)

    কাজের ফলাফল যাচাই করার নাম মূল্যায়ন (Evaluation)।

    পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর বা কাজ চলাকালে দেখা হয় লক্ষ্য কতটা অর্জিত হলো, কোথায় ভুল বা ঘাটতি থেকে গেল। এর মাধ্যমে সফলতা ও ব্যর্থতার কারণ জানা যায় এবং পরবর্তী কাজের পরিকল্পনা আরও উন্নত করা যায়।

  3. গ)

    ফাতিমার গৃহ ব্যবস্থাপনার উল্লিখিত পদ্ধতিটি হলো ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া, যার ধাপগুলো হলো পরিকল্পনা, সংগঠন, নিয়ন্ত্রণ ও মূল্যায়ন।

    ১. পরিকল্পনা: ফাতিমা সবাইকে ডেকে পরামর্শের মাধ্যমে বেড়াতে যাওয়ার জায়গা ঠিক করেছেন।
    ২. সংগঠন: কাউকে বাজার করা, কাউকে গাড়ি ভাড়া করার দায়িত্ব দিয়ে কাজ বণ্টন করেছেন।
    ৩. নিয়ন্ত্রণ ও মূল্যায়ন: যাত্রার আগে গাড়ি ভাড়া ও বাজারসহ সব কাজ ঠিকমতো হয়েছে কি না যাচাই করেছেন।

    এভাবে ধাপে ধাপে কাজ করায় পিকনিকে কোনো সমস্যা হয়নি।

  4. ঘ)

    মনিকা সন্তানের স্কুলে ভর্তির সমস্যা সমাধানে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছেন, এবং আমার মতে তাঁর পদ্ধতি অনেকাংশে যথার্থ।

    ১. সমস্যা ও বিকল্প চিহ্নিতকরণ: তিনি দেখেছেন কোনো স্কুলের পরিবেশ ভালো, কোনোটির পড়াশোনা ভালো, কোনোটি কাছে আবার কোনোটি দূরে। অর্থাৎ বিকল্পগুলো তুলনা করেছেন।
    ২. মতামত গ্রহণ: একা সিদ্ধান্ত না নিয়ে পরিবারের বড়দের সাথে বসেছেন। এতে অভিজ্ঞতার সুবিধা পাওয়া যায় এবং সিদ্ধান্ত সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়।
    ৩. যুক্তিসঙ্গত নির্বাচন: ছয় বছরের ছোট শিশুর যাতায়াতের ঝুঁকি ও কষ্ট বিবেচনা করে কাছের স্কুলটি বেছে নিয়েছেন, যা শিশুর নিরাপত্তা ও সময়ের সাশ্রয় নিশ্চিত করে।

    তবে ভর্তির পর শিশুর পড়াশোনার মান ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে ফলাফল মূল্যায়ন করা উচিত। সুতরাং, বিকল্প তুলনা ও পরিবারের পরামর্শ নেওয়ায় মনিকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ পদ্ধতি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন