সাহিত্য পাঠ • আহ্বান • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
লেখিকা রত্না চৌধুরীর স্বামী সমর ও একমাত্র সন্তান দীপঙ্কর মুক্তিযুদ্ধে শহিদ হন। মুক্তিযুদ্ধে মা-বাবা হারানো এতিম সুজাউদ্দিনকে রত্না চৌধুরী পুত্র বাৎসল্যে বড় করেন। মৃত্যুর আগে রত্না চৌধুরী তার প্রকাশিত ১৮টি বইয়ের স্বত্ব সুজাউদ্দিনকে দান করেন। সুজাউদ্দিন তার মায়ের গ্রামের বাড়িতে শহিদ সন্তান দীপঙ্করের নামে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেন।
- ক)(1)
গোয়ালপোরা' শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
"আমার বড্ড কষ্ট, ভাত জোটে না সবদিন"-উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের স্নেহাতুর সম্পর্কের সাথে 'আহ্বান-গল্পের বুড়ি ও গোপালের সম্পর্কের তুলনা করো ।
- ঘ)(4)
"প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপক ও 'আহ্বান' গল্পে ভাবগত ঐক্য রয়েছে।"- মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'গোয়ালপোরা' শব্দের অর্থ হলো গোয়ালভরা (অর্থাৎ গোয়ালে গরু দিয়ে পরিপূর্ণ)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটি দ্বারা বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'আহ্বান' গল্পের বৃদ্ধার চরম দারিদ্র্য ও অসহায় জীবনের করুণ বাস্তবতা প্রকাশিত হয়েছে।
বৃদ্ধার স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি নিঃস্ব হয়ে পড়েন। আত্মীয়স্বজন কেউ তার দায়িত্ব নেয়নি। বয়স হয়ে যাওয়ায় তিনি কাজ করতে পারতেন না। ফলে ক্ষুধা মেটানোর মতো অন্নসংস্থান তার ছিল না। গোপাল গ্রামে এলে বুড়ি তার কাছে গিয়ে নিজের এই অভাব, অনাহার ও অসহায় জীবনের বাস্তব কষ্টের কথা ব্যক্ত করতে গিয়ে উক্ত কথাটি বলেছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের স্নেহাতুর সম্পর্কের সাথে 'আহ্বান' গল্পের বুড়ি ও গোপালের সম্পর্কের মধ্যে গভীর বাৎসল্য ও মানবিক মমত্ববোধের সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।
'আহ্বান' গল্পে রক্তের সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও বৃদ্ধা বুড়ি ও শহুরে শিক্ষিত যুবক গোপালের মধ্যে গড়ে ওঠেছিল এক নিবিড় আত্মিক ও অপত্যস্নেহের সম্পর্ক। ধর্ম, বর্ণ ও সামাজিক অবস্থানের প্রাচীর ভেঙে বুড়ি গোপালকে পরম স্নেহে 'দ্যাওতা' ও নিজের সন্তানের মতো ভালোবেসেছিল। গোপালও বুড়ির এই অকৃত্রিম ভালোবাসার মর্যাদা দিয়ে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও যত্ন প্রদর্শন করেছিল।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, রত্না চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধে স্বামী ও একমাত্র সন্তান হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু তিনি মা-বাবা হারানো এতিম সুজাউদ্দিনকে নিজ সন্তানের মতো মাতৃস্নেহে বড় করে তোলেন এবং তার সমস্ত গ্রন্থের স্বত্ব তাকে দিয়ে যান। অন্যদিকে সুজাউদ্দিনও মায়ের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থেকে শহিদ ভাইয়ের নামে পাঠাগার গড়ে তোলে। সুতরাং, উভয়ের মধ্যেই রক্তের সম্পর্কের ঊর্ধ্বে উঠে গড়ে ওঠা নিঃস্বার্থ স্নেহ, ভালোবাসা ও মানবিক অনুভূতির চমৎকার মিল বা তুলনা বিদ্যমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপক ও 'আহ্বান' গল্পে ভাবগত ঐক্য রয়েছে"—মন্তব্যটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।
'আহ্বান' গল্পের পটভূমি গ্রামীণ জীবন, যেখানে দারিদ্র্যপীড়িত এক মুসলিম বৃদ্ধা এবং এক হিন্দু শিক্ষিত যুবকের মধ্যে ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে এক হৃদয়স্পর্শী মানবিক ও স্নেহময় সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বুড়ির অকৃত্রিম স্নেহ এবং গোপালের মমত্ববোধ গল্পটিকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।
অন্যদিকে উদ্দীপকের পটভূমি মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বাস্তবতা। মুক্তিযুদ্ধে সর্বস্ব হারানো লেখিকা রত্না চৌধুরী এবং মা-বাবা হারানো এতিম সুজাউদ্দিনকে কেন্দ্র করে কাহিনীটি গড়ে উঠেছে। রত্না চৌধুরী সুজাউদ্দিনকে পুত্রস্নেহে বড় করেন এবং মৃত্যুর আগে তার বইয়ের স্বত্ব দিয়ে যান। সুজাউদ্দিনও কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধায় শহিদ ভাইয়ের নামে পাঠাগার নির্মাণ করে।
দেখা যায়, 'আহ্বান' গল্পের পটভূমি গ্রামীণ সমাজ ও উদ্দীপকের পটভূমি মুক্তিযুদ্ধের ক্ষতি হলেও উভয়ের মূল ভাব একই। দুটি প্রেক্ষাপটেই রক্তের সম্পর্কের বাইরে গিয়ে গড়ে ওঠা বাৎসল্যপ্রেম, মানবিক মমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং আত্মিক ভালোবাসার জয়গান ধ্বনিত হয়েছে। তাই বলা যায়, ঘটনা ও প্রেক্ষাপটের ভিন্নতা সত্ত্বেও ভাবগত ও হৃদয়বৃত্তিক দিক থেকে উদ্দীপক ও 'আহ্বান' গল্পের মধ্যে সুস্পষ্ট ঐক্য বিদ্যমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও