ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব মনির তার ব্যক্তিগত মোটর সাইকেল ২২ লক্ষ টাকায় বিমা করেন। হঠাৎ দুর্ঘটনায় মোটর সাইকেলটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মনির সাহেব বিমাদাবি পেশ করলে বিমা কোম্পানি তাকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করে। ক্ষতিগ্রস্ত যন্ত্রাংশ ৫০০০৫০০০ টাকার বিনিময়ে একজন ব্যবসায়ী কিনে নেয়। যন্ত্রাংশ বিক্রয় থেকে প্রাপ্ত অর্থ মনির দাবি করলে বিমা কোম্পানি পরিশোধে অস্বীকৃতি জানায়।
- ক)(1)
আর্থিক ঝুঁকি কী?
- খ)(2)
বিমা চুক্তিকে পরম বিশ্বাসের চুক্তি বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন নীতির আওতায় জনাব মনির বিমা কোম্পানির কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
বিমা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক জনাব মনিরের সর্বশেষ দাবি পূরণ না করার যৌক্তিকতা মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে ঝুঁকি বা অনিশ্চয়তার সম্ভাব্য ক্ষতিকে প্রত্যক্ষভাবে অর্থের অঙ্কে পরিমাপ করা যায়, তাকে আর্থিক ঝুঁকি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিমা চুক্তি হলো একটি পরম সদ্বিশ্বাসের চুক্তি। কারণ এই চুক্তির ক্ষেত্রে বিমাগ্রহীতা ও বিমাকারী উভয় পক্ষকেই বিমাযোগ্য বিষয়বস্তু সম্পর্কিত সব ধরনের বস্তুনিষ্ঠ ও প্রয়োজনীয় তথ্য সততার সাথে একে অপরের নিকট প্রকাশ করতে হয়। কোনো পক্ষ তথ্য গোপন বা মিথ্যা তথ্য দিলে চুক্তিটি বাতিল বলে গণ্য হয়। তাই পারস্পরিক এই সর্বোচ্চ আস্থার ওপর ভিত্তি করে গঠিত হয় বলে বিমা চুক্তিকে পরম বিশ্বাসের চুক্তি বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ক্ষতিপূরণের নীতির (Principle of Indemnity) আওতায় জনাব মনির বিমা কোম্পানির কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন।
ক্ষতিপূরণের নীতি অনুযায়ী, বিমা চুক্তির উদ্দেশ্য হলো কোনো ক্ষয়ক্ষতি হলে বিমাগ্রহীতাকে দুর্ঘটনার পূর্ববর্তী আর্থিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা, বিমা হতে কোনো প্রকার অতিরিক্ত লাভ বা মুনাফা অর্জনের সুযোগ দেওয়া নয় (জীবন বিমা ব্যতীত সকল সাধারণ বিমায় এটি প্রযোজ্য)।
উদ্দীপকে জনাব মনির তার ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল বিমা করার পর দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিমা কোম্পানিকে বিমাদাবি পেশ করেন। বিমা কোম্পানি তার ক্ষতি নিরূপণ করে ক্ষতিপূরণ প্রদান করে। এতে ক্ষতিপূরণের নীতি বাস্তবায়িত হয়েছে, কারণ বিমা কোম্পানি কেবল তার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে দিয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিমা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক জনাব মনিরের সর্বশেষ দাবি (ক্ষতিগ্রস্ত যন্ত্রাংশ বিক্রয়ের অর্থ) পূরণ না করার সিদ্ধান্তটি বিমার 'স্থলাভিষিক্তকরণের নীতি' (Doctrine of Subrogation) অনুযায়ী সম্পূর্ণ যৌক্তিক।
স্থলাভিষিক্তকরণের নীতি অনুযায়ী, বিমাকারী বা বিমা কোম্পানি কোনো বিমাকৃত বিষয়বস্তুর সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ বিমাগ্রহীতাকে পরিশোধ করে দিলে উক্ত ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তির অবশিষ্টাংশ বা উদ্ধারকৃত অংশের মালিকানা বিমা কোম্পানির নিকট বর্তায়। বিমাগ্রহীতা পূর্ণ ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত পণ্যের ভগ্নাংশ বা উদ্ধারকৃত অংশের ওপর আর কোনো অধিকার দাবি করতে পারেন না। কারণ তা পেলে বিমাগ্রহীতা অতিরিক্ত সুবিধা বা লাভবান হবেন, যা ক্ষতিপূরণের নীতির পরিপন্থী।
উদ্দীপকে বিমা কোম্পানি জনাব মনিরের মোটরসাইকেলের ক্ষতিপূরণ বাবদ পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করেছে। পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্ত যন্ত্রাংশ ৫,০০০ টাকায় বিক্রি করা হয়। জনাব মনির এই বিক্রিত অর্থ দাবি করলেও বিমা কোম্পানি তা পরিশোধে অস্বীকৃতি জানায়। যেহেতু বিমা কোম্পানি ইতিমধ্যে ক্ষতিপূরণ দিয়ে দিয়েছে, সেহেতু উদ্ধারকৃত যন্ত্রাংশের স্বত্বাধিকারী বিমা কোম্পানি নিজেই। ফলে জনাব মনিরের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বিমা কোম্পানি আইনসংগত ও যৌক্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও