ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৫
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
'ক' একটি সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্র। যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দুর্বল অর্থনীতির এদেশে পর্যাপ্ত মূলধন ও অবকাঠামোগত সুবিধার অভাবে শিল্প প্রতিষ্ঠান তেমন গড়ে ওঠে নি। এজন্য দেশটির সরকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যক্তিমালিকানাধীন কিছু বড় বড় প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়। চুক্তির শর্তানুযায়ী ঐ প্রতিষ্ঠানগুলো বড় বড় ব্রিজ, উড়াল সেতু ও মেট্রোরেল ইত্যাদি নির্মাণ করবে এবং নির্দিষ্ট হারে টোল আদায়ের মাধ্যমে বিনিয়োগিত অর্থ ফিরিয়ে আনবে এবং অর্জিত মুনাফা এসব প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সরকারও পাবে। সম্প্রতি সরকার দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মালিকানার অধীনে একটি সমরাস্ত্র তৈরির কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
- ক)(1)
রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় কী?
- খ)(2)
BTTB বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' দেশটির সরকারের ১ম পর্যায়ের কর্মকাণ্ডগুলো কোন ধরনের ব্যবসায় সংগঠনের সাথে সংগতিপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত নিরাপত্তা বিষয়ে গৃহীত সরকারি সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রাষ্ট্র কর্তৃক গঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবসায়কে রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
BTTB-এর পূর্ণরূপ হলো Bangladesh Telegraph and Telephone Board (বাংলাদেশ টেলিগ্রাফ ও টেলিফোন বোর্ড)। এটি বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতের একটি স্বায়ত্তশাসিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ছিল, যা দেশের দূরপাল্লার ও অভ্যন্তরীণ টেলিফোন এবং টেলিগ্রাফ সেবা নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করত। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে এটি বিলুপ্ত করে 'বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেড' (BTCL)-এ রূপান্তর করা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' দেশটির সরকারের ১ম পর্যায়ের কর্মকাণ্ডগুলো সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিভিত্তিক ব্যবসায় বা পিপিপি (Public-Private Partnership - PPP)-এর সাথে সংগতিপূর্ণ।
জনগণের কল্যাণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ উদ্যোগে এবং অর্থায়নে যে ব্যবসায় বা প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়, তাকে পিপিপি (PPP) বলে। এতে সরকার নীতিগত সহায়তা, জমি বা আংশিক অর্থ দেয় এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মূলধন, প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনা প্রদান করে।
উদ্দীপকের 'ক' দেশটি সদ্য স্বাধীন ও দুর্বল অর্থনীতির হওয়ায় সেখানে পর্যাপ্ত মূলধন ও অবকাঠামোর অভাব ছিল। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার বেসরকারি বড় প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি করে বড় বড় ব্রিজ, উড়াল সেতু ও মেট্রোরেল ইত্যাদি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। চুক্তির আওতায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগকৃত অর্থ টোল আদায়ের মাধ্যমে তুলে নেবে এবং অর্জিত মুনাফা উভয় পক্ষ ভাগ করে নেবে। এ ধরনের যৌথ উদ্যোগ হুবহু পিপিপি (BOT/BOOT মডেল)-এর ধারণার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত নিরাপত্তা বিষয়ে গৃহীত সরকারি সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত ও সময়োপযোগী।
একটি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত খাতগুলো রাষ্ট্রীয় মালিকানায় থাকা আবশ্যক। এসব স্পর্শকাতর খাত ব্যক্তিমালিকানায় থাকলে ব্যবসায়িক মুনাফার লোভে তা দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'ক' দেশটির সরকার অবকাঠামোগত উন্নয়নে বেসরকারি খাতের সহায়তা নিলেও দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মালিকানায় সমরাস্ত্র কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সমরাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম এমন একটি ক্ষেত্র, যেখানে রাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও চরম গোপনীয়তা বজায় রাখা অত্যাবশ্যক। এটি ব্যক্তিমালিকানায় ছেড়ে দিলে অস্ত্রের অপব্যবহার, চোরাচালান বা শত্রুভাবাপন্ন গোষ্ঠীর হাতে অস্ত্র পৌঁছানোর ঝুঁকি থাকে। ফলে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে।
সুতরাং, জাতীয় প্রতিরক্ষার সংবেদনশীলতা, সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখা এবং কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার স্বার্থে সমরাস্ত্র কারখানা সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মালিকানায় স্থাপন করার সরকারি সিদ্ধান্তটি সর্বতোভাবে যৌক্তিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও