কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • ভূমি সম্পৃক্ত কৃষি প্রযুক্তি • Combined Board • রাজশাহী, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন

গত দুই বছর ধরে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী কেরামত আলী একটি বিশেষ পদ্ধতিতে ধান চাষ করে আসছেন। এই পদ্ধতিতে ১০-১৫ দিনের চারা প্রতি গোছায় একটি করে রোপণ করা হয়। এতে তিনি আশানুরূপ ফলনও পান। কিন্তু এ বছর আন্তঃপরিচর্যার। ত্রুটি থাকায় ধান ক্ষেতে ধানের শীষ বের হওয়ার সময় তিনি লক্ষ করলেন কিছু ধানের শীষ সাদা এবং হাত দ্বারা টান দিলে সহজেই উঠে আসছে।

  1. ক)

    টুংরো কী?

    (1)
  2. খ)

    দানাজাতীয় ফসলের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ধান চাষের পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত আক্রান্ত ধান ফসলের সমস্যা সমাধানে কেরামত আলীর করণীয় পদক্ষেপ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    টুংরো হলো ভাইরাসজনিত ধানের একটি মারাত্মক রোগ, যা সবুজ পাতাফড়িং (Nephotettix virescens)-এর মাধ্যমে ছড়ায়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দানাজাতীয় ফসলের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
    ১. এরা প্রধানত গ্র্যামিনি বা পোয়াসি (Poaceae) পরিবারের অন্তর্ভুক্ত একবর্ষজীবী বা স্বল্পজীবী বীরুৎ উদ্ভিদ।
    ২. এদের কাণ্ড সাধারণত নলাকার এবং ফাঁপা পর্বমধ্যযুক্ত হয়।
    ৩. এদের পাতা সরল, সমান্তরাল শিরাবিন্যাসযুক্ত এবং পাতা কাণ্ডকে বেষ্টন করে রাখে।
    ৪. এদের উৎপাদিত দানায় প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট বা শ্বেতসার সঞ্চিত থাকে, যা মানবদেহের প্রধান শক্তির উৎস।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে কেরামত আলীর অনুসৃত ধান চাষের বিশেষ পদ্ধতিটি হলো এসআরআই (SRI - System of Rice Intensification) বা ধান নিবিড়করণ পদ্ধতি।

    এই পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য ও কার্যপদ্ধতি নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
    ১. চারা নির্বাচন ও রোপণ: এ পদ্ধতিতে সাধারণ ধান চাষের মতো ৩০-৩৫ দিনের চারা ব্যবহার না করে ৮-১৫ বা ১০-১৫ দিন বয়সের কচি চারা (দুই পাতাবিশিষ্ট) অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বীজতলা থেকে তুলে রোপণ করা হয়।
    ২. রোপণ দূরত্ব ও চারার সংখ্যা: প্রতি গোছায় একাধিক চারা না দিয়ে মাত্র ১টি করে সুস্থ-সবল চারা রোপণ করা হয়। চারাগুলো ২৫ সেমি × ২৫ সেমি দূরত্বে বর্গাকার বা সারিবদ্ধভাবে লাগানো হয়।
    ৩. পানি ব্যবস্থাপনা: জমিতে সার্বক্ষণিক পানি জমিয়ে না রেখে পর্যায়ক্রমিক ভেজানো ও শুকানো (AWD) পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।
    ৪. আগাছা ও সার ব্যবস্থাপনা: কোনা উইডার বা রোটারি উইডার দিয়ে জমি নিড়ানো হয়, ফলে মাটিতে বাতাস চলাচল বৃদ্ধি পায় এবং জৈব সার ব্যবহারে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই পদ্ধতিতে কম বীজ, কম পানি এবং কম খরচে অধিক কুশি তৈরি হয় ও বাম্পার ফলন পাওয়া যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ধানের শীষ সাদা হওয়া এবং টান দিলে সহজে উঠে আসার লক্ষণটি মাজরা পোকার (Stem borer) আক্রমণের প্রতি নির্দেশ করে। শীষ আসার সময় মাজরা পোকার কীড়া কাণ্ডের ভেতরে খেয়ে ফেলে, যার ফলে শীষ শুকিয়ে সাদা হয়ে যায় (যাকে 'সাদা শীষ' বা 'মরা শীষ' বলা হয়)।

    এই সমস্যা সমাধানে কেরামত আলীর করণীয় পদক্ষেপগুলো বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. ভৌত ও যান্ত্রিক দমন ব্যবস্থা:

    • হাতজাল দিয়ে বা আলোক ফাঁদ (Light trap) ব্যবহার করে মাজরা পোকার পূর্ণাঙ্গ মথ ধরে ধ্বংস করা।
    • জমিতে ডালপালা বা বাঁশের কঞ্চি পুঁতে (পার্চিং পদ্ধতি) পাখি বসার ব্যবস্থা করা, যাতে পাখি পোকার মথ ও কীড়া খেয়ে ফেলতে পারে।
    • আক্রান্ত ধান গাছের সাদা শীষ ও শুকিয়ে যাওয়া পাতা হাত দিয়ে তুলে পুড়িয়ে ফেলা।

    ২. জৈবিক দমন ব্যবস্থা:

    • ট্রাইকোগ্রামা ও ব্রাকন নামক উপকারী পরজীবী পোকা জমিতে অবমুক্ত করে মাজরা পোকার ডিম ও কীড়া ধ্বংস করা।
    • জমিতে বন্ধু পোকা যেমন মাকড়সা, লেডিবার্ড বিটল ইত্যাদি সংরক্ষণ করা।

    ৩. রাসায়নিক দমন ব্যবস্থা:

    • আক্রমণ তীব্র হলে অনুমোদিত মাত্রায় উপযুক্ত কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে। যেমন: কার্বোফুরান (যেমন- ফুরাডান ৫জি) অথবা ডায়াজিনন (যেমন- বাসুডিন ১০জি) হেক্টরপ্রতি নির্ধারিত মাত্রায় প্রয়োগ করা।
    • অথবা তরল কীটনাশক যেমন ক্লোরপাইরিফস বা কার্ব芳রিল জাতীয় কীটনাশক সঠিক মাত্রায় পানিতে গুলে গাছে স্প্রে করা।

    পরিশেষে, সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা (IPM) নীতি অনুসরণ করে এ পোকা দমন করলে কেরামত আলী তার ফসল রক্ষা করতে পারবেন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন