যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
রফিক ও মোহন দুজন সহপাঠী ও একে অপরের বন্ধু। তারা দুজনেই যুক্তিবিদ্যার ছাত্র। রফিকের কাছে সংজ্ঞা ও বর্ণনার মধ্যে পার্থক্যের বিষয়টি সুস্পষ্ট নয়। এজন্য সে মোহনের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে। একদিন রফিক ক্লাশে পাঠদানকারী শিক্ষকের কাছে জানতে চায়, স্যার, যুক্তিবিদ্যায় সংজ্ঞা ও বর্ণনার মধ্যে কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষক মহোদয় জানান, আমরা কোনো পদ বর্ণনায় ঐ পদের প্রকৃত অর্থ প্রকাশ করি, যা সবার কাছে স্পষ্ট হয়। আবার তিনি বলেন, “সংজ্ঞা হলো কোনো পদের পূর্ণ জাত্যর্থকে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করা।” তবে বর্ণনার তুলনায় সংজ্ঞার গুরুত্ব বেশি।
- ক)(1)
সংজ্ঞা কী?
- খ)(2)
বর্ণনার ধারণাটি ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত শিক্ষকের প্রথম বক্তব্যে কোন ধারণা প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে শিক্ষকের দ্বিতীয় বক্তব্যে যথার্থ সংজ্ঞা প্রদানে কি সক্ষম? তোমার মতামতের সপক্ষে যুক্তি দেখাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো পদের পূর্ণ জাত্যর্থের সুস্পষ্ট বিবৃতি বা প্রকাশকেই যুক্তিবিদ্যায় সংজ্ঞা (Definition) বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বর্ণনা (Description) হলো কোনো পদের উপলক্ষণ বা অবান্তর লক্ষণ অথবা উভয় গুণের উল্লেখের মাধ্যমে পদটির অর্থ নির্দেশ করার একটি সাধারণ প্রক্রিয়া। বর্ণনায় কোনো পদের মৌলিক বা আবশ্যিক গুণ (জাত্যর্থ) উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক নয়; বরং যে কোনো লক্ষণীয় বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়। তাই বর্ণনা বৈজ্ঞানিক বা সুনির্দিষ্ট নয় এবং এর কোনো নির্দিষ্ট নিয়মাবলি থাকে না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে শিক্ষকের প্রথম বক্তব্য—"আমরা কোনো পদ বর্ণনায় ঐ পদের প্রকৃত অর্থ প্রকাশ করি, যা সবার কাছে স্পষ্ট হয়"—দ্বারা মূলত 'লৌকিক সংজ্ঞা' বা সাধারণ 'বর্ণনা'র ধারণাকে প্রকাশ করা হয়েছে।
যুক্তিবিদ্যায় বর্ণনার মাধ্যমে কোনো পদের প্রকৃতিকে উপলক্ষণ বা অবান্তর লক্ষণের সাহায্যে এমনভাবে প্রকাশ করা হয়, যাতে বিষয়টি সাধারণ মানুষের কাছে বোধগম্য ও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। শিক্ষকের বক্তব্যে সাধারণ বর্ণনার সেই ব্যবহারিক দিকটি উঠে এসেছে, যেখানে মূল লক্ষ্য থাকে পদটির তাৎপর্যকে সহজে পরিচিত করিয়ে দেওয়া। তবে যুক্তিবিদ্যার কঠোর নিয়মানুযায়ী এটি বিশুদ্ধ বৈজ্ঞানিক সংজ্ঞা নয়, বরং পদের বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য তুলে ধরার একটি রূপমাত্র।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে শিক্ষকের দ্বিতীয় বক্তব্যটি ছিল—"সংজ্ঞা হলো কোনো পদের পূর্ণ জাত্যর্থকে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করা।" এই বক্তব্যটি যথার্থ যৌক্তিক সংজ্ঞা প্রদানে সম্পূর্ণরূপে সক্ষম।
যুক্তিবিজ্ঞানী এরিস্টটল এবং জেভন্সের মতে, সংজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য হলো কোনো পদের আবশ্যিক ও অপরিবর্তনীয় সারধর্ম অর্থাৎ জাত্যর্থকে ব্যক্ত করা। যৌক্তিক সংজ্ঞার প্রথম নিয়ম অনুযায়ী, সংজ্ঞায় সংজ্ঞেয় পদের সম্পূর্ণ জাত্যর্থ উল্লেখ করতে হবে; এর চেয়ে বেশি বা কম উল্লেখ করা যাবে না। শিক্ষকের দ্বিতীয় বক্তব্যে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, সংজ্ঞায় পূর্ণ জাত্যর্থকে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করতে হয়। এটি সংজ্ঞার মূল বৈজ্ঞানিক ও তাত্ত্বিক ধারণার সাথে হুবহু সামঞ্জস্যপূর্ণ।
অতএব, শিক্ষকের এই বক্তব্যটি যুক্তিবিদ্যার প্রতিষ্ঠিত নিয়মের অনুকূলে থাকায় এটি যথার্থ যৌক্তিক সংজ্ঞা নির্ধারণে পূর্ণাঙ্গভাবে সক্ষম।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও