হিন্দু ধর্ম • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৪
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
মিতুলের বাবা ধীমান বাবু চিকিৎসা সম্পর্কে বলতে গিয়ে এক মহান চিকিৎসকের কথা বলেন। চিকিৎসাক্ষেত্রে তিনি প্রথম মানুষের চিকিৎসা শুরু করেন। মানব দেহের পরিপাক, বিপাক ও রোগ প্রতিরোধ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দেন। এতে তার খ্যাতি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে, চয়নও ছিলেন একজন মহান চিকিৎসক, যিনি কাটাছেঁড়া বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন। ঔষধি গাছ-গাছড়ার মাধ্যমে মানুষের চিকিৎসা দিতেন। তিনি ভেষজবিদ্যার ওপর চিকিৎসা সংক্রান্ত গ্রন্থ রচনা করেন।
- ক)(1)
পূর্ণাবতার কাকে বলে?
- খ)(2)
ভগবান বিষ্ণু অবতাররূপে পৃথিবীতে আসার কারণ ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
মিতুলের বাবা যে মহান চিকিৎসকের কথা বলেছেন তাঁর অবদান পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে চয়নের মধ্যে যে মহান চিকিৎসকের আদর্শ লুকায়িত আছে তার শিক্ষার গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
ভগবান যখন পূর্ণরূপে অবতরণ করেন, তখন তাঁকে পূর্ণাবতার বলা হয়।
- খ)
জগতে যখন ধর্মের গ্লানি ও অধর্মের উত্থান ঘটে, তখন ভগবান বিষ্ণু অবতাররূপে পৃথিবীতে আসেন। পৃথিবীতে নানা সময়ে দুষ্ট লোকের জন্ম হয়, তারা মানুষের ওপর অত্যাচার করে, ফলে শিষ্টদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। তখন তিনি দুষ্টদের বিনাশ করে সাধুদের রক্ষা এবং ধর্ম সংস্থাপনের জন্য আবির্ভূত হন। গীতায় তিনি বলেছেন, 'পরিত্রাণায় সাধূনাং বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম্। ধর্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে॥' (৪/৮)।
- গ)
ধীমান বাবু যে মহান চিকিৎসকের কথা বলেছেন, তিনি চরক। তাঁকে 'ভারতীয় চিকিৎসাশাস্ত্রের জনক' বলা হয়।
পরিচয়: চরক প্রাচীন ভারতের একজন মহান চিকিৎসক। আধুনিক গবেষকদের মতে তিনি খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০ অব্দে আবির্ভূত হন। শাস্ত্রমতে অনন্তদেব মানুষের কষ্ট দূর করার জন্য মুনিপুত্ররূপে জন্ম নেন; চরকরূপে আবির্ভূত হন বলে তাঁর নাম চরক। অল্প দিনেই তিনি সুচিকিৎসক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
অবদান:
১. তিনি আত্রেয়, অগ্নিবেশ প্রমুখ পূর্ববর্তী চিকিৎসকের গ্রন্থ সংস্কার ও সারাংশ গ্রহণ করে 'চরকসংহিতা' রচনা করেন। এটি আটটি ভাগে বিভক্ত—সূত্রস্থান, নিদানস্থান, বিমানস্থান, শারীরস্থান, ইন্দ্রিয়স্থান, চিকিৎসাস্থান, কল্পস্থান ও সিদ্ধিস্থান।
২. তিনিই প্রথম মানবদেহের পরিপাক, বিপাক ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পর্কে বলেন।
৩. শরীরের কার্যকারিতার জন্য তিনি বাত, পিত্ত ও কফ—এই তিন 'দোষ'-এর কথা বলেন; এগুলোর সামঞ্জস্য নষ্ট হলে শরীর অসুস্থ হয়, ফিরলে সুস্থ হয়। তিনি রোগ চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধকে বেশি জরুরি বলেছেন।
৪. তিনি মানবদেহে দাঁতসহ ৩৬০টি অস্থির কথা বলেছেন এবং হৃদপিণ্ডকে দেহের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র বলেছেন।উদ্দীপকের সঙ্গে সম্পর্ক: ধীমান বাবুর বর্ণিত চিকিৎসক প্রথম মানুষের চিকিৎসা শুরু করেন এবং পরিপাক, বিপাক ও রোগ প্রতিরোধ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দেন, যা চরকের অবদানের সঙ্গে মিলে যায়।
অতএব, চিকিৎসাশাস্ত্রে চরকের অবদান মানবজাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- ঘ)
উদ্দীপকের চয়নের মধ্যে মহান চিকিৎসক সুশ্রুতের আদর্শ লুকায়িত আছে। সুশ্রুতের শিক্ষা চিকিৎসাবিজ্ঞান ও মানবকল্যাণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সুশ্রুত পরিচিতি: সুশ্রুত প্রাচীন ভারতের একজন মহান চিকিৎসক, পিতা বিশ্বামিত্র মুনি। তিনি দেববৈদ্য ধন্বন্তরীর অবতার দিবোদাসের কাছে আয়ুর্বেদ শিখে 'সুশ্রুতসংহিতা' রচনা করেন। গবেষকদের মতে তিনি খ্রিষ্টপূর্ব ৬০০ অব্দে বর্তমান ছিলেন এবং বারাণসীতে গঙ্গার তীরে বাস করতেন। তিনি প্রধানত শল্যবিদ্যার চর্চা করতেন বলে তাঁকে 'ভারতীয় শল্যবিদ্যার জনক' বলা হয়। উদ্দীপকের চয়ন কাটাছেঁড়া বিদ্যা বা শল্যবিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন এবং ভেষজ বিদ্যার ওপর গ্রন্থ লিখেছেন—এ কারণে তাঁর মধ্যে সুশ্রুতের আদর্শের প্রতিফলন দেখা যায়।
১. শল্যবিদ্যায় অবদান: সুশ্রুত তাঁর গ্রন্থে শল্যবিদ্যার ৩০০ প্রকার পদ্ধতি এবং ১২০টি চিকিৎসাযন্ত্রের বর্ণনা দিয়েছেন। পাশ্চাত্যে বর্তমানে এই যন্ত্রগুলোর আধুনিকায়ন ঘটেছে। এ থেকে শেখা যায়, গবেষণা ও দক্ষতার মাধ্যমে মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব।
২. গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে জ্ঞান সংরক্ষণ: সুশ্রুতসংহিতা চারটি ভাগে বিভক্ত—সূত্রস্থান, শারীরস্থান, চিকিৎসিতস্থান ও কল্পস্থান। এতে আয়ুর্বেদের উৎপত্তি, শল্যতন্ত্র, রসায়নতন্ত্র, ঔষধ, রোগের লক্ষণ ও পথ্যাপথ্য বিস্তারিত বর্ণিত। জ্ঞান লিপিবদ্ধ করে রাখার শিক্ষা আমরা এখান থেকে পাই।
৩. বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা: আয়ুর্বেদ মতে চিকিৎসা করতে হলে সুশ্রুতসংহিতার বিশেষ জ্ঞান থাকতে হয়। আজও চিকিৎসা জগতে এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
৪. বিশ্বে প্রভাব: সুশ্রুতসংহিতা আরবি ভাষায় অনূদিত হয়ে ইউরোপে প্রচারিত হয়। ফলে অনেক ইউরোপীয় চিকিৎসক ভারতবর্ষে এসে এ বিদ্যা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেন।
সুতরাং, সুশ্রুতের আদর্শ থেকে আমরা সেবা, জ্ঞানচর্চা ও মানবকল্যাণের শিক্ষা পাই। চয়নের মতো চিকিৎসকেরা এ আদর্শ অনুসরণ করলে সমাজ উপকৃত হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও