অর্থনীতি ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

জনসংখ্যা সম্পর্কে অনেক তত্ত্ব প্রচলিত রয়েছে। তার মধ্যে একটি তত্ত্বে বলা হয়েছে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় জ্যামিতিক হারে। অর্থাৎ ১, ২, ৪, ৮, ১৬ ও ৩২ এবং খাদ্যোৎপাদন বৃদ্ধি পায় গাণিতিক হারে। অর্থাৎ ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬………………। অপর তত্ত্বে, একটি দেশের সর্বোচ্চ মাথাপিছু আয় অর্জন ও সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় জনসংখ্যার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

  1. ক)

    আত্মকর্মসংস্থান কী?

    (1)
  2. খ)

    মানবসম্পদ উন্নয়নের ধারণাটি ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আলোকে প্রথমে জনসংখ্যার যে তত্ত্বটি উল্লেখ করা হয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত জনসংখ্যার তত্ত্ব দুটির মধ্যে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কোন তত্ত্বটিকে তুমি অধিকতর কার্যকর বলে মনে কর? ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নিজের দক্ষতা, মেধা ও সীমিত পুঁজিকে কাজে লাগিয়ে নিজস্ব উদ্যোগে কোনো উৎপাদনশীল বা লাভজনক কাজে নিয়োজিত হওয়াকে আত্মকর্মসংস্থান বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মানবসম্পদ উন্নয়ন বলতে দেশের সামগ্রিক মানবগোষ্ঠীর দক্ষতা, জ্ঞান, উদ্ভাবনী ক্ষমতা এবং শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতার ইতিবাচক বিকাশকে বোঝায়।

    যথাযথ শিক্ষা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা এবং পুষ্টি নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে একটি দেশের সাধারণ বা অদক্ষ জনসংখ্যাকে উৎপাদনশীল সম্পদে রূপান্তর করা হয়। এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রথমে যে তত্ত্বটি উল্লেখ করা হয়েছে, তা হলো ইংরেজ অর্থনীতিবিদ টমাস রবার্ট ম্যালথাস কর্তৃক ১৭৯৮ সালে প্রদত্ত 'ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্ব'।

    ম্যালথাসের তত্ত্ব অনুসারে, কোনো দেশের জনসংখ্যা এবং খাদ্য উৎপাদনের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট অসম অনুপাত বিদ্যমান থাকে:
    ১. জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় জ্যামিতিক হারে (Geometric Progression), যেমন— ১, ২, ৪, ৮, ১৬, ৩২ ইত্যাদি ক্রমে। এর ফলে প্রতি ২৫ বছরে জনসংখ্যা দ্বিগুণ হওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়।
    ২. অপরদিকে, জমিতে ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উৎপাদন বিধি কার্যকর থাকায় খাদ্যোৎপাদন বৃদ্ধি পায় গাণিতিক হারে (Arithmetic Progression), যেমন— ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬ ইত্যাদি ক্রমে।

    ফলে একটি দেশে খাদ্যোৎপাদনের তুলনায় জনসংখ্যা অতি দ্রুত হারে বাড়ে এবং এর ফলে খাদ্যঘাটতি ও জনসংখ্যার জনাধিক্যজনিত ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়। উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম তত্ত্বটি হুবহু ম্যালথাসের এই চিন্তাধারাকে প্রতিফলিত করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত তত্ত্ব দুটি হলো— (১) ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্ব এবং (২) কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্ব। বাংলাদেশের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে পর্যালোচনা করলে ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্ব অপেক্ষা 'কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্বটি' অধিকতর কার্যকর ও প্রাসঙ্গিক বলে আমি মনে করি।

    এর সপক্ষে যুক্তিগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
    ১. খাদ্যোৎপাদনে সাফল্য: ম্যালথাসের আশঙ্কা সত্ত্বেও উচ্চফলনশীল জাত (HYV), রাসায়নিক সার ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদনে প্রভূত সাফল্য অর্জন করেছে। ফলে জনসংখ্যা যেভাবে বেড়েছে, খাদ্যোৎপাদন কেবল গাণিতিক হারে সীমিত থাকেনি; বরং দেশ প্রায় খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে।
    ২. মানবসম্পদের রূপান্তর: কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্ব জনসংখ্যার গুণগত মান ও মাথাপিছু আয়ের ওপর জোর দেয়। বর্তমানে বাংলাদেশের বিশাল জনগোষ্ঠীকে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনমিতিক সুবিধা কাজে লাগিয়ে দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তর করা হচ্ছে, যা জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে অবদান রাখছে।
    ৩. মাথাপিছু আয়ের উন্নয়ন: কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্বে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির বিষয়টি মুখ্য। বাংলাদেশে পর্যাপ্ত জনসংখ্যা থাকার কারণে শিল্প ও সেবা খাতের দ্রুত বিকাশ ঘটছে এবং মাথাপিছু আয় ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

    অতএব, ম্যালথাসের নিরাশাবাদী তত্ত্বের চেয়ে আধুনিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির দিক থেকে কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্বটি বাংলাদেশের জন্য অধিক উপযোগী ও কার্যকর।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন