সহপাঠ • নাটক: সিরাজউদ্দৌলা • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২২
সহপাঠ প্রশ্ন
সৈয়দপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিক উদ্দিন পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে নিজ এলাকায়প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তার নিকটাত্মীয় মনির একজন বিশ্বাসঘাতকরাজাকার। কেউই মনিরকে বুঝিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের দলে নিতে পারেনি।মুক্তিযুদ্ধের শেষের দিকে একদিন মনির রাজাকার মুক্তিযোদ্ধা রফিক উদ্দিনকেধরিয়ে দেয় পাকবাহিনীর হাতে।
- ক)(1)
নবাব সিরাজউদ্দৌলা কোথায় বন্দি হন?
- খ)(2)
“ভীরু প্রতারকের দল চিরকালই পালায়”- ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
“নিকটজনের দ্বারা বিপর্যয়ের শিকার রফিক উদ্দিন ও সিরাজউদ্দৌলা”- মন্তব্যটি যথার্থতা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নবাব সিরাজউদ্দৌলা ভগবানগোলার কাছে এক পোড়ো মসজিদে (দানশাহ ফকিরের আস্তানায়) বন্দি হন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটি দ্বারা পলাশীর যুদ্ধের চূড়ান্ত বিপর্যয়ের মুখে প্রধান সেনাপতি মীরজাফর ও তার সহযোগী বিশ্বাসঘাতকদের কাপুরুষোচিত আচরণকে বোঝানো হয়েছে।
পলাশীর ময়দানে যখন দেশপ্রেমিক সেনাপতি মীর মদন কামানের গোলার আঘাতে প্রাণ হারান এবং মোহনলাল বীরত্বের সাথে ইংরেজদের আক্রমণ করে যাচ্ছিলেন, তখন নবাবের বিশ্বস্ত সেনাপতিদের পাশে না দাঁড়িয়ে মীরজাফর ও তার চক্র বিশ্বাসঘাতকতা করে। যুদ্ধ থামিয়ে তারা কার্যত ইংরেজদের বিজয়ী হওয়ার সুযোগ করে দেয়। মীরজাফর ও তার চক্রান্তকারীরা নবাবের সাথে প্রকাশ্যে লড়াই না করে পেছন থেকে প্রতারণা ও পালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে তাদের অন্তর্নিহিত ভীরুতা প্রকাশ করেছিল। নাটকে মোহনলাল এই কাপুরুষতা নির্দেশ করতেই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের বিশ্বাসঘাতকতা ও দেশদ্রোহিতার নিকৃষ্ট দিকটি ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মুক্তিযোদ্ধা রফিক উদ্দিন নিজ এলাকায় দেশকে মুক্ত করতে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন, কিন্তু তারই নিকটাত্মীয় মনির পাকবাহিনীর সাথে যোগ দিয়ে রাজাকার হিসেবে কাজ করে এবং শেষ পর্যন্ত রফিক উদ্দিনকে পাকবাহিনীর হাতে তুলে দেয়। এটি ছিল চরম এক বেইমানি ও দেশদ্রোহিতার নমুনা।
সিকান্দার আবু জাফরের ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকেও দেখা যায়, বাংলার স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা ইংরেজদের হাত থেকে বাংলার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য আমৃত্যু লড়াই করেছেন। কিন্তু তাঁরই প্রধান সেনাপতি ও আত্মীয় মীরজাফর, খালা ঘসেটি বেগম এবং রাজন্যবর্গ নবাবের সাথে বেইমানি করে ইংরেজদের সাথে হাত মেলায়। পলাশীর প্রান্তরে মীরজাফরের নিষ্ক্রিয়তা ও বিশ্বাসঘাতকতার কারণেই নবাবের পতন ঘটে এবং স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত হয়। উদ্দীপকে মনির রাজাকারের বিশ্বাসঘাতকতার মধ্য দিয়ে নাটকের এই কুৎসিত বিশ্বাসঘাতকতার দিকটিই প্রতিফলিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“নিকটজনের দ্বারা বিপর্যয়ের শিকার রফিক উদ্দিন ও সিরাজউদ্দৌলা”—মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ ও বাস্তবসম্মত।
উদ্দীপকে মুক্তিযোদ্ধা রফিক উদ্দিন দেশের স্বাধীনতার জন্য বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করছিলেন। কিন্তু তাঁর পরম নিকটাত্মীয় মনির পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসর হিসেবে কাজ করে শেষ পর্যন্ত রফিক উদ্দিনকে ধরিয়ে দেয়। আত্মীয়ের বিশ্বাসঘাতকতার কারণেই রফিক উদ্দিন চরম বিপর্যয়ের মুখোমুখি হন।
একইভাবে, ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে তরুণ নবাব সিরাজউদ্দৌলা দেশের অস্তিত্ব রক্ষার সর্বাত্মক চেষ্টা করা সত্ত্বেও নিজের ঘরের ও দরবারের নিকটজনদের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে ধ্বংসের মুখে পড়েন। নবাবের আপন খালা ঘসেটি বেগম ক্ষমতার লোভে ভাগ্নে সিরাজের ধ্বংস কামনা করেছেন। নবাবের প্রধান সেনাপতি এবং আত্মীয় মীরজাফর নবাবকে কোরআন ছুঁয়ে প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও ইংরেজদের সাথে গোপন ষড়যন্ত্র করে পলাশীর ময়দানে পুতুলের মতো দাঁড়িয়ে থেকে নবাবের পরাজয় নিশ্চিত করেছে। রায়দুর্লভ, উমিচাঁদ, জগৎশেঠের মতো সভাসদরা ব্যক্তিগত স্বার্থের লোভে সিরাজউদ্দৌলাকে সিংহাসনচ্যুত ও বন্দি করতে ইংরেজদের সহায়তা করেছে। শেষ পর্যন্ত এই নিকটজনদের কারণেই নবাবকে নৃশংসভাবে প্রাণ দিতে হয় এবং বাংলার স্বাধীনতা অস্তমিত হয়।
অতএব, উদ্দীপকের রফিক উদ্দিন যেমন নিকটাত্মীয়ের বেইমানিতে ধরা পড়েন, তেমনি নবাব সিরাজউদ্দৌলাও নিজের নিকটাত্মীয় ও আস্থাভাজনদের দ্বারা চরম বিপর্যয়ের শিকার হন। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি সর্বাংশে সত্য ও যুক্তিযুক্ত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও