হিন্দু ধর্ম • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৪

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

অশোকের পিতা পাঁচ বছর বয়সে তাকে গুরুগৃহে প্রেরণ করেন। গুরুর নির্দেশে সে বহু শাস্ত্র অধ্যয়ন, আত্মসংযম, পরিশ্রম ও কঠোর জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়। বিদ্যাশিক্ষা সমাপ্ত হলে পঁচিশ বছর পর গুরুর নির্দেশে নিজ গৃহে প্রত্যাবর্তন করে- পিতৃযজ্ঞ, দৈবযজ্ঞ, ভূতযজ্ঞ, নৃযজ্ঞ ও ঋষিযজ্ঞ পালনের মাধ্যমে জীবন অতিবাহিত করতে থাকে। এছাড়া সে এখন সমাজের প্রতিও নানা কর্তব্য পালন করে।

  1. ক)

    যোগ দর্শনের প্রণেতা কে?

    (1)
  2. খ)

    'আসন' কী? তা ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    অশোকের গুরুগৃহের শিক্ষালাভ কোন আশ্রমের অন্তর্ভুক্ত? তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    অশোক গৃহে এসে কীভাবে তার জীবন অতিবাহিত করে? তা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    মহর্ষি পতঞ্জলি যোগ দর্শনের প্রণেতা।

  2. খ)

    দেহ ও মনকে সুস্থ ও স্থির রাখার উদ্দেশ্যে যে বিভিন্ন দেহভঙ্গি বা দেহাবস্থান অনুশীলন করা হয়, তাকে আসন বলে। আসন অষ্টাঙ্গ যোগের তৃতীয় অঙ্গ। এর সংজ্ঞা হলো ‘স্থিরসুখমাসনম্’, অর্থাৎ স্থির হয়ে সুখে অধিষ্ঠিত থাকা।

    আসনে শরীরে দৃঢ়তা আসে, শরীর নীরোগ ও লঘুভার হয় এবং শরীর ও মনের সমন্বয় ঘটে। যোগী আসনে দেহকে জয় করে তাকে আত্মার বাহন হিসেবে গড়ে তোলেন।

  3. গ)

    অশোকের গুরুগৃহের শিক্ষালাভ ব্রহ্মচর্য আশ্রমের অন্তর্ভুক্ত।

    ব্রহ্মচর্য আশ্রমের ধারণা: হিন্দুধর্মে মানুষের শতবর্ষের জীবনকে চারটি আশ্রমে ভাগ করা হয়েছে, প্রতিটির গড় সময় পঁচিশ বছর। প্রথম পঁচিশ বছর ব্রহ্মচর্য আশ্রম। পাঁচ বছর বয়স হলে শিশুকে গুরুগৃহে গিয়ে গুরুর নিকট দীক্ষা নিতে এবং তাঁর তত্ত্বাবধানে পড়াশোনা করতে হয়। গুরুর নির্দেশে শিষ্য বহু শাস্ত্র অধ্যয়ন করে এবং আত্মসংযম, পরিশ্রম ও কঠোর জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়। বিদ্যাশিক্ষা শেষে গুরুর নির্দেশে সে গৃহে ফিরে গার্হস্থ্য জীবনে প্রবেশ করে।

    উদ্দীপকের সঙ্গে সম্পর্ক: অশোকের পিতা পাঁচ বছর বয়সে তাকে গুরুগৃহে পাঠান। সেখানে গুরুর নির্দেশে সে শাস্ত্র অধ্যয়ন, আত্মসংযম, পরিশ্রম ও কঠোর জীবনযাপন করে এবং পঁচিশ বছর পর গৃহে ফেরে। এ সবই ব্রহ্মচর্য আশ্রমের নিয়মের সঙ্গে মেলে।

    অতএব, অশোকের গুরুগৃহের জীবন ব্রহ্মচর্য আশ্রমের অন্তর্ভুক্ত।

  4. ঘ)

    অশোক গৃহে ফিরে গার্হস্থ্য আশ্রমের নিয়ম অনুযায়ী জীবন অতিবাহিত করে। উদ্দীপকে বর্ণিত পঞ্চযজ্ঞ ও সামাজিক কর্তব্য পালন এ আশ্রমের মূল কর্ম।

    গার্হস্থ্য আশ্রমের ধারণা: ব্রহ্মচর্য শেষে বিবাহ করে সংসারধর্ম পালনই গার্হস্থ্য আশ্রম। সন্তান-সন্ততি লাভ, তাদের ভরণ-পোষণ এবং প্রতিদিন পাঁচটি যজ্ঞের অনুশীলন এ আশ্রমের কর্তব্য।

    ১. পিতৃযজ্ঞ: মাতা-পিতার প্রতি শ্রদ্ধা, ভক্তি ও সেবা-যত্ন করাকে পিতৃযজ্ঞ বলে। অশোক পিতৃযজ্ঞ পালন করে মাতা-পিতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য পূরণ করে।

    ২. দেবযজ্ঞ ও ভূতযজ্ঞ: প্রকৃতির দান ভোগ করার সময় কৃতজ্ঞচিত্তে ভগবানকে ভোগ্যবস্তু নিবেদন করা দেবযজ্ঞ। পাখি ও অন্যান্য জীবজন্তুকে আহার দেওয়া ও পরিচর্যা করা ভূতযজ্ঞ। এতে ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও প্রাণীর প্রতি দয়া প্রকাশ পায়।

    ৩. নৃযজ্ঞ ও ঋষিযজ্ঞ: অতিথিসেবাকে নৃযজ্ঞ এবং পদ্ধতিগতভাবে বেদসহ প্রয়োজনীয় গ্রন্থ পাঠ করে জ্ঞান ও নৈতিকতা অর্জনের প্রচেষ্টাকে ঋষিযজ্ঞ বলে।

    ৪. সামাজিক কর্তব্য: মানুষ সমাজবদ্ধ জীব। সমাজের কাছ থেকে খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা প্রভৃতি পাওয়ায় সে মঠ, মন্দির, বিদ্যালয় ও চিকিৎসালয় স্থাপন করে সেবাধর্ম পালন করে। অশোকও সমাজের প্রতি নানা কর্তব্য পালন করে।

    সুতরাং, অশোক গৃহে এসে পাঁচ যজ্ঞ ও সামাজিক কর্তব্য পালনের মাধ্যমে গার্হস্থ্য আশ্রমের জীবন অতিবাহিত করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন