হিন্দু ধর্ম • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৪
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
সৌগত রায় একজন স্বনামধন্য ডাক্তার। প্রতিবেশী মিতালি সবেমাত্র এমএ পাশ করে চাকরির জন্য পরীক্ষা দিচ্ছে। মিতালির বাবা উপযুক্ত বয়সে মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার জন্য পাত্র খুঁজছেন। বিয়ের সম্বন্ধ নিয়ে গেলে পাত্রপক্ষ অনেক টাকা যৌতুক দাবি করলে দরিদ্র পিতার পক্ষে তা সম্ভব না হওয়ায় বিয়ে ভেঙে যায়। এমতাবস্থায় সৌগত রায় বিনা পণে মিতালিকে বিবাহ করে। সৌগত রায় মনে করে, 'যৌতুক একটি সামাজিক অপরাধ'।
- ক)(1)
পুরকপিণ্ড কাকে বলে?
- খ)(2)
সমাবর্তন অনুষ্ঠান করা হয় কেন?
- গ)(3)
সৌগত রায় এবং মিতালির বিবাহ অনুষ্ঠানের পর্বসমূহ বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
'যৌতুক একটি সামাজিক অপরাধ'- সৌগত রায়ের উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
পিতা-মাতার মৃত্যুর পর চতুর্থ ও দশম দিনে যে পিণ্ড দান করতে হয়, তাকে পুরকপিণ্ড বলে। এর সংখ্যা মোট দশটি।
- খ)
পাঠ শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা গুরুগৃহ থেকে নিজগৃহে ফিরে আসার সময় সমাবর্তন অনুষ্ঠান করা হয়। এটি ছাত্রজীবন সমাপ্তির মাঙ্গলিক সংস্কার। এ অনুষ্ঠানে শিক্ষক বা গুরু শিক্ষার্থীকে অনেক মূল্যবান উপদেশ দেন, যা শিক্ষার্থীকে পরবর্তী জীবনে সৎপথে চলতে সাহায্য করে।
- গ)
সৌগত রায় ও মিতালির বিবাহ একটি হিন্দু সংস্কার। এ অনুষ্ঠানের পর্বগুলো পাঠ্যবইয়ের আলোকে নিচে বর্ণনা করা হলো।
বিবাহের পর্বসমূহ: আশীর্বাদ, অধিবাস, বৃদ্ধিশ্রাদ্ধ, গায়ে হলুদ, বর-বরণ, শুভদৃষ্টি, মালাবদল, সম্প্রদান, যজ্ঞানুষ্ঠান ও সাতপাকে বাঁধা, সিঁথিতে বিবাহ চিহ্ন, সপ্তপদীগমন, বাসি বিয়ে, অষ্টমঙ্গলা প্রভৃতি। এর কিছু পর্ব শাস্ত্রীয়, কিছু অঞ্চলভেদে লোকাচার।
১. বৃদ্ধিশ্রাদ্ধ: বিবাহের দিন বা আগের দিন উভয় পক্ষ নিজ নিজ ঘরে পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে আশীর্বাদ কামনা করে।
২. গায়ে হলুদ: বর-কনের নিজ নিজ বাড়িতে হলুদ মাখানো হয়। এটি দেহশুদ্ধির অনুষ্ঠান; এর মাধ্যমে বিবাহের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
৩. মালাবদল: বর-কনে পরস্পরের গলায় পর পর তিনবার মালা পরিয়ে দেয়।
৪. সম্প্রদান: এটি বিবাহের মূল পর্ব। বর-কনে মুখোমুখি বসে; বরের হাতের উপর কনের হাত রেখে ফল, কুশপত্র ও ফুলের মালা দিয়ে বেঁধে সম্প্রদানকর্তা মন্ত্র উচ্চারণ করে কন্যা সম্প্রদান করেন।
৫. যজ্ঞানুষ্ঠান ও সাতপাক: যজ্ঞক্ষেত্রে অগ্নিকে সাতবার প্রদক্ষিণ করে নবদম্পতি আমৃত্যু বাঁধা পড়ে।
৬. সিঁথিতে সিঁদুর: সম্প্রদান ও যজ্ঞের পর বর কনের সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে বিবাহ চিহ্ন দেয়।উদ্দীপকে সৌগত রায় ও মিতালির বিবাহও এই পর্বগুলো অনুসরণ করেই সম্পন্ন হবে—এটাই শাস্ত্রসম্মত।
- ঘ)
'যৌতুক একটি সামাজিক অপরাধ'—সৌগত রায়ের এই উক্তি সম্পূর্ণ যথার্থ।
পণপ্রথার ধারণা: কন্যাকে পাত্রস্থ করার সময় বরপক্ষকে যদি নগদ অর্থ বা সম্পদ দিতে হয়, তাকে পণ বা যৌতুক বলে। পাঠ্যবইয়ে পণপ্রথাকে সামাজিক ব্যাধি ও অধর্ম বলা হয়েছে। পণ গ্রহণ ও প্রদান দুটিই সমান অপরাধ।
১. অধর্ম ও অপরাধ: বর্তমান সমাজব্যবস্থায় যৌতুক নিন্দনীয় এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ। উদ্দীপকে পাত্রপক্ষ অনেক টাকা যৌতুক চাওয়ায় মিতালির বিয়ে ভেঙে যায়, যা এই প্রথার ক্ষতিকর দিকটি স্পষ্ট করে।
২. কন্যার পরিবারের উপর অন্যায় চাপ: দরিদ্র পিতা যৌতুক দিতে অক্ষম হওয়ায় শিক্ষিত মেয়ে মিতালিকেও বিয়ের সুযোগ হারাতে হয়েছে। এতে কন্যার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয় এবং পরিবার মানসিক ও আর্থিক সংকটে পড়ে।
৩. কারণ ও প্রতিকার: এর মূলে রয়েছে অশিক্ষা, অসচেতনতা ও পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা। প্রতিরোধে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন, সামাজিক প্রতিরোধ, নারীকে শিক্ষিত ও সচেতন করে যথাযোগ্য মর্যাদা দান এবং পণবিরোধী আইনের কঠোর প্রয়োগ প্রয়োজন।
৪. আদর্শ দৃষ্টান্ত: স্বনামধন্য ডাক্তার সৌগত রায় বিনা পণে মিতালিকে বিয়ে করে সমাজকে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন।
সুতরাং, যৌতুক ধর্মীয়ভাবে অধর্ম, আইনে অপরাধ এবং সমাজের জন্য ক্ষতিকর; তাই সৌগত রায়ের উক্তি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও