গার্হস্থ্য বিজ্ঞান • Combined Board • সকল বোর্ড ২০১৬

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান প্রশ্ন

দোলা, সোমা ও সাথী তিন বান্ধবী। দোলা দুই গজ পাতলা কাপড়ে রং করতে যেয়ে প্রথমে পানিতে কাপড় কাঁচার সোডা ও লবণ মেশায় এবং ফুটন্ত অবস্থায় পানিতে কাপড় উল্টেপাল্টে দিয়ে তুলে শুকিয়ে ইস্ত্রি করে। সোমা কাপড়টিতে পেন্সিল দিয়ে সরল রেখা এঁকে রেখা বরাবর বড় বড় কাঁথা স্টিচ সেলাই করে সুতা টেনে গিঁট দেয় এবং রং করে। অন্যদিকে সাথী নিজের জামা কাপড়টিতে ভাঁজ দিয়ে বেঁধে দেয় এবং রং করে।

  1. ক)

    বাটিক কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    প্রুসিয়ান রং ব্যবহার করে যে ছাপা করা হয় সে সম্পর্কে ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    দোলার কাপড় রং করার ক্ষেত্রে কোন ধাপটি অনুসরণ করেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    সোমা ও সাথীর ব্যবহৃত পদ্ধতি দুটির মধ্যে কোনটিতে সময় ও শক্তি কম খরচ হয়? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    বাটিক হলো কাপড়ের কিছু অংশ মোম, বাঁধন বা সেলাই দিয়ে ঢেকে বা বেঁধে রেখে রং করার মাধ্যমে নকশা তৈরির পদ্ধতি।

  2. খ)

    প্রুসিয়ান রং গাঢ় নীল রঙের একটি রং। এটি দিয়ে যে ছাপা করা হয় তাকে ব্লুপ্রিন্ট বলা যায়।

    এই পদ্ধতিতে কাপড়ে আলোসংবেদনশীল রাসায়নিক মাখিয়ে শুকানো হয়। এরপর নকশা বা বস্তু কাপড়ের উপর রেখে সূর্যের আলোতে ধরা হয়। যে অংশে আলো পড়ে সেখানে গাঢ় নীল রং ফুটে ওঠে, আর ঢাকা অংশ পরে পানিতে ধুয়ে ফেললে হালকা বা সাদা থাকে। ফলে নীল জমিনে সাদা নকশা পাওয়া যায়।

  3. গ)

    দোলা প্রথমে পানিতে কাপড় কাঁচার সোডা ও লবণ মেশায়, ফুটন্ত পানিতে কাপড় উল্টেপাল্টে রং করে, তারপর শুকিয়ে ইস্ত্রি করে। এটি সরাসরি রং (ডাইরেক্ট ডাই) দিয়ে সুতি কাপড় রং করার ধাপ।

    ধাপগুলো:
    ১. রঙের দ্রবণ তৈরি: পানিতে রং গুলে তাতে সোডা ও লবণ মেশানো হয়। লবণ রংকে তন্তুতে ভালোভাবে বসতে সাহায্য করে।
    ২. রং করা: দ্রবণ ফুটিয়ে তাতে কাপড় ডুবিয়ে উল্টেপাল্টে দেওয়া হয়, যেন সব অংশে সমান রং লাগে।
    ৩. শুকানো ও ইস্ত্রি: কাপড় তুলে ছায়ায় বা রোদে শুকিয়ে ইস্ত্রি করলে রং ভালোভাবে বসে ও কাপড় সুন্দর দেখায়।

  4. ঘ)

    সোমা কাপড়ে পেন্সিলে রেখা এঁকে বড় বড় কাঁথা স্টিচ দিয়ে সুতা টেনে গিঁট দেয়, আর সাথী কাপড়ে ভাঁজ দিয়ে শুধু বেঁধে রং করে। দুটোই বাটিক পদ্ধতির বাঁধন কৌশল।

    বিশ্লেষণ:
    ১. সোমার পদ্ধতি: এতে প্রথমে রেখা আঁকতে হয়, তারপর রেখা বরাবর সেলাই করতে হয়, সুতা টানতে হয় ও গিঁট দিতে হয়। রং করার পর গিঁট ও সুতা খুলতেও বেশি সময় লাগে। এতে সময় ও শ্রম বেশি খরচ হয়।
    ২. সাথীর পদ্ধতি: এতে কাপড়ে ভাঁজ দিয়ে সুতা বা রাবার ব্যান্ডে বেঁধে ফেললেই হয়। আঁকা ও সেলাইয়ের কাজ নেই, তাই কাজ সহজ ও দ্রুত হয়।
    ৩. ফলাফল: সোমার পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট ও সুনির্দিষ্ট নকশা পাওয়া যায়, আর সাথীর পদ্ধতিতে নকশা এলোমেলো ধরনের হয়।

    সুতরাং, সাথীর ব্যবহৃত ভাঁজ দিয়ে বাঁধার পদ্ধতিতে সময় ও শক্তি কম খরচ হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন