সহপাঠ • নাটক: সিরাজউদ্দৌলা • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২২

সহপাঠ প্রশ্ন

‘এ.আর.’ একটি স্বনামধন্য শিল্প প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানের সভাপতির পদ প্রাপ্তির লোভ করা মানুষের সংখ্যা কম না। ফেরদৌস মিঞা নামে এক ব্যক্তি কর্তৃপক্ষের সাথে গোপনে হাত মিলিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ দিয়ে ‘এ.আর.’ প্রতিষ্ঠানের সভাপতির পদ লাভ করেন। কিন্তু একান্তে যখন থাকেন, তখন নিজের মনকে নিজেই প্রশ্নবিদ্ধ করে বসেন ‘আমি কি এ পদের জন্য যোগ্য!’

  1. ক)

    নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে বন্দি করে কোথায় রাখা হয়?

    (1)
  2. খ)

    “ভীরু প্রতারকের দল চিরকালই পালায়।”-ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ফেরদৌস মিঞার মনোভাবের সাথে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের কোন চরিত্রের মনোভাবের সাদৃশ্য পাওয়া যায় এবং তা কীভাবে? বিচার কর।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের বিষয়বস্তুর আংশিক প্রতিফলন ঘটেছে।- তোমার মতামত ব্যক্ত কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে বন্দি করে মীরজাফরের পুত্র মিরনের জাফরাগঞ্জের প্রাসাদে (বা বন্দিশালায়) রাখা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “ভীরু প্রতারকের দল চিরকালই পালায়।”—উক্তিটি দ্বারা ক্লাইভ পলাশীর প্রান্তরে মীরজাফরদের বিশ্বাসঘাতকতা এবং যুদ্ধের ময়দান থেকে নবাবপক্ষের নৈতিকতাহীন পলাতকদের কাপুরুষতাকে নির্দেশ করেছেন।

    পলাশীর যুদ্ধে মীর মদন ও মোহনলালের মতো দেশপ্রেমিক যোদ্ধারা যখন প্রাণপণ লড়াই করছিলেন, তখন মীরজাফরদের মতো বিশ্বাসঘাতকেরা নিষ্ক্রিয় থেকে নবাবের পরাজয় নিশ্চিত করে। যুদ্ধ শেষে স্বার্থান্বেষী ও ষড়যন্ত্রকারী ব্যক্তিরা নবাবের দুর্দিনে নিজেদের রক্ষা করতে পালিয়ে যায়। তাদের এই কাপুরুষোচিত আচরণকে ব্যঙ্গ করেই রবার্ট ক্লাইভ এ মন্তব্যটি করেছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ফেরদৌস মিঞার মনোভাবের সাথে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের মীরজাফর চরিত্রের মনোভাবের সাদৃশ্য পাওয়া যায়।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, ফেরদৌস মিঞা অসদুপায়ে এবং ঘুষ দিয়ে একটি প্রতিষ্ঠানের সভাপতির পদ লাভ করেন। কিন্তু পদ পাওয়ার পর একাকী সময়ে তাঁর মনে অপরাধবোধ ও নিজের যোগ্যতা নিয়ে সংশয় দেখা দেয়।

    ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে মীরজাফর একইভাবে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাথে চরম বিশ্বাসঘাতকতা ও ইংরেজদের সঙ্গে গোপন আঁতাত করে বাংলার মসনদ লাভ করেন। কিন্তু মসনদে বসার পর তিনি বুঝতে পারেন তিনি আসলে ইংরেজদের হাতের পুতুল মাত্র। তিনি নিজেও একান্তে নিজের কৃতকর্ম ও অযোগ্যতার গ্লানিতে ভুগেছিলেন এবং নিজের বিবেকের কাছে দংশিত হয়েছিলেন। ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা লাভ এবং পরবর্তী সময়ে অন্তর্দহনে ভোগার মানসিকতার দিক থেকেই ফেরদৌস মিঞার সাথে মীরজাফরের সাদৃশ্য স্পষ্ট।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “উদ্দীপকে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের বিষয়বস্তুর আংশিক প্রতিফলন ঘটেছে।”—মন্তব্যটি যথার্থ।

    উদ্দীপকে কেবল অনৈতিক পন্থায় পদ দখল এবং পরবর্তী সময়ে ব্যক্তির আত্মদংশন ও অপরাধবোধের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে, যা নাটকের কেবল মীরজাফর চরিত্রের মানসিকতার একটি বিশেষ দিকের সাথে মিলে যায়।

    পক্ষান্তরে, সিকান্দার আবু জাফর রচিত ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকটির পটভূমি সুদূরপ্রসারী ও বহুবিস্তৃত। এতে রয়েছে ব্রিটিশ বেনিয়াদের আগ্রাসন, তৎকালীন বাংলার রাজনৈতিক সংকট, নবাব সিরাজউদ্দৌলার দেশপ্রেম ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার আপসহীন সংগ্রাম, ঘসেটি বেগম ও রাজবল্লভ-উমিচাঁদদের ষড়যন্ত্র, মীর মদন ও মোহনলালের আত্মত্যাগ এবং পলাশীর বিয়োগান্তক ইতিহাস।

    সুতরাং দেখা যায়, নাটকের বিশাল ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, দেশপ্রেম এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিণতির তুলনায় উদ্দীপকে কেবল অসদুপায়ে পদপ্রাপ্তি ও বিবেকদংশনের ক্ষুদ্র অংশটুকুই স্থান পেয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের সমগ্র ভাব নয়, বরং একটি আংশিক দিকের প্রতিফলন ঘটেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন