বাংলা ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৭
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
4.
(ক) 'উপসর্গের অর্থবাচকতা নেই, কিন্তু অর্থদ্যোতকতা আছে'- আলোচনা করো।অথবা,(খ) ব্যাসবাক্যসহ সমাসের নাম লেখো (যেকোনো পাঁচটি):কাজলকালো, পথেঘাটে, অনাশ্রিত, ঊর্ণনাভ, অপরাহ্ণ, বজ্রকঠোর, রাষ্ট্রপতি, ভবনদী।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
(ক) 'উপসর্গের অর্থবাচকতা নেই, কিন্তু অর্থদ্যোতকতা আছে'— উক্তিটির বিশ্লেষণ:
যেসব অব্যয়জাতীয় শব্দাংশ ধাতু বা শব্দের পূর্বে বসে নতুন অর্থযুক্ত শব্দ গঠন করে, শব্দের অর্থের পূর্ণতা সাধন করে, অর্থের পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা সংকোচন ঘটায়, তাদের উপসর্গ বলে।
উপসর্গের নিজস্ব কোনো অর্থ বা অর্থবাচকতা নেই; অর্থাৎ উপসর্গগুলো স্বতন্ত্রভাবে ভাষায় ব্যবহৃত হয়ে কোনো স্বাধীন অর্থ প্রকাশ করতে পারে না। যেমন: 'প্র', 'পরা', 'বি', 'উপ', 'সু' ইত্যাদি বিচ্ছিন্নভাবে ব্যবহৃত হলে কোনো অর্থ দেয় না।
কিন্তু যখনই এই উপসর্গগুলো অন্য কোনো মূল শব্দ বা ধাতুর পূর্বে যুক্ত হয়, তখনই নতুন অর্থবাহী শব্দের সৃষ্টি করে। উপসর্গগুলোর এই নতুন অর্থ সৃষ্টির ক্ষমতা বা প্রভাবকে 'অর্থদ্যোতকতা' বলা হয়।
উদাহরণস্বরূপ, 'হার' একটি স্বতন্ত্র অর্থবোধক শব্দ, যার অর্থ পরাজয় বা গলার মালা। এই 'হার' শব্দের পূর্বে বিভিন্ন উপসর্গ যুক্ত হয়ে নতুন নতুন অর্থ প্রকাশ করে:
১. প্র + হার = প্রহার (আঘাত করা)
২. উপ + হার = উপহার (উপঢৌকন)
৩. পরি + হার = পরিহার (বর্জন করা)
৪. সং + হার = সংহার (ধ্বংস বা বিনাশ)
৫. আ + হার = আহার (ভোজন করা)
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, উপসর্গের নিজস্ব কোনো অর্থবাচকতা না থাকলেও অন্য শব্দের পূর্বে বসে নতুন অর্থ সৃষ্টির অনন্য দ্যোতনা বা অর্থদ্যোতকতা শক্তি রয়েছে।
অথবা,
(খ) ব্যাসবাক্যসহ সমাসের নাম:
১. কাজলকালো = কাজলের ন্যায় কালো (উপমান কর্মধারয় সমাস)
২. পথেঘাটে = পথে ও ঘাটে (অলুক দ্বন্দ্ব সমাস)
৩. অনাশ্রিত = নয় আশ্রিত (নঞ্ তৎপুরুষ সমাস)
৪. ঊর্ণনাভ = ঊর্ণা (মাকড়সার জাল) নাভিতে যার (বহুব্রীহি সমাস)
৫. অপরাহ্ণ = অহ্নের অপর ভাগ (তৎপুরুষ সমাস / ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস)
৬. বজ্রকঠোর = বজ্রের ন্যায় কঠোর (উপমান কর্মধারয় সমাস)
৭. রাষ্ট্রপতি = রাষ্ট্রের পতি (ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস)
৮. ভবনদী = ভব রূপ নদী (রূপক কর্মধারয় সমাস)
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও