যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৭

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

ঘটনা-১: ভূমিকম্পের কারণ জানতে চাইলে প্রভাত নাদিমকে বললো, "মাটির উপর দিয়ে যখন বসুদেবী হাঁটেন তখন ভূমিকম্প হয়।" প্রভাতের কাকু বললো, "ভূ-অভ্যন্তরীণ তাপ ও চাপ ভূপৃষ্ঠে বের হওয়ার জন্য ভূত্বকে যে কম্পনের সৃষ্টি করে তাকে ভূমিকম্প বলে।ঘটনা-২:

  1. ক)

    অন্তর্ভুক্তি কী?

    (1)
  2. খ)

    ব্যাখ্যা আপেক্ষিক হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    ঘটনা-২ এ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার কোন রূপটি প্রতিফলিত হয়েছে? বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ঘটনা-১ এ প্রতিফলিত প্রভাত ও প্রভাতের কাকুর বক্তব্যের মধ্যস্থিত পার্থক্যসমূহ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একটি অপেক্ষাকৃত কম ব্যাপক নিয়মকে যখন একটি অধিক ব্যাপক নিয়মের অধীনে এনে ব্যাখ্যা করা হয়, তখন তাকে অন্তর্ভুক্তি বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ব্যাখ্যা সবসময় আপেক্ষিক, কারণ কোনো বিষয়ের ব্যাখ্যা মানুষের জ্ঞান, মানসিক গঠন, উদ্দেশ্য ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার পরিবর্তনের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়। একই বিষয়ের ব্যাখ্যা একজন সাধারণ মানুষের কাছে যেমন সহজ ও অগভীরভাবে উপস্থাপিত হতে পারে, একজন বৈজ্ঞানিক বা বিশেষজ্ঞের কাছে তা অনেক বেশি তথ্যনির্ভর ও জটিল নিয়মের আলোকে উপস্থাপিত হয়। ফলে ব্যক্তির বোধগম্যতা ও যুগের জ্ঞানসীমার পার্থক্যের কারণে ব্যাখ্যার রূপও পরিবর্তিত হয় বলে ব্যাখ্যা আপেক্ষিক।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ঘটনা-২ এ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার 'শৃঙ্খলযোজন' (Intermixture/Concatenation of intermediate stages) রূপটি প্রতিফলিত হয়েছে।

    যুক্তিবিদ কার্ভেথ রিডের মতে, যখন কোনো দূরবর্তী কারণ ও কার্যের মধ্যকার সংযোগ স্পষ্ট থাকে না, তখন তাদের মধ্যবর্তী স্তরগুলোকে বা কার্যকারণ সম্পর্কযুক্ত ঘটনাবলিকে ধারাবাহিকভাবে যুক্ত করে কার্যটিকে ব্যাখ্যা করা হলে তাকে শৃঙ্খলযোজন বলে।

    উদ্দীপকের চিত্রে কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে 'সমুদ্রের পানি' এবং কার্য হিসেবে রয়েছে 'বৃষ্টিপাত'। সমুদ্রের পানি থেকে সরাসরি বৃষ্টিপাত হওয়ার প্রক্রিয়াটি দৃশ্যমান নয়। তাই মধ্যবর্তী স্তর হিসেবে 'বাষ্পীভূত মেঘ'-কে যুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ, সূর্যের তাপে সমুদ্রের পানি বাষ্পীভূত হয়ে মেঘ সৃষ্টি করে এবং সেই মেঘ ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়। এভাবে দূরবর্তী কারণ (সমুদ্রের পানি) এবং কার্যের (বৃষ্টিপাত) মাঝে মধ্যবর্তী স্তরটি প্রকাশ করে শৃঙ্খল গঠন করার মাধ্যমে বৃষ্টিপাতের প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সুতরাং, এটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার শৃঙ্খলযোজন রূপকে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ঘটনা-১ এ প্রভাতের বক্তব্যে 'লৌকিক ব্যাখ্যা' এবং প্রভাতের কাকুর বক্তব্যে 'বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা' প্রতিফলিত হয়েছে। এদের মধ্যকার প্রধান পার্থক্যসমূহ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. দৃষ্টিভঙ্গিগত পার্থক্য: প্রভাত ভূমিকম্পের কারণ হিসেবে অলৌকিক সত্তা 'বসুদেবী'র হাঁটার কথা বলেছে, যা কুসংস্কার ও অতিপ্রাকৃতিক বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এটি লৌকিক ব্যাখ্যার উদাহরণ। অন্যদিকে কাকুর বক্তব্য ভূ-অভ্যন্তরীণ তাপ, চাপ ও ভূত্বকের কম্পন সম্পর্কিত বাস্তব ও কার্যকারণভিত্তিক বৈজ্ঞানিক তথ্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।

    ২. কার্যকারণ সম্পর্কের উপস্থিতি: বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় কার্যকারণ নিয়ম এবং প্রাকৃতিক নিয়মের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়, যা কাকুর বক্তব্যে স্পষ্ট। কিন্তু লৌকিক ব্যাখ্যায় কোনো কার্যকারণ নিয়ম অনুসরণ করা হয় না, কেবল বাহ্যিক সাদৃশ্য বা কাল্পনিক বিশ্বাসের আশ্রয় নেওয়া হয়।

    ৩. যাচাইযোগ্যতা: প্রভাতের কাকুর প্রদত্ত ভূ-অভ্যন্তরীণ তাপ-চাপের ব্যাখ্যাটি বিজ্ঞানসম্মত, পর্যবেক্ষণযোগ্য এবং পরীক্ষণ ও প্রমাণের মাধ্যমে যাচাইযোগ্য। কিন্তু প্রভাতের দেওয়া বসুদেবীর হাঁটার ব্যাখ্যাটি অদৃশ্য, মনগড়া এবং কোনোভাবেই যাচাইযোগ্য নয়।

    ৪. সার্বজনীনতা: লৌকিক ব্যাখ্যা ব্যক্তিভেদে ও সংস্কৃতিভেদে ভিন্ন হয় এবং তা সার্বজনীন নয়। অথচ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বস্তুনিষ্ঠ নিয়মের ওপর প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় তা সর্বজনগ্রাহ্য ও সার্বজনীন।

    সুতরাং, প্রভাত ও তার কাকুর বক্তব্য যথাক্রমে অজ্ঞতাভিত্তিক কাল্পনিক লৌকিক ব্যাখ্যা এবং যুক্তি ও প্রমাণনির্ভর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার স্পষ্ট পার্থক্য তুলে ধরে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন