ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৬
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন
চট্টগ্রামের ষোলশহরের বিসিক শিল্প নগরীতে জনাব কামরুল হোসেনের মালিকানাধীন মশার কয়েল প্রস্তুতকারী একটি কারখানা রয়েছে। তিনি কুমিল্লা থেকে এসে মাঝে মাঝে কারখানাটি দেখাশোনা করেন। কয়েক বছর যাবত কারখানাটিতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম হচ্ছে। তার সদ্য MBA পাস করা ছেলে জনাব মাহতাবকে কারখানার দায়িত্ব দেয়া হয়। জনাব মাহতাব লক্ষ্য করলেন যে, একজন ফোরম্যান কারখানাটি নিয়মিত দেখাশোনা করেন। কারখানার শ্রমিকগণ যথাসময়ে উপযুক্ত বেতন ভাতাদি পেয়ে থাকেন। কিন্তু কারখানায় শ্রমিকগণ অপর্যাপ্ত আলোতে কাজ করে, পর্যাপ্ত বৈদ্যুতিক পাখাও নেই। তাছাড়া কারখানায় সময়সূচিও ঠিকভাবে অনুসরণ করা হয় না। জনাব মাহতাব বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেন।
- ক)(1)
জৈবিক চাহিদা কী?
- খ)(2)
প্রেষণার সাথে কর্মীর মনোবলের সম্পর্ক কী? বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
কোন ধরনের প্রেষণার অভাবে কারখানাটিতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম হচ্ছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিস্থিতিতে জনাব মাহতাব কী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন বলে তুমি মনে করো? মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানুষের বেঁচে থাকার জন্য অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসার মতো যে সকল মৌলিক শারীরিক প্রয়োজন মেটানো আবশ্যক, তাকে জৈবিক চাহিদা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রেষণার সাথে কর্মীর মনোবলের প্রত্যক্ষ ও ধনাত্মক সম্পর্ক বিদ্যমান।
প্রেষণা হলো কর্মীদের কাজের প্রতি উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করার প্রক্রিয়া। কর্মীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী আর্থিক ও অনার্থিক প্রেষণা প্রদান করা হলে তাদের কাজের প্রতি আগ্রহ ও মানসিক সন্তুষ্টি বাড়ে, যা উচ্চ মনোবল গঠনে সাহায্য করে। পক্ষান্তরে, প্রেষণার অভাব থাকলে কর্মীদের মনোবল ভেঙে পড়ে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের কারখানাটিতে অনার্থিক প্রেষণার (Non-financial Motivation) অভাব রয়েছে, যার কারণে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম হচ্ছে।
কর্মীদের কাজের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য অর্থ বা আর্থিক সুবিধা ছাড়া যে সকল সুযোগ-সুবিধা ও অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা হয় (যেমন—উত্তম কাজের পরিবেশ, নিরাপত্তা, সম্মান ইত্যাদি), তাকে অনার্থিক প্রেষণা বলে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, কারখানার শ্রমিকরা যথাসময়ে উপযুক্ত বেতন-ভাতাদি পাচ্ছে, অর্থাৎ আর্থিক প্রেষণা বিদ্যমান। কিন্তু কারখানাটিতে পর্যাপ্ত আলো ও বৈদ্যুতিক পাখা নেই, অর্থাৎ কাজের উপযুক্ত ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশের অভাব রয়েছে। এই অনুকূল অনার্থিক সুযোগ-সুবিধার অভাবে শ্রমিকরা অসন্তুষ্ট ও ক্লান্ত হয়ে পড়ে, যার ফলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হচ্ছে না।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিস্থিতিতে উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে জনাব মাহতাবের কাজের উত্তম পরিবেশ নিশ্চিতকরণ ও কঠোর শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।
উদ্দীপকে কারখানাটিতে লক্ষ্য করা গেছে যে শ্রমিকরা সময়মতো বেতন-ভাতা পেলেও কাজের ভৌত পরিবেশ অত্যন্ত নাজুক—সেখানে আলো ও বাতাসের চরম সংকট রয়েছে। এছাড়া কারখানায় সময়সূচিও যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয় না এবং ব্যবস্থাপকের অনুপস্থিতির কারণে তদারকিতে দুর্বলতা রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে মাহতাব সাহেব নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে পারেন:
১. কাজের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি: অবিলম্বে কারখানায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত বৈদ্যুতিক পাখা স্থাপন করে কাজের পরিবেশ আরামদায়ক ও স্বাস্থ্যসম্মত করা।
২. কঠোর তত্ত্বাবধান ও সময়সূচি রক্ষা: কারখানার শিফট ও কর্মঘণ্টার সময়সূচি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য নিয়মানুবর্তিতা নিশ্চিত করা।
৩. নিয়মিত তদারকি: ফোরম্যানের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে জনাব মাহতাবের নিয়মিত উপস্থিতি ও কার্যকর তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করা।এসব পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে শ্রমিকদের অসন্তোষ দূর হবে, শারীরিক ক্লান্তি হ্রাস পাবে এবং মনোবল ও কাজের গতি বৃদ্ধির মাধ্যমে কারখানাটি কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও