পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ (১৯৪৭-১৯৭১) • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
পাক-ভারত উপমহাদেশে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে গড়ে উঠা রাষ্ট্রটিতে দুই অঞ্চলের মধ্যে ব্যাপক বৈষম্য গড়ে উঠে। তারই প্রেক্ষিতে জন্মের প্রায় ২২ বছর পর এক ব্যাপক আন্দোলন গড়ে উঠে।
- ক)(1)
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা কর্মসূচির প্রথম দফা কী ছিল?
- খ)(2)
দ্বিজাতি তত্ত্ব বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে যে আন্দোলনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে তার কারণ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ঐ আন্দোলনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা কর্মসূচির প্রথম দফা ছিল—"বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা"।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৩৯ সালে সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের নেতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ কর্তৃক উপস্থাপিত একটি রাজনৈতিক তত্ত্ব হলো দ্বিজাতি তত্ত্ব। এই তত্ত্বের মূল বক্তব্য ছিল—ভারতীয় উপমহাদেশে হিন্দু এবং মুসলমান কেবল দুটি আলাদা ধর্মীয় সম্প্রদায় নয়, বরং তারা সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র দুটি জাতি; যাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ সম্পূর্ণ পৃথক। এই তত্ত্বের ভিত্তিতেই পরবর্তীতে ধর্মভিত্তিক পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে পাকিস্তান সৃষ্টির প্রায় ২২ বছর পর সংঘটিত ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। এই আন্দোলনের প্রধান কারণগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. অর্থনৈতিক বৈষম্য ও শোষণ: পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পূর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ উপনিবেশে পরিণত হয়। বাজেটের সিংহভাগ পশ্চিম পাকিস্তানে ব্যয় হতো এবং পূর্ব পাকিস্তানের পাট রপ্তানির আয়ে পশ্চিমের উন্নয়ন করা হতো।
২. রাজনৈতিক ও সামরিক আধিপত্য: ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খানের সামরিক শাসন জারি, মৌলিক গণতন্ত্রের নামে স্বৈরতন্ত্র কায়েম এবং পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক ক্ষমতা সংকুচিত করার ফলে জনগণের ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হয়।
৩. ৬ দফার ওপর দমন-পীড়ন: ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বায়ত্তশাসনের লক্ষ্যে ৬ দফা দাবি পেশ করলে আইয়ুব সরকার দমন নীতি গ্রহণ করে এবং বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে।
৪. আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা: বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে চিরতরে স্তব্ধ করতে আইয়ুব সরকার ১৯৬৮ সালে শেখ মুজিবুর রহমানকে ১ নম্বর আসামি করে 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' দায়ের করে।এসব শোষণ, বঞ্চনা ও মামলার প্রতিবাদে ছাত্রসমাজ ঐতিহাসিক ১১ দফা দাবি পেশ করে এবং দেশব্যাপী আইয়ুববিরোধী গণআন্দোলন গড়ে তোলে, যা ১৯৬৯ সালের তীব্র গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত আন্দোলনটি হলো ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এই আন্দোলনের গুরুত্ব অপরিসীম। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের পতন: ১৯৬৯ সালের ছাত্র-জনতার উত্তাল আন্দোলনের মুখে স্বৈরশাসক আইয়ুব খান ১৯৬৯ সালের ২৫ মার্চ পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। ফলে দীর্ঘ এক দশকের সামরিক স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে।
২. আগরতলা মামলার প্রত্যাহার ও বঙ্গবন্ধুর মুক্তি: তীব্র আন্দোলনের মুখে পাকিস্তান সরকার 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। ২২ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমানসহ রাজবন্দিরা নিঃশর্ত মুক্তি পান এবং পরের দিন ২৩ ফেব্রুয়ারি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ কর্তৃক শেখ মুজিবকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
৩. ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনের পথ উন্মুক্ত হওয়া: এই গণঅভ্যুত্থানের ফলেই পরবর্তী শাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খান প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন দিতে বাধ্য হন।
৪. জাতীয়তাবাদী চেতনার বিস্তার ও মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তি: গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাঙালি জাতির মধ্যে অসাম্প্রদায়িক ও স্বাধিকার চেতনা চূড়ান্ত রূপ লাভ করে। কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, বুদ্ধিজীবী সর্বস্তরের জনতার এই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ ক্ষেত্র প্রস্তুত করে।সুতরাং বলা যায়, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান বাঙালিকে স্বায়ত্তশাসনের দাবি থেকে স্বাধীনতার অভিমুখে চালিত করেছিল এবং এর পথ ধরেই ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও