অর্থনীতি ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৭
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
বাংলাদেশে কৃষিতে নীরব বিপ্লব সাধিত হয়েছে। হাওর, বাওড় ও উপকূলীয় এলাকায়ও এখন ধান চাষ হচ্ছে। সার, বীজ ও আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে খাদ্য ঘাটতি অনেক কমেছে। এছাড়াও সরকার খাদ্য নিরাপত্তার জন্য খাদ্যশস্য আমদানি, আপদকালীন মজুদ ও কৃষি গবেষণার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
- ক)(1)
খাদ্য নিরাপত্তা কী?
- খ)(2)
খাদ্য প্রাপ্যতাই কি খাদ্য নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য গৃহিত পদক্ষেপসমূহ আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য আরও কী কী পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
খাদ্য নিরাপত্তা বলতে এমন এক অবস্থাকে বোঝায়, যখন সব মানুষের সব সময় সুস্থ ও সক্রিয় জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাদ্যের পর্যাপ্ত প্রাপ্যতা, ক্রয়ক্ষমতা এবং ব্যবহারের সক্ষমতা থাকে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
না, খাদ্য প্রাপ্যতাই খাদ্য নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট নয়। খাদ্য নিরাপত্তার প্রধান তিনটি দিক রয়েছে: খাদ্যের প্রাপ্যতা, খাদ্যের ক্রয়ক্ষমতা বা অভিগম্যতা এবং খাদ্যের সঠিক পুষ্টিগুণ ও জৈবিক ব্যবহার। বাজারে বা দেশে খাদ্যের পর্যাপ্ত জোগান থাকলেও জনগণের যদি তা কেনার মতো আর্থিক সামর্থ্য না থাকে অথবা খাদ্যের গুণগত মান ও পুষ্টি নিশ্চিত না হয়, তবে প্রকৃত খাদ্য নিরাপত্তা অর্জিত হয় না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য গৃহীত পদক্ষেপসমূহ নিম্নরূপ:
১. অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আনা: হাওর, বাওড় ও উপকূলীয় প্রতিকূল পরিবেশের জমিগুলোকে আধুনিক পদ্ধতিতে ধান চাষের আওতায় এনে ফসলি জমি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
২. আধুনিক উপকরণের ব্যবহার: উন্নত সার, উচ্চফলনশীল (HYV) বীজ ও আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে।
৩. আপদকালীন মজুদ ও খাদ্য আমদানি: অভ্যন্তরীণ খাদ্য ঘাটতি মেটাতে ও জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার খাদ্যশস্য আমদানি এবং বাফার স্টক বা আপদকালীন মজুদ গড়ে তোলার পদক্ষেপ নিয়েছে।
৪. কৃষি গবেষণা জোরদার: প্রতিকূল পরিবেশ সহনশীল নতুন নতুন ফসলের জাত উদ্ভাবনে কৃষি গবেষণার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্দীপকে উল্লিখিত পদক্ষেপ ছাড়াও আরও বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন:
১. কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনা ও মূল্য নিয়ন্ত্রণ: মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে কৃষকের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করা এবং সাধারণ ভোক্তাদের জন্য খাদ্যপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা।
২. আধুনিক সংরক্ষণ ও হিমাগার ব্যবস্থার সম্প্রসারণ: মৌসুমি খাদ্যশস্য, ফলমূল ও শাকসবজি নষ্ট হওয়া রোধে পর্যাপ্ত আধুনিক সাইলো ও হিমাগার স্থাপন করা।
৩. নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের নিশ্চয়তা: খাদ্যদ্রব্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক বা ভেজাল রোধ এবং পুষ্টিসমৃদ্ধ সুষম খাদ্যের সরবরাহ বৃদ্ধি করা।
৪. জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তির প্রসার: বন্যা, খরা ও লবণাক্ততা সহনশীল জাতের উদ্ভাবন এবং সেচের পানির অপচয় রোধে আধুনিক প্রযুক্তির বিস্তার ঘটানো।
৫. সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদার: দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, ওএমএস (OMS) এবং কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির আওতা বাড়ানো।সুতরাং, শুধু উৎপাদন বৃদ্ধি নয়, খাদ্যের সুষম বণ্টন, ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি ও সঠিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশে সার্বিক খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও