‍ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

১৪৯২ সালে ক্রিস্টোফার কলম্বাস আমেরিকা আবিষ্কার করেন। এটি সমগ্র ইউরোপে আলোড়ন সৃষ্টি করে। কলম্বাসের আবিষ্কৃত জলপথ ধরে ইউরোপের জাতিসমূহ আমেরিকায় পাড়ি জমাতে থাকে। আমেরিকা তাদের জন্য বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করে।

  1. ক)

    পর্তুগীজরা বাংলায় কী নামে পরিচিত ?

    (1)
  2. খ)

    দেওয়ানী বলতে কী বোঝায় ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন নাবিকের মিল রয়েছে ? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    “উক্ত জাতিগুলোর আগমনই ভারতের পরাধীনতার মূল কারণ”—সপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পর্তুগিজরা বাংলায় 'ফিরিঙ্গি' নামে পরিচিত ছিল।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দেওয়ানি বলতে নির্দিষ্ট কোনো প্রদেশ বা অঞ্চলের রাজস্ব বা খাজনা আদায় এবং সংশ্লিষ্ট দেওয়ানি বিচার পরিচালনার সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক অধিকারকে বোঝায়। ১৭৬৫ সালে মোঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে বাংলা, বিহার ও ওড়িশার দেওয়ানি সনদ প্রদান করেন, যার মাধ্যমে কোম্পানি বিপুল আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতার অধিকারী হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের ঘটনার সাথে পাঠ্যবইয়ের পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো দা গামার ভারতবর্ষে আসার জলপথ আবিষ্কারের মিল রয়েছে।

    ১৪৯৮ সালে ভাস্কো দা গামা আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ প্রদক্ষিণ করে ভারতের কালিকট বন্দরে পৌঁছান। কলম্বাস যেমন ইউরোপীয়দের জন্য আমেরিকার দ্বার উন্মোচন করেছিলেন, তেমনি ভাস্কো দা গামার এই জলপথ আবিষ্কারের ফলে ইউরোপীয় বিভিন্ন জাতি যেমন—পর্তুগিজ, ওলন্দাজ, ইংরেজ ও ফরাসিদের ভারতবর্ষে আসার পথ সুগম হয়। উভয় ঘটনাই সমুদ্রপথে নতুন বাণিজ্যিক দিগন্ত উন্মোচন করে ইউরোপীয় বণিকদের উপনিবেশ স্থাপনের পথ প্রশস্ত করেছিল।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ইউরোপীয় জাতিসমূহের বাণিজ্য উপলক্ষে আগমনই কালক্রমে ভারতের পরাধীনতার মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

    জলপথ আবিষ্কারের পর পর্তুগিজ, ওলন্দাজ, ফরাসি এবং সবশেষে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ভারতে আগমন করে। শুরুতে এদের লক্ষ্য শুধু ব্যবসা-বাণিজ্য হলেও ধীরে ধীরে তারা ভারতীয় উপমহাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দুর্বলতা, পারস্পরিক অনৈক্য ও অন্তর্দ্বন্দ্বকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে।

    বাণিজ্যিক কুঠি স্থাপন ও নিরাপত্তার অজুহাতে তারা সৈন্যদল গড়ে তোলে। পরবর্তীকালে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধ এবং ১৭৬৪ সালের বক্সারের যুদ্ধে বিজয়ী হয়ে বাংলা তথা ভারতের সার্বভৌমত্ব কেড়ে নেয়। ১৭৬৫ সালে দেওয়ানি লাভের মাধ্যমে তারা অর্থনৈতিক ক্ষমতা কুক্ষিগত করে এবং অবশেষে ১৮৫৮ সালে সরাসরি ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের অধীন করে ভারতবর্ষকে প্রায় দুইশত বছরের জন্য পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে।

    সুতরাং, ইউরোপীয় বণিক জাতিগুলোর আগমনই চূড়ান্তভাবে ভারতবর্ষের স্বাধীনতা হরণ ও দীর্ঘ পরাধীনতার কারণ হয়েছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন