জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • জীবপ্রযুক্তি • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
সাইব্রিড কী?
- খ)(2)
In-vitro বলতে কী বুঝ? উদাহরণসহ ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রযুক্তি 'M' এর সুবিধা এবং অসুবিধাসমূহ আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত কোন প্রযুক্তিটি চিকিৎসা বিজ্ঞানে বেশি প্রয়োগ হয়? উদাহরণসহ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রোটোপ্লাস্ট ফিউশন প্রক্রিয়ায় একটি কোষের নিউক্লিয়াস নিষ্ক্রিয় বা বিনষ্ট করে অন্য একটি স্বাভাবিক কোষের প্রোটোপ্লাস্টের সাথে যুক্ত করার ফলে উৎপন্ন সাইটোপ্লাজমিক হাইব্রিডকে সাইব্রিড (Cybrid) বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘In-vitro’ একটি ল্যাটিন শব্দ, যার অর্থ 'কাচের মধ্যে' (within the glass)। জীবদেহের বাইরে কৃত্রিম ও নিয়ন্ত্রিত কাচপাত্রের পরিবেশে কোনো জৈবিক প্রক্রিয়া বা পরীক্ষা সম্পন্ন করাকে In-vitro বলা হয়।
উদাহরণস্বরূপ: উদ্ভিদ টিস্যু কালচার প্রযুক্তিতে কাচের টেস্টটিউব বা কনিক্যাল ফ্লাস্কে কৃত্রিম পুষ্টি মাধ্যমে উদ্ভিদের ক্ষুদ্র টিস্যু বা এক্সপ্লান্ট থেকে চারা উৎপাদন করা একটি In-vitro প্রক্রিয়া। এছাড়া টেস্টটিউব বেবি তৈরিতে ল্যাবরেটরিতে ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর মিলন ঘটানোও In-vitro ফার্টিলাইজেশন (IVF)-এর উদাহরণ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্র 'M' দ্বারা টিস্যু কালচার প্রযুক্তিকে নির্দেশ করা হয়েছে। নিচে এ প্রযুক্তির সুবিধা ও অসুবিধাসমূহ আলোচনা করা হলো:
সুবিধাসমূহ:
১. স্বল্প সময়ে ও ক্ষুদ্র স্থান ব্যবহার করে বিপুল সংখ্যক চারা উৎপাদন করা যায়।
২. ঋতুভিত্তিক সীমাবদ্ধতা ছাড়াই বছরজুড়ে যেকোনো উদ্ভিদের চারা তৈরি করা সম্ভব।
৩. রোগমুক্ত ও ভাইরাসমুক্ত চারা উৎপাদন করা যায় (যেমন: মেরিস্টেম কালচারের মাধ্যমে)।
৪. বিলুপ্তপ্রায় বা সংকটাপন্ন উদ্ভিদের দ্রুত বংশবিস্তার ঘটিয়ে তাদের সংরক্ষণ করা যায়।
৫. যেসব উদ্ভিদের বীজ বাঁচে না বা অঙ্কুরোদগম হার কম, তাদের সহজেই বিস্তার ঘটানো যায়।অসুবিধাসমূহ:
১. এ প্রযুক্তি বাস্তবায়নে অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত, সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত ল্যাবরেটরি ও ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয়।
২. এতে বিশেষ কারিগরি দক্ষতা ও প্রশিক্ষিত জনবল আবশ্যক; কোনো কারণে জীবাণু সংক্রমণ ঘটলে সম্পূর্ণ কালচার বিনষ্ট হয়ে যায়।
৩. টিস্যু কালচারের মাধ্যমে উৎপন্ন উদ্ভিদগুলো জিনগতভাবে অভিন্ন (ক্লোন) হওয়ায় তাদের মধ্যে জিনগত বৈচিত্র্য থাকে না। ফলে পরিবেশের আকস্মিক পরিবর্তন বা নতুন রোগের প্রাদুর্ভাবে একযোগে সব উদ্ভিদের ক্ষতি হতে পারে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত চিত্র-M হলো 'টিস্যু কালচার' এবং চিত্র-N (প্লাজমিড) দ্বারা 'রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্রযুক্তি' বা জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং নির্দেশ করা হয়েছে। এ দুটি প্রযুক্তির মধ্যে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্রযুক্তি (চিত্র-N) চিকিৎসাবিজ্ঞানে বহুলভাবে ব্যবহৃত হয়।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রয়োগের বিশ্লেষণ ও উদাহরণ:
১. ইনসুলিন উৎপাদন: ডায়াবেটিস রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হিউম্যান ইনসুলিন রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্রযুক্তির মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে বৃহৎ পরিসরে তৈরি করা হয়। মানুষের অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন তৈরির জিন সংগ্রহ করে E. coli ব্যাকটেরিয়ার প্লাজমিডে প্রবেশ করিয়ে প্রচুর পরিমাণে খাঁটি ইনসুলিন প্রস্তুত করা সম্ভব হয়েছে।
২. ইন্টারফেরন তৈরি: ইন্টারফেরন হলো ক্ষুদ্র প্রোটিন অণু, যা দেহের প্রতিরক্ষাতন্ত্রে ভাইরাস সংক্রমণ ও ক্যানসার কোষ বৃদ্ধি প্রতিহত করতে সাহায্য করে। এই প্রযুক্তির সাহায্যে ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে ইন্টারফেরন সংশ্লেষণ করে হেপাটাইটিস ও ক্যানসার চিকিৎসায় প্রয়োগ করা হচ্ছে।
৩. টিকা (Vaccine) উদ্ভাবন: নিরাপদ ও কার্যকর রিকম্বিনেন্ট ভ্যাকসিন (যেমন: হেপাটাইটিস-বি ভ্যাকসিন) তৈরির প্রধান মাধ্যম হলো এই প্রযুক্তি।
৪. জিন থেরাপি: বংশগত রোগ নিরাময়ের জন্য ত্রুটিপূর্ণ জিনের স্থলে কার্যকরী ও সুস্থ জিন প্রতিস্থাপনে এই প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।অতএব, রোগ প্রতিরোধ, রোগ নির্ণয় এবং জীবনরক্ষাকারী ওষুধ উৎপাদনে কার্যকর ভূমিকার কারণে চিকিৎসাবিজ্ঞানে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্রযুক্তিই সবচেয়ে বেশি প্রয়োগ করা হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও