ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২১

ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং প্রশ্ন

জনাব রহমান একজন চাকরিজীবী। দৈনন্দিন চাহিদা মিটিয়ে তিনি প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা বন্ধু ব্যাংকে জমা রাখেন। বেশ কিছুদিন চাকরি করার পর তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন চাকরি ছেড়ে জমানো টাকা দিয়ে প্রয়োজনে বন্ধু ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসায় শুরু করবেন। সিদ্ধান্ত অনুসারে উক্ত ব্যাংকের কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবসায় শুরু করলেন। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তার অর্থনৈতিক সচ্ছলতা আসতে শুরু করল।

  1. ক)

    সবচেয়ে নিরাপদ চেক কোনটি?

    (1)
  2. খ)

    বিনিময় বিল বাট্টাকরণ বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    বন্ধু ব্যাংক কীভাবে জনাব রহমানকে ব্যবসায়ে সাহায্য করল? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    জনাব 'রহমান'-এর আর্থিক সচ্ছলতার পেছনে বন্ধু ব্যাংকের ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (বাংলাদেশ ব্যাংকের) ব্যবস্থাপনা প্রধান হলেন গভর্নর।

  2. খ)

    নিকাশ ঘর (Clearing House) হলো এমন ব্যবস্থা, যেখানে বিভিন্ন ব্যাংক একে অপরের ওপর প্রাপ্য চেক বা বিলের দাবি একসঙ্গে বিনিময় করে এবং পারস্পরিক লেনদেন সমন্বয় করে।

    এতে নগদ অর্থের লেনদেন ছাড়াই কেবল পাওনা-দেনার পার্থক্য নিষ্পত্তি করলেই চলে। বাংলাদেশে বাংলাদেশ ব্যাংক নিকাশ ঘরের দায়িত্ব পালন করে। এতে ব্যাংকগুলোর কাজ সহজ ও দ্রুত হয়।

  3. গ)

    উদ্দীপকের 'ক' ব্যাংকটি বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (বাংলাদেশ ব্যাংক)। বাণিজ্যিক ব্যাংকের সঙ্গে এর সম্পর্ক হলো অভিভাবক ও নিয়ন্ত্রণকারীর।

    ১. ব্যাংকের ব্যাংক: কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর নগদ জমা (রিজার্ভ) সংরক্ষণ করে এবং প্রয়োজনে তাদের ঋণ দেয়। তাই একে ব্যাংকের ব্যাংক এবং শেষ আশ্রয়স্থল (Lender of Last Resort) বলা হয়।
    ২. নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধান: এটি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর লাইসেন্স দেয়, নীতিমালা তৈরি করে ও কার্যক্রম তদারক করে।
    ৩. সহযোগিতা: নিকাশ ঘরের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর লেনদেন নিষ্পত্তি করে এবং নতুন ব্যাংকিং সেবা উদ্ভাবনে সহায়তা করে।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকের 'ক' ব্যাংক অর্থাৎ কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থনৈতিক উন্নয়নে অনেক অবদান রাখে।

    ১. নোট ইস্যু ও মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ: দেশে একমাত্র নোট প্রচলনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে মুদ্রার জোগান ও মূল্যস্তর নিয়ন্ত্রণ করে।
    ২. ঋণ নিয়ন্ত্রণ: ব্যাংক হার, নগদ জমার অনুপাত ইত্যাদির মাধ্যমে ঋণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে মুদ্রাস্ফীতি ও মন্দা রোধ করে।
    ৩. সরকারের ব্যাংক ও উপদেষ্টা: সরকারের হিসাব রাখে, ঋণ দেয় এবং আর্থিক নীতি নিয়ে পরামর্শ দেয়।
    ৪. বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা: বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংরক্ষণ ও বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সহায়তা করে।
    ৫. নতুন সেবা উদ্ভাবন: ক্ষুদ্রঋণ, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে উৎসাহ দিয়ে মানুষের জীবনমান উন্নত করে।

    সুতরাং, আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর মাধ্যমে 'ক' ব্যাংক দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন