সহপাঠ • নাটক: সিরাজউদ্দৌলা • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২২
সহপাঠ প্রশ্ন
আত্মদ্বন্ধে পরাভূত মানবাত্মার সকরুণ বেদনা ও সুকঠোর পীড়নের চিত্র যে নাটকে উদঘাটিতহয় তাকে ট্র্যাজেডি বলে। ট্র্যাজেডি নাটকে নায়কের নিঃসীম দুঃখ ভোগ ও নিদারুণ বেদনাপ্রাণকে বিমথিত করে তোলে। ট্র্যাজেডিতে মৃত্যু অনিবার্য নয়। নায়কের পরাজিত জীবনমৃত্যুর চেয়েও অধিকতর সকরুণ। প্রতিকূল অবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই করতে করতে শেষ পর্যন্তনায়ক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। নিঃশেষ হয়ে পড়ে তার অনমনীয়ক্তি।
- ক)(1)
নকল দলিল দেখিয়ে কাকে ঠকানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল?
- খ)(2)
“তোমার ক্ষমতা ধ্বংস হবে, সিরাজ।”- কে, কাকে এবং কেন এ উক্তিটি করেছিল?
- গ)(3)
উদ্দীপকের প্রতিকূল অবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের প্রেক্ষাপটে কতটুকু সাদৃশ্য বহন করে? আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের সিরাজ চরিত্রের করুণ পরিণতি আলোচনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নকল দলিল দেখিয়ে উমিচাঁদকে ঠকানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটি ঘসেটি বেগম নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে উদ্দেশ্য করে করেছিল।
ঘসেটি বেগম নবাব সিরাজউদ্দৌলার বড় খালা ছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন তাঁর পালিত পুত্র শওকতজঙ্গ বাংলার নবাব হোক, যাতে ক্ষমতার কলকাঠি তিনি নাড়তে পারেন। কিন্তু সিরাজ নবাব হওয়ায় ঘসেটি বেগমের সেই রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ধূলিসাৎ হয়ে যায়। সিরাজ মতিঝিল প্রাসাদ দখল করে ঘসেটি বেগমকে নজরবন্দি রাখায় ঘসেটি বেগম নবাবের ওপর চরম ক্ষুব্ধ ও প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ওঠেন। সেই তীব্র আক্রোশ ও প্রতিহিংসা থেকেই তিনি সিরাজকে ক্ষমতার ধ্বংসের এই অভিশাপ দিয়েছিলেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিকূল অবস্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বিষয়টি ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের প্রধান চরিত্র নবাব সিরাজউদ্দৌলার সংগ্রামের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ট্র্যাজেডি নাটকে নায়ক প্রতিকূল অবস্থার বিরুদ্ধে অনমনীয় শক্তি নিয়ে লড়াই করতে করতে মৃত্যুর মুখে পতিত হন। ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলাও চারপাশের অসংখ্য প্রতিকূলতা ও ষড়যন্ত্রের মধ্যে দাঁড়িয়ে লড়াই চালিয়ে যান। একাধারে ধূর্ত ও আগ্রাসী ইংরেজ শক্তি, অন্যদিকে ঘরের শত্রু ঘসেটি বেগম, মীরজাফর, রায়দুর্লভ, জগৎশেঠ প্রমুখের বিশ্বাসঘাতকতায় নবাব চতুর্দিক থেকে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
এত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সিরাজউদ্দৌলা হাল ছাড়েননি। তিনি ইংরেজদের কাশিমবাজার কুঠি দখল করেন, কলকাতা থেকে বিতাড়িত করেন এবং শেষ পর্যন্ত পলাশীর প্রান্তরে নিজের সর্বশক্তি দিয়ে দেশ রক্ষার লড়াই করেছেন। এমনকি পরাজয়ের পরও তিনি নতুন করে সেনাবাহিনী গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন। সুতরাং, প্রতিকূল পরিবেশ ও পরিস্থিতির বিরুদ্ধে অনমনীয় লড়াইয়ের যে ট্র্যাজিক চিত্র উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে, তা ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের প্রেক্ষাপটের সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ট্র্যাজেডির সংজ্ঞার আলোকে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের সিরাজ চরিত্রটি একটি ধ্রুপদী ট্র্যাজিক নায়কের করুণ পরিণতি বহন করে।
উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ট্র্যাজেডিতে আত্মদ্বন্দ্বে ও সুকঠোর পীড়নে পরাভূত নায়কের সকরুণ বেদনা প্রাণকে বিমথিত করে এবং নায়কের পরাজিত জীবন মৃত্যুর চেয়েও অধিকতর করুণ হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে প্রতিকূল অবস্থার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে করতে নায়ক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরিণতি হুবহু ট্র্যাজেডির এই ধারণাকেই মূর্ত করে তোলে। সিংহাসনে আরোহণের পর থেকেই নবাবকে স্বজনদের ঈর্ষা, সভাসদদের লোভ ও মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার নিদারুণ মানসিক যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়েছে। দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য তিনি মীরজাফরের মতো বেইমানের কাছে গিয়েও কাতর কণ্ঠে আবেদন জানিয়েছেন, যা তাঁর নিঃসীম বেদনা ও আত্মদ্বন্দ্বে ক্ষতবিক্ষত মনের পরিচয় দেয়। পলাশীর যুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গের কারণে পরাজয়বরণের পর নবাবের জীবন ছিল মৃত্যুর চেয়েও যন্ত্রণাদায়ক। রাজ্যহীন, ক্ষমতাহীন নবাব পরিবারসহ পালিয়ে যাওয়ার সময় দীনবেশে বন্দি হন।
পরিশেষে, কারাগারে নির্মমভাবে মোহাম্মদি বেগের ছুরিকাঘাতে সিরাজকে প্রাণ দিতে হয়। তাঁর মৃত্যুর সাথে সাথে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়। একজন আদর্শবান, দেশপ্রেমিক শাসকের এমন অসহায় ও মর্মান্তিক পতন দর্শকের মনে গভীর শোকের সৃষ্টি করে। অতএব, উদ্দীপকের ধারণার সাথে সিরাজউদ্দৌলার এই করুণ পরিণতি যথার্থ অর্থেই এক মহাকাব্যিক ট্র্যাজেডিকে প্রকাশ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও