পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ (১৯৪৭-১৯৭১) • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী চৌধুরী মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে যে সংবিধান রচিত হয়, সেটি লাহোর প্রস্তাবকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য ২৩ মার্চ থেকে কার্যকর করা হয়।
- ক)(1)
১৯৭০ সালের নির্বাচনে কয়টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে?
- খ)(2)
মুক্তিযুদ্ধের নিয়মিত বাহিনী বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত সংবিধানের বৈশিষ্ট্য লেখো।
- ঘ)(4)
ঐ সংবিধানের ব্যর্থতার কারণ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭০ সালের নির্বাচনে মোট ২৪টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের পাঁচটি ব্যাটালিয়নের নিয়মিত বাঙালি সেনা কর্মকর্তা ও সৈনিকদের সমন্বয়ে গঠিত বাহিনীকে 'নিয়মিত বাহিনী' বা 'এমএফ' (Mukti Fouj/Regular Force) বলা হয়। পরবর্তীতে এই নিয়মিত বাহিনী 'কে-ফোর্স', 'এস-ফোর্স' ও 'জেড-ফোর্স' নামে তিনটি ব্রিগেডে বিভক্ত হয়ে যুদ্ধ পরিচালনা করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে পাকিস্তানের ১৯৫৬ সালের সংবিধানের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। নিচে এ সংবিধানের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো আলোচনা করা হলো:
১. ইসলামী প্রজাতন্ত্র ঘোষণা: এই সংবিধানে রাষ্ট্রকে 'ইসলামী প্রজাতন্ত্র পাকিস্তান' হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং রাষ্ট্রপ্রধানের জন্য মুসলিম হওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়।
২. সংসদীয় পদ্ধতির সরকার: সরকার ব্যবস্থায় সংসদীয় বা মন্ত্রীপরিষদ শাসিত পদ্ধতির বিধান রাখা হয়, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর হাতে মূল নির্বাহী ক্ষমতা ন্যস্ত ছিল।
৩. যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা ও এক-কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা: কেন্দ্র ও দুটি প্রদেশ (পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান) নিয়ে একটি যুক্তরাষ্ট্র গঠিত হয় এবং আইনসভা ছিল এক-কক্ষবিশিষ্ট (জাতীয় পরিষদ), যাতে উভয় অংশের জন্য সমসংখ্যক (১৫০টি করে) আসন বরাদ্দ ছিল।
৪. রাষ্ট্রভাষা: বাংলা ও উর্দুকে পাকিস্তানের যৌথ রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়।
৫. মৌলিক অধিকার ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা: নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণের নিশ্চয়তা এবং স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার বিধান সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত ছিল। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত পাকিস্তানের ১৯৫৬ সালের সংবিধান দীর্ঘ নয় বছর প্রচেষ্টার পর রচিত হলেও তা সফল হতে পারেনি। কার্যকর হওয়ার মাত্র আড়াই বছরের মাথায় (১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর) এটি বাতিল হয়ে যায়। সংবিধানটির ব্যর্থতার প্রধান কারণগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা: এই সংবিধান কার্যকরের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছায়। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে বারবার প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার পরিবর্তন ঘটে, যা শাসনব্যবস্থাকে ভঙ্গুর করে তোলে।
২. স্বৈরাচারী মানসিকতা ও ষড়যন্ত্র: পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল ও পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি ইস্কান্দার মির্জা শুরু থেকেই সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় বিশ্বাসী ছিলেন না। তিনি নিজের ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতর কোন্দল সৃষ্টি করতেন।
৩. আমলাতন্ত্র ও সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপ: পাকিস্তানের সামরিক ও বেসামরিক আমলাতন্ত্র কখনো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও বেসামরিক শাসনকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেনি। তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষার কারণেই সংবিধান কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়।
৪. পূর্ব পাকিস্তানের দাবি উপেক্ষা: সংবিধানে নামমাত্র যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা রাখা হলেও আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি বাস্তবায়ন করা হয়নি এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ ছিল না।পরিশেষে, ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি ইস্কান্দার মির্জা দেশে সামরিক শাসন জারি করে এই সংবিধান বাতিল করেন এবং পরে জেনারেল আইয়ুব খান ক্ষমতা দখল করেন। এভাবে অগণতান্ত্রিক শক্তি ও রাজনৈতিক দলগুলোর অন্তর্দ্বন্দ্বে ১৯৫৬ সালের সংবিধান চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও