যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৬
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মালি ক্যাম্পাসে যত গাছপালা আছে সেগুলোকে সপুষ্পক ও অপুষ্পক উদ্ভিদে বিভক্ত করেন।
অন্যদিকে শ্রেণিশিক্ষক শিক্ষার্থীদের রোল নম্বর, বসার সারি ও ইউনিফর্মের রং এর ভিত্তিতে ভাগ করেন।
আবার ইংরেজি শিক্ষক শিক্ষার্থীর মেধার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে A+\text{A}^+ প্রাপ্ত, A\text{A} প্রাপ্ত ও A−\text{A}^- প্রাপ্ত এভাবে শ্রেণিবদ্ধ করেন।
- ক)(1)
শ্রেণিকরণ কী?
- খ)(2)
“শ্রেণিকরণ একটি মানসিক প্রক্রিয়া”—ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
ইংরেজি শিক্ষকের শ্রেণিবদ্ধকরণ কোন প্রক্রিয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
মালি ও শ্রেণি শিক্ষকের শ্রেণিকরণের মধ্যে যে পার্থক্যগুলো রয়েছে তা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে বস্তু বা ঘটনাসমূহকে তাদের মধ্যকার বিদ্যমান সাদৃশ্যের ভিত্তিতে একত্রিত এবং বৈসাদৃশ্যের ভিত্তিতে পৃথক করার মানসিক প্রক্রিয়াকে শ্রেণিকরণ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শ্রেণিকরণ হলো একটি মানসিক বা বৈচারিক প্রক্রিয়া। প্রকৃতিতে বিদ্যমান বস্তু বা ঘটনাগুলোকে আমরা বাস্তবিকভাবে বা বাহ্যিকভাবে স্তূপ আকারে আলাদা করি না; বরং মন বা চিন্তার সাহায্যে তাদের মধ্যকার মৌলিক বা প্রয়োজনীয় সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য বিবেচনা করে বিভিন্ন শ্রেণিতে বা বর্গে বিন্যস্ত করি। এই ধারণা ও বিন্যাসকরণ মূলত চিন্তার মাধ্যমেই সম্পন্ন হয় বলে শ্রেণিকরণকে মানসিক প্রক্রিয়া বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইংরেজি শিক্ষকের শ্রেণিবদ্ধকরণে 'ক্রমিক শ্রেণিকরণ' (Serial Classification) প্রক্রিয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
যে শ্রেণিকরণ প্রক্রিয়ায় কোনো নির্দিষ্ট গুণের ক্রমহ্রাসমান বা ক্রমবর্ধিষ্ণু মাত্রার ভিত্তিতে বস্তু বা বিষয়সমূহকে পর্যায়ক্রমে সাজানো হয়, তাকে ক্রমিক শ্রেণিকরণ বলে। এটি সাধারণত কোনো বিশেষ গুণ বা বৈশিষ্ট্যের তারতম্য অনুসারে নির্ধারিত হয়।
উদ্দীপকে ইংরেজি শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মেধার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে A+, A এবং A- প্রাপ্ত হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছেন। এখানে মেধা গুণের তারতম্য বা মাত্রার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের একটি নির্দিষ্ট ক্রমানুসারে সাজানো হয়েছে। সুতরাং, শিক্ষকের এই প্রক্রিয়াটি যুক্তিবিদ্যার ক্রমিক শ্রেণিকরণকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মালির শ্রেণিকরণটি 'প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ' (Natural Classification) এবং শ্রেণিশিক্ষকের শ্রেণিকরণটি 'কৃত্রিম শ্রেণিকরণ' (Artificial Classification)-কে নির্দেশ করে। এদের মধ্যকার প্রধান পার্থক্যগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. উদ্দেশ্যের দিক থেকে: মালির শ্রেণিকরণ উদ্ভিদের অন্তর্নিহিত ও মৌলিক বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে সাধারণ জ্ঞান অর্জনের লক্ষ্যে গঠিত, যা প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণের বৈশিষ্ট্য। অপরদিকে, শ্রেণিশিক্ষকের শ্রেণিকরণ রোল নম্বর, বসার সারি ও পোশাকের মতো বিশেষ বা তাৎক্ষণিক ব্যবহারিক সুবিধা অর্জনের জন্য করা হয়েছে, যা কৃত্রিম শ্রেণিকরণ।
২. সাদৃশ্যের প্রকৃতি: প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণে মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ সাদৃশ্যের ওপর নির্ভর করা হয় (যেমন: সপুষ্পক ও অপুষ্পক উদ্ভিদের প্রজননগত মৌলিক পার্থক্য)। কিন্তু শ্রেণিশিক্ষকের কৃত্রিম শ্রেণিকরণে বাহ্যিক বা অগভীর এবং আরোপিত লক্ষণের ভিত্তিতে শ্রেণি ভাগ করা হয়েছে।
৩. স্থায়িত্ব ও বৈজ্ঞানিক মূল্য: মালির প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণটি সার্বিক, বিজ্ঞানসম্মত ও স্থায়ী প্রকৃতির। অন্যদিকে শ্রেণিশিক্ষকের কৃত্রিম শ্রেণিকরণ কোনো বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের সমৃদ্ধি ঘটায় না এবং এটি অস্থায়ী বা স্থান-কালভেদে পরিবর্তনশীল।পরিশেষে বলা যায়, মালির শ্রেণিকরণ বিজ্ঞানসম্মত প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ এবং শ্রেণিশিক্ষকের শ্রেণিকরণ ব্যবহারিক প্রয়োজনভিত্তিক কৃত্রিম শ্রেণিকরণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও