‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

সুমনা একাদশ শ্রেণিতে মানবিক বিভাগে ভর্তি হয়েছে। কিন্তু বিষয় বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ে সে তার বাবার কাছে পরামর্শ চাইল। তিনি তার সন্তানকে সুনাগরিকের গুণাবলি অর্জন এবং নাগরিকের অধিকার ভোগ ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালনের জন্য নাগরিকতা সংশ্লিষ্ট একটি বিষয়কে পাঠ্য হিসেবে নেওয়ার পরামর্শ দিলেন।

  1. ক)

    সংস্কৃত ভাষায় নগরকে কী বলা হয়?

    (1)
  2. খ)

    স্বচ্ছতা বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    সুমনার বাবা যে বিষয়টি বেছে নিতে বলেছিলেন তার বিষয়বস্তু আলোচনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের বিষয় সম্পর্কে সকল নাগরিকেরই জ্ঞান থাকা দরকার — যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সংস্কৃত ভাষায় নগরকে 'পুর' বা 'পুরী' বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    স্বচ্ছতা বলতে কোনো প্রতিষ্ঠান বা প্রশাসনিক ব্যবস্থার যাবতীয় সিদ্ধান্ত, কার্যক্রম ও নীতি জনগণের কাছে উন্মুক্ত, স্পষ্ট এবং বোধগম্য রাখাকে বোঝায়।

    সুশাসনের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হলো স্বচ্ছতা। যখন সরকারের বা কোনো কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে কোনো প্রকার গোপনীয়তা বা অস্বচ্ছতা থাকে না এবং নাগরিকরা অবাধে তথ্য জানতে পারে, তখন তাকে স্বচ্ছতা বলা হয়। এটি দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সুমনার বাবা যে বিষয়টি বেছে নিতে বলেছিলেন তা হলো 'পৌরনীতি ও সুশাসন'। নিম্নে এর বিষয়বস্তু আলোচনা করা হলো:

    পৌরনীতি ও সুশাসন মূলত নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান। এর মূল বিষয়বস্তুসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো:
    ১. নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য: নাগরিক হিসেবে ব্যক্তি কী কী সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার ভোগ করে এবং রাষ্ট্রের প্রতি কী কী দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করে, তা এ বিষয়ের প্রধান পাঠ।
    ২. নাগরিকতার অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ: নাগরিকের অতীতের অবস্থা, বর্তমান রূপ এবং ভবিষ্যতের বিকাশ সম্পর্কে আলোচনা করা।
    ৩. নাগরিকতার স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রূপ: ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা থেকে শুরু করে রাষ্ট্র ও জাতিসংঘ পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে নাগরিকের ভূমিকা পর্যালোচনা।
    ৪. রাষ্ট্র ও সরকার ব্যবস্থা: রাষ্ট্রের উৎপত্তি, সংবিধান, সরকারের বিভিন্ন অঙ্গ (আইন, শাসন ও বিচার বিভাগ) এবং তাদের কার্যাবলি।
    ৫. সুশাসন ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান: রাজনৈতিক দল, নেতৃত্ব, জনমত, আইনের শাসন এবং সুশাসনের বিভিন্ন উপাদান এ শাস্ত্রের অন্যতম বিষয়বস্তু।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ইঙ্গিতকৃত বিষয় অর্থাৎ 'পৌরনীতি ও সুশাসন' সম্পর্কে সমাজের সকল নাগরিকেরই জ্ঞান থাকা অপরিহার্য—উক্তিটি যথার্থ ও যৌক্তিক।

    একটি রাষ্ট্রকে কার্যকর, গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল হিসেবে গড়ে তুলতে হলে নাগরিকদের সচেতনতা অত্যাবশ্যক। পৌরনীতি ও সুশাসনের জ্ঞান নাগরিককে নিচের দিকগুলো অর্জনে সহায়তা করে:
    ১. সুনাগরিকের গুণাবলি অর্জন: পৌরনীতি পাঠের মাধ্যমে নাগরিকরা বুদ্ধি, আত্মসংযম এবং বিবেকবোধ জাগ্রত করে সুনাগরিক হয়ে উঠতে পারে।
    ২. অধিকার ও কর্তব্যের ধারণা: একজন নাগরিকের মৌলিক ও রাজনৈতিক অধিকার কী এবং রাষ্ট্রের প্রতি কী কী আনুগত্য ও দায়িত্ব রয়েছে (যেমন কর প্রদান, ভোটদান, আইন মান্য করা), তা কেবল এ বিষয়ে জ্ঞানের মাধ্যমেই জানা সম্ভব।
    ৩. রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি: সংবিধানের ধারা, শাসনব্যবস্থা, রাজনৈতিক দল ও গণতন্ত্রের কার্যপ্রণালী বুঝে রাষ্ট্র পরিচালনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে এ জ্ঞান সহায়ক।
    ৪. সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ: স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দাবি আদায়ে নাগরিককে সচেতন করে তোলে পৌরনীতি।

    সুতরাং, একটি রাষ্ট্রের শান্তি, শৃঙ্খলা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে প্রতিটি নাগরিকের পৌরনীতি ও সুশাসন সম্পর্কে সুস্পষ্ট জ্ঞান থাকা আবশ্যক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন