হিন্দু ধর্ম • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

অর্ক রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। একদিন এক যাত্রী ভুলবশত তার রিক্সায় টাকার ব্যাগ ফেলে যান। অর্ক ব্যাগটি খুলে দেখে, তাতে অনেক টাকা রয়েছে। সে ব্যাগটি থানায় জমা দিতে চাইলে 'খ' নামক তার এক বন্ধু নিষেধ করে। সে টাকাগুলো নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার কথা বলে। কিন্তু অর্ক তার কথায় কান না দিয়ে ব্যাগটি থানায় জমা দেয়। ব্যাগটির মালিক থানা থেকে ব্যাগটি নেওয়ার সময় অর্কর সাথে দেখা করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাকে পঞ্চাশ হাজার টাকা পুরস্কার দেন।

  1. ক)

    ধর্মের বাহ্য লক্ষণ কয়টি?

    (1)
  2. খ)

    হিরণ্যকশিপু প্রহ্লাদকে মেরে ফেলতে চেয়েছিলেন কেন?

    (2)
  3. গ)

    'খ' চরিত্রটি পাঠের কোন চরিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    অর্কর কাজটি পাঠের কাঠুরিয়ার কাজের আলোকে মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ধর্মের বাহ্য লক্ষণ দশটি।

  2. খ)

    হিরণ্যকশিপু ছিলেন দৈত্যদের রাজা ও হরিবিদ্বেষী। তাঁর পুত্র প্রহ্লাদ ছিলেন শ্রীহরির ভক্ত। তিনি পার্থিব কিছুই চাইতেন না, শ্রীহরির আশ্রয়েই আনন্দ পেতেন। শত চেষ্টাতেও প্রহ্লাদের হরিভক্তি পরিবর্তন করা যায়নি। রাজা তাঁকে শত্রুর পূজারি ও আদেশ অমান্যকারী মনে করেন, তাই তাঁকে মেরে ফেলতে চেয়েছিলেন।

  3. গ)

    'খ' চরিত্রটি পাঠের গরিব কাঠুরিয়ার সততা উপাখ্যানের মোড়ল চরিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। দুজনের মধ্যেই লোভ ও অসততা প্রকাশ পেয়েছে।

    পাঠ্যবইয়ে বলা হয়েছে, গরিব কাঠুরিয়া সততার কারণে জলদেবীর কাছ থেকে সোনা ও রুপার কুঠার পুরস্কার পান। তাঁর হঠাৎ ধনী হওয়া দেখে গ্রামের মোড়ল লোভে পড়েন। তিনি ইচ্ছে করে নিজের লোহার কুঠার নদীতে ফেলে দেন। জলদেবী সোনার কুঠার দেখালে লোভে চকচক করে ওঠে তাঁর চোখ। তিনি মিথ্যা করে বলেন, এটাই তাঁর কুঠার। ফলে জলদেবী রেগে গিয়ে সোনার কুঠার নিয়ে ডুব দেন এবং মোড়ল শূন্য হাতে ফিরে যান।

    উদ্দীপকে অর্ক টাকার ব্যাগ থানায় জমা দিতে চাইলে তার বন্ধু 'খ' নিষেধ করে। সে টাকাগুলো নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিতে বলে। অর্থাৎ পরের সম্পদ আত্মসাৎ করার লোভ 'খ'-এর মধ্যে কাজ করেছে। মোড়লও অন্যায়ভাবে সোনার কুঠার পেতে চেয়েছিলেন। দুজনেই লোভের বশবর্তী হয়ে অসৎ পথ বেছে নিয়েছে।

    সুতরাং লোভী ও অসৎ মনোভাবের কারণে 'খ' চরিত্রটি মোড়লের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    অর্কর কাজটি পাঠের কাঠুরিয়ার কাজের আলোকে সম্পূর্ণ প্রশংসনীয় ও ধর্মসম্মত। দুজনেই লোভ জয় করে সততাকে বেছে নিয়েছে। পাঠ্যবইয়ের মূল শিক্ষা হলো, 'সততাই উৎকৃষ্ট পন্থা'।

    পাঠ্যবই অনুযায়ী গরিব কাঠুরিয়ার কুঠার নদীতে পড়ে গেলে জলদেবী সোনা ও রুপার কুঠার দেখান। দারিদ্র্য সত্ত্বেও তিনি সেগুলো নিজের বলে দাবি করেননি। কারণ তাতে ধর্ম নষ্ট হতো, তিনি অসৎ হয়ে যেতেন। সততার পুরস্কার হিসেবে জলদেবী তাঁকে সোনা ও রুপার কুঠারও দিয়ে দেন।

    ১. লোভ জয় : অর্ক রিক্সাচালক, অর্থাৎ গরিব মানুষ। ব্যাগে অনেক টাকা দেখেও সে লোভ করেনি। কাঠুরিয়াও দারিদ্র্যের মধ্যে সোনার কুঠারের লোভ সামলেছেন। উভয়ের আচরণে ধর্মের বাহ্য লক্ষণ অস্তেয় (চুরি না করা) ও সত্যের প্রকাশ ঘটেছে।

    ২. অসৎ প্ররোচনা উপেক্ষা : বন্ধু 'খ' টাকা ভাগ করে নেওয়ার প্ররোচনা দিলেও অর্ক তা শোনেনি। কাঠুরিয়ার ঘটনায় মোড়লও লোভে পড়ে মিথ্যা বলেছিলেন, যার পরিণতি ভালো হয়নি। অর্ক মোড়লের পথে যায়নি, কাঠুরিয়ার পথেই চলেছে।

    ৩. সততার পুরস্কার : কাঠুরিয়া সোনা ও রুপার কুঠার পেয়ে ধনী হন। অর্কও ব্যাগের মালিকের কৃতজ্ঞতা ও পঞ্চাশ হাজার টাকা পুরস্কার পায়। এতে প্রমাণিত হয়, ধর্মই ধার্মিককে রক্ষা করে এবং সততার ফল শুভ হয়।

    ৪. সামাজিক গুরুত্ব : সৎ মানুষ সমাজে বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা অর্জন করে। অর্কর কাজ সমাজে সততার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

    সুতরাং অর্কর কাজ কাঠুরিয়ার সততারই প্রতিফলন। এটি নৈতিক মূল্যবোধ ও ধর্মপথের সঠিক অনুসরণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন