অর্থনীতি ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

'B' দেশের ২০১৬ সালে ভোক্তার মূল্যসূচক ছিল ১৫০ এবং ২০১৭ সালে ভোক্তার মূল্যসূচক বেড়ে ২০০ হয়। বাজারে পণ্যের দামও ক্রমাগত বাড়তে থাকে। এর ফলে গরিব, নিম্নবিত্ত ও সীমিত আয়ের লোক ভোগান্তির শিকার হয়।

  1. ক)

    মুদ্রাস্ফীতি কী?

    (1)
  2. খ)

    অর্থের যোগান বৃদ্ধি মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি করে কি?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আলোকে 'B' দেশের ২০১৭ সালের মুদ্রাস্ফীতির হার নির্ণয় করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত গরিব, নিম্নবিত্ত ও সীমিত আয়ের লোকের ওপর মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সাধারণত সামগ্রিক চাহিদা বৃদ্ধির ফলে বা উৎপাদনের ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বাজারে দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত এবং সাধারণ স্তরের ঊর্ধ্বগতিকে মুদ্রাস্ফীতি বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, অর্থের যোগান বৃদ্ধি মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি করে।

    অর্থের যোগান বৃদ্ধি পেলে মানুষের হাতে নগদ অর্থের পরিমাণ বেড়ে যায়, ফলে তাদের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। সামগ্রিক চাহিদা বাড়ার সাথে সাথে যদি বাজারে উৎপাদিত পণ্য ও সেবার যোগান সমানুপাতিক হারে বৃদ্ধি না পায়, তবে অতিরিক্ত চাহিদার চাপে দ্রব্যমূল্য ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পায়। ফিশারের অর্থপরিমাণ তত্ত্ব অনুযায়ী, অন্যান্য অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে অর্থের পরিমাণ বাড়লে দামস্তর বাড়ে এবং মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের তথ্যানুযায়ী,
    ভোক্তা মূল্যসূচকের ভিত্তিতে মুদ্রাস্ফীতির হার নির্ণয়ের সূত্রটি হলো:
    মুদ্রাস্ফীতির হার (Inflation Rate) = CPIt−CPIt−1CPIt−1×100\frac{CPI_t - CPI_{t-1}}{CPI_{t-1}} \times 100

    এখানে,
    বর্তমান বছর (২০১৭ সাল)-এর মূল্যসূচক (CPItCPI_t) = ২০০
    ভিত্তি বছর (২০১৬ সাল)-এর মূল্যসূচক (CPIt−1CPI_{t-1}) = ১৫০

    সুতরাং, ২০১৭ সালের মুদ্রাস্ফীতির হার:
    = ২০০−১৫০১৫০×১০০\frac{২০০ - ১৫০}{১৫০} \times ১০০
    = ৫০১৫০×১০০\frac{৫০}{১৫০} \times ১০০
    = ১৩×১০০\frac{১}{৩} \times ১০০
    = ৩৩.৩৩%

    অতএব, 'B' দেশের ২০১৭ সালের মুদ্রাস্ফীতির হার ৩৩.৩৩%।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত গরিব, নিম্নবিত্ত ও সীমিত আয়ের মানুষের ওপর মুদ্রাস্ফীতির নেতিবাচক প্রভাব অত্যন্ত প্রকট। নিচে তা বিশদভাবে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. প্রকৃত আয় হ্রাস: মুদ্রাস্ফীতির সময় দ্রব্যমূল্য দ্রুত বৃদ্ধি পেলেও দিনমজুর, গরিব ও নির্দিষ্ট বেতনের চাকরিজীবীদের আর্থিক আয় একই হারে বাড়ে না। ফলে তাদের প্রকৃত আয় (Real  Income=Money  IncomePrice  LevelReal \; Income = \frac{Money \; Income}{Price \; Level}) ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়।
    ২. জীবনযাত্রার মান অবনমন: পণ্যের দাম অতিমাত্রায় বাড়ার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য যেমন খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা ইত্যাদির ব্যয় মেটাতে দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত মানুষ হিমশিম খায়। বাধ্য হয়ে তারা ভোগ কমায় এবং পুষ্টিকর খাবার ত্যাগ করতে বাধ্য হয়, যা জীবনযাত্রার মান নিচে নামিয়ে দেয়।
    ৩. ঋণগ্রস্ততা বৃদ্ধি: বর্ধিত জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোর জন্য সীমিত আয়ের মানুষকে প্রায়ই উচ্চ সুদে ধার-দেনা বা ঋণ নিতে হয়, যার ফলে তারা দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে জড়িয়ে পড়ে।
    ৪. বৈষম্য বৃদ্ধি: মুদ্রাস্ফীতির ফলে সমাজে আয়বৈষম্য বৃদ্ধি পায়। ব্যবসায়ী ও সম্পদশালী ব্যক্তিরা অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করলেও গরিব ও নিম্নবিত্ত শ্রেণি নিঃস্ব হয়ে ভোগান্তির শিকার হয়।

    সুতরাং উদ্দীপকের বিবরণ যথার্থ; মুদ্রাস্ফীতি দরিদ্র ও সীমিত আয়ের জনগোষ্ঠীর ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস করে তাদের জীবনকে চরম দুর্ভোগ ও আর্থিক অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন