ভূগোল ১ম পত্র • ভূমিরূপ পরিবর্তন • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর বোর্ড ২০২৩

ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন

সোমা পড়ার টেবিলে বসে হঠাৎ ঝাঁকুনি অনুভব করল এবং ঘরের ঝুলন্ত বস্তুগুলোকে নড়াচড়া করতে দেখল। নওরিন ইউটিউবে দেখতে পেল যে আটলান্টিক মহাসাগরের কোনো এক দ্বীপের ফাটল দিয়ে উত্তপ্ত ও গলিত পদার্থ বের হচ্ছে।

  1. ক)

    সুনামি কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    নদীর কোন পর্যায়ে সঞ্চয় বেশি হয়? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে প্রথমে ঘটে যাওয়া বিষয়টি সংঘটনের কারণ ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত প্রাকৃতিক ঘটনা দুটির ফলাফল বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত বা ভূমিধসের কারণে সাগরে সৃষ্ট বিশালাকার বিধ্বংসী ঢেউকে সুনামি বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নদীর নিম্নগতি বা সমভূমি পর্যায়ে সঞ্চয় কাজ সবচেয়ে বেশি হয়। কারণ এ পর্যায়ে নদীর গতিপথের ঢাল অত্যন্ত কমে যায়, ফলে নদীর পানির প্রবাহের গতি ও বহনক্ষমতা ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়। এর ফলে উচ্চ ও মধ্যগতি থেকে নদী যেসব পলি, বালি ও কাদা বহন করে আনে, তা নদীগর্ভে ও নদীর দুই কূলে উপচে পড়ে সঞ্চিত হতে থাকে এবং প্লাবন সমভূমি, চরাঞ্চল ও ব-দ্বীপ সৃষ্টি করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে সোমার অনুভূত ঝাঁকুনি এবং ঝুলন্ত বস্তুগুলোর নড়াচড়া দ্বারা 'ভূমিকম্প' (Earthquake)-কে নির্দেশ করা হয়েছে।

    ভূমিকম্প সংঘটনের প্রধান কারণসমূহ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
    ১. প্লেট টেকটোনিকস বা পাতের সঞ্চালন: ভূত্বক কতগুলো গতিশীল পাতের ওপর অবস্থিত। যখন এই টেকটোনিক প্লেটগুলো পরস্পর সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, পাশাপাশি সরে যায় বা একটি অপরটির নিচে প্রবেশ করে, তখন প্রবল শক্তির মুক্তি ঘটে এবং ভূপৃষ্ঠ কেঁপে ওঠে। এটি ভূমিকম্পের প্রধান কারণ।
    ২. ভূ-অভ্যন্তরের শিলাচ্যুতি ও চাপমুক্তি: ভূ-আলোড়নের ফলে ভূত্বকের দুর্বল অংশে শিলাস্তরে ফাটল ধরে এবং চ্যুতির সৃষ্টি হয়। চ্যুতি বরাবর শিলাস্তর হঠাৎ স্থানচ্যুত হলে তীব্র তরঙ্গের সৃষ্টি হয়ে ভূমিকম্প ঘটে।
    ৩. ভূ-গর্ভস্থ বাষ্পীয় চাপ ও তাপ বিকিরণ: পৃথিবী শীতল ও সংকুচিত হওয়ার ফলে ভূত্বকে ভাঁজের সৃষ্টি হয়, অথবা ভূ-গর্ভস্থ বাষ্প ওপরের দিকে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করলে তা ভূমিকম্প হিসেবে অনুভূত হয়।
    ৪. আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত: আগ্নেয়গিরির লাভা ও গ্যাস প্রবল বেগে নির্গত হওয়ার সময়ও নিকটবর্তী ভূখণ্ড কেঁপে ওঠে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত প্রথম ঘটনাটি হলো 'ভূমিকম্প' এবং দ্বিতীয় ঘটনাটি হলো 'আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত'। এ দুটি প্রাকৃতিক ঘটনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ফলাফল নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. ভূমিকম্পের ফলাফল:

    • ধ্বংসলীলা ও মানব ক্ষতি: ভূমিকম্পের ফলে মুহূর্তের মধ্যে ঘরবাড়ি, দালানকোঠা ও সেতু ধসে পড়ে প্রচুর প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি হয়।
    • ভূমিরূপ পরিবর্তন: ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে ভূত্বকে অসংখ্য ফাটল ও চ্যুতির সৃষ্টি হয়। অনেক সময় নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে যায় (যেমন— ১৭৮৭ সালের ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্র নদের গতি পরিবর্তন)।
    • সুনামি ও ভূমিধস: সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্প হলে বিধ্বংসী সুনামি সৃষ্টি হয়ে উপকূল প্লাবিত করে। এছাড়া পার্বত্য অঞ্চলে ভয়াবহ ভূমিধস ঘটে।

    ২. আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলাফল:

    • নতুন ভূমিরূপ গঠন: অগ্ন্যুৎপাতের ফলে নির্গত লাভা শীতল হয়ে সঞ্চিত হয়ে আগ্নেয় পর্বত, মালভূমি এবং সাগরে নতুন নতুন দ্বীপের সৃষ্টি করে (যেমন— হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ)।
    • কৃষিক্ষেত্রে উপকারিতা: আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত লাভা ও ছাই কালক্রমে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে অত্যন্ত উর্বর লাভা-মাটি তৈরি করে, যা কৃষিকাজের জন্য খুবই উপযোগী।
    • পরিবেশ ও জনজীবনের বিনাশ: জ্বলন্ত লাভা ও বিষাক্ত ধোঁয়ায় নিকটবর্তী গ্রাম-শহর পুড়ে ছাই হয়ে যায় এবং বায়ুমণ্ডলে ছাই ও গ্যাস ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণ ঘটায়।

    সুতরাং, ভূমিকম্প প্রধানত ধ্বংসাত্মক ফলাফল বয়ে নিয়ে এলেও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ধ্বংসের পাশাপাশি নতুন ভূমিরূপ ও উর্বর ভূভাগ গঠনের মতো ইতিবাচক ফলাফলও বয়ে আনে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন