কৃষিশিক্ষা • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২০

কৃষিশিক্ষা প্রশ্ন

প্রাকৃতিক দুর্যোগের, মাত্রা দিন দিন বেড়ে চলেছে। ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে সেচ, চাষ, ফসল সংগ্রহ প্রক্রিয়ার সংকট, যন্ত্রপাতি সংকটে গ্রামের দরিদ্র কৃষকগণ যথেষ্ট প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে চলছে। বিশ্ববিদ্যালয় পড়া শেষে গ্রামে ফিরে এসে যুবক হারুন এমন পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য গ্রামের আগ্রহী কৃষকগণকে ডেকে একসাথে আলোচনায় বসে এবং সর্বসম্মতিক্রমে যৌথভাবে সাংগঠনিক প্রক্রিয়া অবলম্বন করে পরিস্থিতি উত্তরণে সম্মত হয়।

  1. ক)

    সমবায় কী?

    (1)
  2. খ)

    কৃষিকাজের জন্য অর্থসংকটে থাকা গ্রামীণ কৃষকদের জন্য কোন ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে দরিদ্র কৃষকগণকে পরিস্থিতি উত্তরণে কোন ধরনের সমবায় সংগঠন তৈরি করতে হবে বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "যুবক হারুনের প্রচেষ্টা বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামের জন্য অনুসরণীয়" -বক্তব্যটির সপক্ষে যুক্তিসহ মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    সমবায় হলো এমন একটি সংগঠন, যেখানে সমান উদ্দেশ্যে একদল মানুষ স্বেচ্ছায় একত্রিত হয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে নিজেদের অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য কাজ করে।

  2. খ)

    অর্থসংকটে থাকা গ্রামীণ কৃষকদের জন্য সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে ঋণ পাওয়ার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

    গরিব কৃষকের জমি বা জামানত কম থাকায় তারা সহজে ব্যাংক ঋণ পায় না। ফলে বীজ, সার, সেচ ও যন্ত্রপাতির খরচ জোগাড় করতে মহাজনের কাছে চড়া সুদে ঋণ নিতে হয়। তাই কৃষি ব্যাংক বা সমবায় সমিতির মাধ্যমে কৃষি ঋণ ও সঞ্চয়ের সুযোগ তৈরি করলে কৃষকেরা মূলধন পাবে এবং মহাজনের শোষণ থেকে মুক্তি পাবে।

  3. গ)

    উদ্দীপকে হারুন ও গ্রামের কৃষকেরা সেচ, চাষ ও ফসল সংগ্রহের সংকট এবং যন্ত্রপাতির অভাব কাটাতে যৌথভাবে সংগঠিত হয়েছেন। এ ক্ষেত্রে তাদের কৃষি উৎপাদন সমবায় সংগঠন তৈরি করতে হবে।

    কৃষি উৎপাদন সমবায়ে সদস্যরা নিজেদের জমি, শ্রম ও পুঁজি একত্র করে যৌথভাবে চাষাবাদ করে। এর মাধ্যমে:

    ১. বড় আয়তনে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করা যায়।
    ২. সেচযন্ত্র, পাওয়ার টিলার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি সদস্যরা মিলে কিনে ব্যবহার করতে পারে, ফলে খরচ কমে।
    ৩. বীজ, সার ও শ্রম ভাগাভাগি করে চাষ ও ফসল সংগ্রহের সংকট মোকাবেলা করা যায়।
    ৪. উৎপাদিত ফসল বা লাভ সদস্যদের মধ্যে ন্যায্যভাবে ভাগ করা হয়।

    তাই হারুনের গ্রামের কৃষকদের এই ধরনের সমবায়ই উপযুক্ত।

  4. ঘ)

    হারুনের প্রচেষ্টা সফল হলে তা প্রতিটি গ্রামের জন্য অনুসরণীয়, এ বক্তব্যটি আমি সমর্থন করি।

    ১. সংকট মোকাবেলা: হারুন আলোচনার মাধ্যমে সবাইকে নিয়ে যৌথ সংগঠন গড়ে সেচ, যন্ত্রপাতি ও ফসল সংগ্রহের সংকট দূর করার পথ দেখিয়েছেন। প্রায় সব গ্রামেই কৃষকেরা এমন সমস্যায় পড়েন।
    ২. খরচ হ্রাস ও উৎপাদন বৃদ্ধি: যৌথভাবে যন্ত্রপাতি ও উপকরণ ব্যবহার করলে ব্যয় কমে এবং আধুনিক পদ্ধতিতে ফলন বাড়ে।
    ৩. ঐক্য ও দারিদ্র্য দূরীকরণ: সর্বসম্মতিক্রমে কাজ করায় কৃষকদের মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা গড়ে ওঠে, মহাজনের ওপর নির্ভরতা কমে এবং আয় বাড়ে।
    ৪. শিক্ষিত তরুণের ভূমিকা: শিক্ষিত যুবক গ্রামে ফিরে এসে নেতৃত্ব দিলে নতুন প্রযুক্তি ও জ্ঞান গ্রামে পৌঁছায়।

    সুতরাং, হারুনের এই উদ্যোগ গ্রামীণ কৃষির উন্নয়ন ও কৃষকের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তনে সহায়ক, তাই এটি বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামের জন্য অনুসরণীয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন