বাংলা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৭

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

আমি জীবনে অনেক আত্মপ্রবঞ্চনা করে করে অন্তরে অশেষ যন্ত্রণা ভোগ করেছি। কত রাত্রি অনুশোচনায় ঘুম হয় নাই। এখন ভুল বুঝতে পেরেছি। এখন সোজা এই বুঝেছি যে, আমি যা ভালো বুঝি, যা সত্য বুঝি, শুধু সেটুকু প্রকাশ করব, বলে বেড়াব। তাতে লোকে যতই নিন্দা করুক, আমি আমার কাছে ছোট হয়ে থাকব না, আত্মপ্রবঞ্চনা করে আর আত্মনির্যাতন ভোগ করব না।

  1. ক)

    কত সালে কাজী নজরুল ইসলাম বাঙালি পল্টনে যোগ দেন?

    (1)
  2. খ)

    মানুষ-ধর্মই সবচেয়ে বড় ধর্ম'- বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ভাবার্থের সাথে 'আমার পথ' প্রবন্ধে ভাবের পরিচয় পাওয়া যায় তা আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকটিতে 'আমার পথ' প্রবন্ধটির আংশিক দিক প্রতিফলিত হয়েছে- উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কাজী নজরুল ইসলাম ১৯১৭ সালে বাঙালি পল্টনে যোগ দেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ‘মানুষ-ধর্মই সবচেয়ে বড় ধর্ম’ বলতে কাজী নজরুল ইসলাম বুঝিয়েছেন যে, জাতি-ধর্ম-বর্ণের কৃত্রিম বিভেদের চেয়ে মানুষের ভেতরের মানবিক পরিচয় এবং সত্যবোধই সর্বোত্তম। পৃথিবীতে মানুষ হিসেবে সকলের সমান মর্যাদা রয়েছে। বিভিন্ন ধর্মের আচার-অনুষ্ঠানের বাহ্যিক পার্থক্যের চেয়ে মানুষের পারস্পরিক ঐক্য, মানবপ্রেম ও সত্যের প্রকাশই সবচেয়ে বড় ধর্ম। নজরুল ধর্মের গোঁড়ামি ও ভেদাভেদ ভুলে মানুষকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করতে বলেছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ভাবার্থের সাথে 'আমার পথ' প্রবন্ধের আত্মনির্ভরশীলতা, আত্মমর্যাদা এবং সত্য প্রকাশের আপসহীন মানসিকতার গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

    'আমার পথ' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক নজরুল ইসলাম স্পষ্ট করে বলেছেন যে, মিথ্যা বিনয়ের চেয়ে সত্যের অহংকার অনেক ভালো। তিনি নিজের সত্যকে চিনে তার আলোকেই পরিচালিত হতে চেয়েছেন। মানুষের মনকে ছোট করে, পরকে আশ্রয় করে বেঁচে থাকা বা মিথ্যা ভণ্ডামি করে নিজেকে ঠকানোকেই তিনি আত্মপ্রবঞ্চনা বলেছেন।

    উদ্দীপকের বক্তাও জীবনে আত্মপ্রবঞ্চনা করে অন্তরে অশেষ যন্ত্রণা ও অনুশোচনা ভোগ করার পর উপলব্ধি করেছেন যে, নিজের অন্তরের সত্যকে কখনোই অস্বীকার করা উচিত নয়। তিনি লোকনিন্দা উপেক্ষা করে নিজের ভালো ও সত্য বোঝার জায়গায় অটল থাকতে চান। এই যে আত্মপ্রবঞ্চনা ত্যাগ করে স্পষ্ট ও সত্য পথে চলার দৃঢ় সংকল্প—তা 'আমার পথ' প্রবন্ধের মূল চেতনা অর্থাৎ নিজের সত্যকে প্রকাশ করা এবং কারও তোষামোদ না করে নিজের কাছে খাঁটি থাকার ভাবের সাথেই সঙ্গতিপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকটিতে 'আমার পথ' প্রবন্ধের আংশিক দিক প্রতিফলিত হয়েছে—উক্তিটি যথার্থ ও যৌক্তিক।

    'আমার পথ' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক কাজী নজরুল ইসলাম সত্যের স্পষ্টভাষিতা, আত্মবিশ্বাস এবং আত্মপ্রবঞ্চনা থেকে মুক্তির কথা বলেছেন। তবে প্রবন্ধের পটভূমি ও বক্তব্য কেবল ব্যক্তিক অনুশোচনা বা সত্য প্রকাশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এতে রয়েছে একটি পূর্ণাঙ্গ সামাজিক ও রাজনৈতিক দর্শন। প্রবন্ধে যেমন রয়েছে আত্মাকে চেনার মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার আহ্বান, তেমনি রয়েছে পরাধীনতা ও অন্ধ দাসত্ব থেকে জাতিকে মুক্ত করার প্রেরণা। এছাড়া প্রবন্ধটিতে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে সম্প্রীতি গড়ে তোলা, ধর্মের কৃত্রিম বিভেদ দূর করে মানুষ-ধর্মকে প্রতিষ্ঠা করা এবং মিথ্যার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করার আহ্বান সুস্পষ্ট।

    উদ্দীপকে কেবল একজন ব্যক্তির আত্মপ্রবঞ্চনা থেকে মুক্ত হয়ে সত্য প্রকাশ করার ব্যক্তিগত অনুভূতির দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। উদ্দীপকের বক্তা লোকনিন্দার ভয় এড়িয়ে নিজের সত্যে অবিচল থাকার প্রতিজ্ঞা করেছেন, যা 'আমার পথ' প্রবন্ধের ব্যক্তি-আত্মার সত্যনিষ্ঠার দিকের সাথে মেলে। কিন্তু প্রবন্ধের বৃহত্তর পটভূমি—যেমন গান্ধীজির ওপর অন্ধ নির্ভরতা পরিহারের আহ্বান, জাতির পরাধীনতার মানসিকতা দূরীকরণ, ভণ্ডামির অবসান এবং সম্প্রদায়গত সম্প্রীতি স্থাপনের মতো সামগ্রিক ও বৈপ্লবিক দিকগুলো উদ্দীপকে পুরোপুরি অনুচ্চারিত রয়ে গেছে।

    অতএব, উদ্দীপকটি প্রবন্ধের কেবল ব্যক্তিক সত্যনিষ্ঠা ও আত্মপ্রবঞ্চনা বর্জনের দিকটিকে ধারণ করেছে, এর সামগ্রিক সামাজিক ও জাতীয় মুক্তির চেতনাকে নয়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটিতে 'আমার পথ' প্রবন্ধের একটি আংশিক দিকই প্রতিফলিত হয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন