‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

ধর্মভিত্তিক জাতীয়তার ভিত্তিতে দুটি অঞ্চল, নিয়ে একটি রাষ্ট্র গঠিত হয়। রাষ্ট্রটির শাসকগোষ্ঠী অগণতান্ত্রিক উপায়ে মাত্র ৩% জনগণের মুখের ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এর বিরুদ্ধে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভাষাভাষী জনগণ তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। শাসকগোষ্ঠীর ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ছাত্ররা মিছিল বের করলে পুলিশের গুলিতে কিছু ছাত্র শহিদ হন। পরবর্তীতে শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ভাষাকে দেশটির অন্যতম রাষ্ট্রভাষা, হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়।

  1. ক)

    BPSC এর পূর্ণরূপ কী?

    (1)
  2. খ)

    মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে মজলুম জননেতা বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে তোমার পঠিত যে আন্দোলনের ইঙ্গিত রয়েছে তার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশে উক্ত আন্দোলনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    BPSC এর পূর্ণরূপ হলো Bangladesh Public Service Commission (বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    শোষিত, বঞ্চিত, নিপীড়িত ও সাধারণ মেহনতি মানুষের পক্ষে আজীবন আপসহীন সংগ্রাম ও আন্দোলন করার কারণে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে 'মজলুম জননেতা' বলা হয়।

    তিনি আজীবন কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করেছেন। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন, পাকিস্তানি শোষণ এবং স্বাধীন বাংলাদেশেও যেকোনো অনিয়ম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি সবসময় সাধারণ ও অধিকারবঞ্চিত মানুষের পাশে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর এই আত্মত্যাগ ও দুঃখী মানুষের অধিকারের প্রতি একাত্মতার কারণেই জনগণ তাঁকে ভালোবেসে 'মজলুম জননেতা' উপাধিতে ভূষিত করেছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ১৯৫২ সালের মহান 'ভাষা আন্দোলন'-এর ইঙ্গিত রয়েছে। নিচে এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করা হলো:

    ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ধর্মকে কেন্দ্র করে ভারত বিভক্ত হয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়। পাকিস্তান সৃষ্টির শুরু থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের শোষণ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। তৎকালীন পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫৬% বাঙালি হওয়া সত্ত্বেও শাসকগোষ্ঠী মাত্র শতকরা ৩-৭ ভাগ মানুষের ভাষা উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার চক্রান্ত শুরু করে। ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ দম্ভভরে ঘোষণা দেন, "Urdu, and Urdu alone shall be the state language of Pakistan", যার তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানায় উপস্থিত ছাত্রসমাজ। এর প্রেক্ষিতে পূর্ব বাংলায় তমদ্দুন মজলিস এবং সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের মাধ্যমে আন্দোলন জোরদার হতে থাকে।

    ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন পুনরায় উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দিলে অসন্তোষ চরমে পৌঁছায়। এর প্রতিবাদে ছাত্র-জনতা ২১শে ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘট ও বিক্ষোভের ডাক দেয়। সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১৪৪ ধারা জারি করে সকল সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে। কিন্তু সচেতন ছাত্রসমাজ এই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় রাজপথে নেমে আসে, যা মহান ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপ ধারণ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশে মহান ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব অপরিসীম।

    ১৯৪৭ সালে ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে পাকিস্তান গঠিত হলেও ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমেই বাঙালিরা প্রথম বুঝতে পারে যে ধর্মীয় অভিন্নতা কোনো জাতির মুক্তি ও সাম্যের নিশ্চয়তা দিতে পারে না। এর মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রথম উন্মেষ ঘটে।

    প্রথমত, ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতিকে তাদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও স্বাতন্ত্র্যবোধ সম্পর্কে সচেতন করে তোলে। পশ্চিম পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদ ছিল মূলত বাঙালিদের আত্মপরিচয় রক্ষার লড়াই। দ্বিতীয়ত, ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি রফিক, শফিক, সালাম, বরকত, জব্বারসহ নাম না জানা শহিদদের রক্তদানের মধ্য দিয়ে যে ঐক্যের সৃষ্টি হয়, তা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল বাঙালিকে একই সূত্রে গেঁথে ফেলে এবং একটি অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক চেতনার জন্ম দেয়।

    তৃতীয়ত, ভাষা আন্দোলনের এই চেতনা পরবর্তী সময়ে প্রতিটি জাতীয় আন্দোলনে পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করে। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ছয় দফা, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চালিকাশক্তি ছিল এই ভাষা আন্দোলন থেকে উৎসারিত বাঙালি জাতীয়তাবাদ।

    পরিশেষে বলা যায়, ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার ভিত্তিপ্রস্তর, যা শেষ পর্যন্ত একটি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পূর্ণতা লাভ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন