সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)

সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

'ক' ও 'খ' একটি দেশের দুটি অঞ্চল। দেশটি সৃষ্টির শুরুর দিকে দুই অঞ্চলের জিডিপি প্রায় সমান ছিল। সময়ের সাথে সাথে রাষ্ট্র কর্তৃক বৈষম্যমূলক নীতির কারণে 'ক' অঞ্চল পিছিয়ে পড়ে। রাষ্ট্র কর্তৃক 'ক' অঞ্চলে নানাবিধ দমনপীড়ন ও বঞ্চনার কারণে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ জমা হতে থাকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে 'ক' অঞ্চলের নেতাদের উপর ষড়যন্ত্রমূলক মামলাকে কেন্দ্র করে মানুষ ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলে। ফলশ্রুতিতে দেশের সরকারের পতন হয়।

  1. ক)

    তমুদ্দুন মজলিস কী?

    (1)
  2. খ)

    কোন আন্দোলনকে বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি বলা হয়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' অঞ্চলের মাঝে কোন ঐতিহাসিক বৈষম্যের ইঙ্গিত পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের মাইল ফলক”—বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    তমুদ্দুন মজলিস হলো ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাসেমের নেতৃত্বে গঠিত একটি ইসলামি সাংস্কৃতিক সংগঠন, যা ভাষা আন্দোলনের সূচনা পর্বে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনকে বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি বলা হয়।

    পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগুরু বাঙালির মাতৃভাষা বাংলাকে বাদ দিয়ে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার অপচেষ্টা চালায়। এর বিরুদ্ধে বাঙালি সমাজ তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে এবং ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বুকের তাজা রক্ত দিয়ে ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। এ রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়েই বাঙালিরা প্রথম নিজেদের স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সত্ত্বা এবং অধিকার সচেতনতা সম্পর্কে ঐক্যবদ্ধ হয়। এই চেতনা থেকেই পরবর্তীকালের প্রতিটি অধিকার আদায়ের সংগ্রাম ও অবশেষে স্বাধীনতা অর্জনের পথ সুগম হয়, তাই ভাষা আন্দোলনকে বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' অঞ্চলের মাঝে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বৈষম্যের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

    উদ্দীপকের 'ক' ও 'খ' অঞ্চলের সূচনাপর্বে অর্থনৈতিক অবস্থা প্রায় সমান থাকলেও রাষ্ট্রের পক্ষপাতমূলক ও বৈষম্যমূলক নীতির কারণে 'ক' অঞ্চল পিছিয়ে পড়ে এবং বঞ্চনার শিকার হয়।

    ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির সময় পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের অর্থনৈতিক পার্থক্য খুব বেশি ছিল না। কিন্তু পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিম পাকিস্তানি শাসক ও পুঁজিপতিদের স্বার্থে একতরফা বৈষম্যমূলক নীতি গ্রহণ করে। বৈদেশিক মুদ্রার সিংহভাগ পূর্ব পাকিস্তানের পাট ও চা রপ্তানি করে অর্জিত হলেও এর প্রায় পুরোটাই ব্যয় হতো পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও প্রতিরক্ষার কাজে। কেন্দ্রীয় বাজেট, শিল্পায়ন, রাজস্ব বণ্টন ও বৈদেশিক সাহায্যের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য তৈরি করে পূর্ব পাকিস্তানকে অভ্যন্তরীণ উপনিবেশ ও কাঁচামাল সরবরাহের বাজারে পরিণত করা হয়েছিল। উদ্দীপকের 'ক' অঞ্চলের বঞ্চনা মূলত পাকিস্তানের এই ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক বৈষম্যকেই নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত ষড়যন্ত্রমূলক মামলাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আন্দোলন এবং সরকারের পতন মূলত ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানকে নির্দেশ করে, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের একটি অবিসংবাদিত মাইলফলক।

    উদ্দীপকে উল্লেখিত 'ক' অঞ্চলের নেতাদের বিরুদ্ধে সরকারের ষড়যন্ত্রমূলক মামলাটি ঐতিহাসিক 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' (১৯৬৮)-এর প্রতিফলন। পাকিস্তানি স্বৈরশাসক আইয়ুব খান শেখ মুজিবুর রহমানসহ বাঙালি নেতৃবৃন্দের কণ্ঠ রোধ করতে এই মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। এর প্রতিবাদে ছাত্র-জনতা দেশব্যাপী তীব্র আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান গড়ে তোলে। ফলে স্বৈরাচারী আইয়ুব সরকার মামলাটি প্রত্যাহার করে রাজবন্দিদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে বাধ্য হয় এবং শেষ পর্যন্ত আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের পতন ঘটে।

    ১৯৬৯ সালের এই গণঅভ্যুত্থান বাঙালি জাতির মধ্যে অদম্য আত্মপ্রত্যয় ও রাজনৈতিক জাগরণ তৈরি করেছিল। এর মধ্য দিয়েই বাঙালি জনগণ তাদের রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কে চূড়ান্তভাবে সচেতন হয়। এই আন্দোলনের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় নিশ্চিত হয় এবং অবশেষে ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম হয়। সুতরাং, উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনাটি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের এক অনন্য মাইলফলক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন