পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
শিক্ষক হাসান সাহেব বলেন, “আইন, শাসন ও বিচার সংক্রান্ত ক্ষমতা একই হাতে কেন্দ্রীভূত হলে স্বৈরাচার সৃষ্টি হবে।” তারমতে, আইন বিভাগ আইন তৈরি করবে, শাসন বিভাগ তা বাস্তবায়ন করবে আর বিচার বিভাগ প্রচলিত নিয়মানুযায়ী অপরাধীকে শাস্তি দেবে এবং নিরপরাধীকে মুক্তি দিয়ে রাষ্ট্রে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করবে।
- ক)(1)
Demos শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে সরকার ব্যবস্থার কোন নীতিটি প্রতিফলিত হয়েছে? তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয় সরকারের স্বৈরাচারিতা রোধ ও ব্যক্তি স্বাধীনতা রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করে। তুমি কি একমত? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গ্রিক শব্দ ‘Demos’ (ডেমোস)-এর অর্থ হলো ‘জনগণ’ বা ‘সাধারণ মানুষ’।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মন্ত্রিপরিষদ শাসিত বা সংসদীয় সরকার বলতে এমন এক শাসনব্যবস্থাকে বোঝায়, যেখানে শাসন বিভাগ তাদের নীতি ও কার্যকলাপের জন্য আইনসভার কাছে প্রত্যক্ষভাবে দায়ী থাকে। এ ধরনের সরকার ব্যবস্থায় একজন নিয়মতান্ত্রিক রাষ্ট্রপ্রধান থাকেন এবং প্রকৃত শাসনক্ষমতা পরিচালিত হয় প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভার দ্বারা। আইনসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের আস্থা হারালে মন্ত্রিসভাকে পদত্যাগ করতে হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সরকার ব্যবস্থার 'ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি' (Separation of Powers) প্রতিফলিত হয়েছে।
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি অনুসারে সরকারের তিনটি প্রধান অঙ্গ—আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ পরস্পরের হস্তক্ষেপমুক্ত থেকে নিজস্ব নির্ধারিত পরিমণ্ডলে স্বাধীনভাবে কাজ পরিচালনা করে। ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কু তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'দ্য স্পিরিট অব লজ'-এ এই নীতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
উদ্দীপকে শিক্ষক হাসান সাহেবের বক্তব্যে বলা হয়েছে যে আইন, শাসন ও বিচার ক্ষমতা এক হাতে কেন্দ্রীভূত হলে স্বৈরাচার দেখা দেবে। তাই আইন বিভাগ শুধু আইন তৈরি করবে, শাসন বিভাগ তা বাস্তবায়ন করবে এবং বিচার বিভাগ প্রচলিত আইন অনুযায়ী অপরাধীর বিচার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবে। এই বক্তব্যটি পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত মন্টেস্কুর ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির হুবহু প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ ও ভারসাম্য নীতি সরকারের স্বৈরাচারিতা রোধ এবং নাগরিকের ব্যক্তি-স্বাধীনতা রক্ষায় অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে—আমি এ বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণ একমত।
কারণসমূহ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ: বিখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী লর্ড অ্যাক্টনের মতে, "ক্ষমতা দুর্নীতিগ্রস্ত করে এবং নিরঙ্কুশ ক্ষমতা সম্পূর্ণরূপে দুর্নীতিগ্রস্ত করে।" সরকারের তিনটি অঙ্গের ক্ষমতা যদি কোনো একক ব্যক্তি বা সংস্থার হাতে অর্পিত হয়, তবে সেখানে স্বৈরাচার সৃষ্টি হয়। ক্ষমতা পৃথক থাকলে কেউ একক আধিপত্য বিস্তার করতে পারে না।
২. ব্যক্তি-স্বাধীনতা সংরক্ষণ: মন্টেস্কুর মতে, শাসন ও আইন বিভাগের ক্ষমতা যদি একই ব্যক্তির হাতে থাকে, তবে সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না। কারণ শাসক নিজের অন্যায্য আইনের মাধ্যমেই শাসন পরিচালনা করতে পারে। ক্ষমতা আলাদা থাকলে নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও ব্যক্তি-স্বাধীনতা সংরক্ষিত থাকে।
৩. স্বাধীন বিচার বিভাগের নিশ্চয়তা: বিচার বিভাগ যদি আইন ও শাসন বিভাগের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকে, তবেই নিরপেক্ষ বিচার ও আইনের শাসন নিশ্চিত হয়।
তবে বাস্তবে পূর্ণ স্বতন্ত্রীকরণ সম্ভব বা কাম্য নয়; বরং ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণের সাথে 'ভারসাম্য নীতি' (Checks and Balances) যুক্ত হলে সরকার সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হয়। অতএব, সরকারের স্বৈরাচার প্রতিরোধ এবং নাগরিকদের ব্যক্তি-স্বাধীনতা সমুন্নত রাখতে উদ্দীপকে উল্লিখিত নীতিটি অনস্বীকার্য ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও