যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    আরোহ পদ্ধতির প্রবর্তক কে?

    (1)
  2. খ)

    প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকটি কারণ সম্পর্কিত কোন মতবাদটি প্রকাশ করেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে প্রকাশিত বিষয়টি কী গ্রহণযোগ্য? পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আধুনিক আরোহ পদ্ধতির প্রবর্তক হলেন যুক্তিবিদ ফ্রান্সিস বেকন (Francis Bacon)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি হলো আরোহের একটি গুরুত্বপূর্ণ আকারগত ভিত্তি। এ নীতি অনুসারে প্রকৃতি সম অবস্থায় সবসময় সম আচরণ করে। অর্থাৎ, অতীতে কোনো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রকৃতি যেভাবে আচরণ করেছে, ভবিষ্যতেও একই পরিস্থিতিতে অনুরূপ আচরণ করবে। প্রকৃতির এই সুশৃঙ্খল ও অপরিবর্তনীয় আচরণকেই প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি বলে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকটি কারণ সম্পর্কিত 'বহুকারণবাদ' (Plurality of Causes) মতবাদটি প্রকাশ করেছে।

    যুক্তিবিদ জন স্টুয়ার্ট মিলের মতে, বহুকারণবাদ হলো এমন একটি মতবাদ যেখানে মনে করা হয় একই কার্য বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কারণের দ্বারা উৎপন্ন হতে পারে। অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট কার্যের একটি মাত্র নির্দিষ্ট কারণ না থেকে একাধিক বিকল্প কারণ থাকতে পারে।

    উদ্দীপকে দেখা যাচ্ছে, 'শব্দ' নামক একক কার্যটি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কারণে সৃষ্টি হচ্ছে; যেমন—হর্ন বাজানো, ঘণ্টা ধ্বনি, মাইক বা বজ্রপাত। এখানে একই কার্য বিভিন্ন ভিন্ন ভিন্ন উৎস বা কারণ থেকে উৎপন্ন হতে দেখা যাচ্ছে। কার্য-কারণ সম্পর্কের এ ধরনের ধারণাই হলো বহুকারণবাদ। সুতরাং, উদ্দীপকের চিত্রটি বহুকারণবাদ মতবাদকে নির্দেশ ও ব্যাখ্যা করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রকাশিত বহুকারণবাদের ধারণাটি বৈজ্ঞানিক ও যুক্তিবিদ্যার মৌলিক নিয়মের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়।

    সাধারণ দৃষ্টিতে মনে হতে পারে যে একই কার্য ভিন্ন ভিন্ন কারণে ঘটতে পারে, যেমনটি উদ্দীপকে দেখানো হয়েছে—শব্দ হর্ন, ঘণ্টা, মাইক বা বজ্রপাত যেকোনোটি থেকেই হতে পারে। কিন্তু গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:

    ১. কারণ ও কার্যের সাধারণ ও বিশেষ অর্থ: বহুকারণবাদ মূলত কার্যকে তার সার্বিক বা সাধারণ অর্থে এবং কারণকে তার বিশেষ অর্থে গ্রহণ করার কারণে সৃষ্টি হয়। উদ্দীপকে 'শব্দ' কার্যটিকে ব্যাপক বা সাধারণ অর্থে ধরা হয়েছে। কিন্তু যদি কার্যকে বিশেষভাবে নির্দিষ্ট করা হয় (যেমন: হর্নের শব্দ, বজ্রপাতের শব্দ), তবে দেখা যাবে প্রতিটি বিশেষ শব্দের কারণও স্বতন্ত্র ও নির্দিষ্ট।

    ২. কার্য-কারণ নিয়মবিরোধিতা: বিজ্ঞানের অন্যতম মৌলিক ভিত্তি হলো কার্য-কারণ নীতি—'একই কারণ সর্বদা একই কার্য উৎপন্ন করে এবং একই কার্য কেবল একটি নির্দিষ্ট কারণ দ্বারাই উৎপন্ন হয়।' বহুকারণবাদ মেনে নিলে কার্য-কারণ নিয়মের সার্বজনীনতা ক্ষুণ্ন হয়।

    ৩. মূল কারণের অভিন্নতা: পদার্থবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে শব্দের মূল ও একমাত্র কারণ হলো 'বস্তুর কম্পন'। হর্ন, ঘণ্টা, মাইক বা বজ্রপাত—সব ক্ষেত্রেই বায়ুমণ্ডলে বস্তুর কম্পনের ফলেই শব্দ সৃষ্টি হয়। সুতরাং বৈজ্ঞানিক অর্থে কারণ বহু নয়, বরং একটিই (কম্পন)।

    অতএব, যুক্তিবিদ কার্ভেথ রিডের সাথে একমত পোষণ করে বলা যায় যে, বহুকারণবাদ একটি ভ্রান্ত ও আপাতদৃষ্টির মতবাদ। সূক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে এটি গ্রহণযোগ্য নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন