পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৪

পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন

রমিজ, রমেশ ও রাফসান যথাক্রমে 'ক', 'খ' ও 'গ' অঞ্চলে বাস করত। তাদের শাসন করত বিদেশি শক্তি। রমিজ ও রাফসান একটি সূত্রের মাধ্যমে তারা একই ভাবধারার বিধায় স্বতন্ত্র জাতির কথা প্রচার করে। এ সূত্রের ভিত্তিতে পরবর্তীতে দুটি রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়।

  1. ক)

    মৌলিক গণতন্ত্র কে প্রবর্তন করেন?

    (1)
  2. খ)

    গেরিলা যুদ্ধ কী? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    রমিজ ও রাফসানের সূত্রটি কোন প্রস্তাবকে নির্দেশ করে? তার বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তুমি কি মনে কর, রমিজ ও রাফসানের সূত্রটি যে প্রস্তাবকে নির্দেশ করে তা দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    মৌলিক গণতন্ত্র প্রবর্তন করেন পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুব খান।

  2. খ)

    গেরিলা যুদ্ধ হলো ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে শত্রুর ওপর হঠাৎ আক্রমণ চালিয়ে দ্রুত সরে পড়ার কৌশল।

    এ যুদ্ধে যোদ্ধারা স্থানীয় জনগণের সহায়তায় লুকিয়ে থেকে শত্রুর রসদ, সেতু, যোগাযোগ ও ঘাঁটিতে আঘাত করে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে গেরিলা কৌশল ব্যবহার করে সফলতা পেয়েছিলেন।

  3. গ)

    রমিজ ও রাফসানের সূত্রটি হলো দ্বিজাতি তত্ত্ব, যার ভিত্তিতে ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছিল। উদ্দীপকে একই ভাবধারার মানুষ নিজেদের স্বতন্ত্র জাতি দাবি করেছে, যা এ প্রস্তাবের মূল ভিত্তির সাথে মিলে যায়।

    লাহোর প্রস্তাবের বৈশিষ্ট্য:
    ১. ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোরে মুসলিম লীগের অধিবেশনে এ কে ফজলুল হক প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন।
    ২. ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিম-প্রধান এলাকাগুলো নিয়ে স্বতন্ত্র রাষ্ট্র গঠনের দাবি করা হয়।
    ৩. এসব অঞ্চল স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম হবে বলে প্রস্তাব করা হয়।
    ৪. সংখ্যালঘুদের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অধিকার রক্ষার ব্যবস্থার কথা বলা হয়।

  4. ঘ)

    রমিজ ও রাফসানের সূত্র দ্বিজাতি তত্ত্ব এবং এর ভিত্তিতে গৃহীত লাহোর প্রস্তাবকে নির্দেশ করে। আমি মনে করি, এ প্রস্তাব দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা রেখেছিল।

    ১. স্বতন্ত্র রাষ্ট্রের তাত্ত্বিক ভিত্তি: এ প্রস্তাবে প্রথমবার মুসলিম-প্রধান অঞ্চলগুলো নিয়ে স্বতন্ত্র রাষ্ট্র গঠনের দাবি পরিষ্কারভাবে উঠে আসে।
    ২. জনমত গঠন: প্রস্তাবটি মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে জাতীয় চেতনা ও ঐক্য সৃষ্টি করে এবং আন্দোলনকে গতি দেয়।
    ৩. রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি: প্রস্তাবের পর মুসলিম লীগের দাবি জোরালো হয় এবং ব্রিটিশ সরকার ও কংগ্রেসের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ে।
    ৪. দেশবিভাগের পথ: এর ধারাবাহিকতায় ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে এবং ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়।

    সুতরাং, লাহোর প্রস্তাব দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন