বাংলা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৭

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

আটোয়ারী থানার 'বার আউলিয়া' নামক স্থানে বারোটি মাজার আছে। সেখানে বৈশাখ মাসের শেষ বৃহস্পতিবারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে ব্যবসা বাণিজ্য। নানারকম ব্যবসার মাঝে কিছু অসাধু ব্যক্তি ধর্মকে আশ্রয় করে মানুষ ঠকানোর কাজ করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে নেয়।

  1. ক)

    মজিদ সবাইকে কী বলে সম্বোধন করে থাকেন?

    (1)
  2. খ)

    চোখে তার তেমনি শিকারির সূচাগ্র একাগ্রতা'- বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের 'অসাধু ব্যক্তি' লালসালুর কোন চরিত্রটিকে ইঙ্গিত করে, বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “ধর্ম কখনো কখনো একশ্রেণির ব্যক্তির ব্যবসার উপজীব্য হয়ে উঠেছে।” উদ্দীপকের কাহিনি ও পরিণতির চেয়ে উপন্যাসের কাহিনি ও পরিণতি অধিকতর বৈচিত্র্যময়- বিষয়টি তোমার মতামতসহ আলোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মজিদ সবাইকে 'মিঞা' বা 'মিঞারা' বলে সম্বোধন করে থাকে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'চোখে তার তেমনি শিকারির সূচাগ্র একাগ্রতা'- উক্তিটি দ্বারা মজিদের লক্ষ্য অর্জনে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ও ধূর্ত মনোযোগকে বোঝানো হয়েছে।

    মজিদ মহব্বতনগর গ্রামে ধর্মকে পুঁজি করে নিজের অস্তিত্ব ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিল। গ্রামের প্রতিটি মানুষ ও পরিস্থিতির ওপর সে সতর্ক নজর রাখত। শিকারি যেমন একাগ্র চিত্তে শিকারের দুর্বলতা ও গতিবিধির ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখে, মজিদও তেমনি নিজের প্রভাব বজায় রাখা এবং গ্রামীণ মানুষের মনস্তত্ত্ব নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সদা সতর্ক ও তীক্ষ্ণ দৃষ্টি বজায় রাখত।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'অসাধু ব্যক্তি' দ্বারা 'লালসালু' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ভণ্ড ও স্বার্থান্বেষী মজিদকে ইঙ্গিত করে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, বার আউলিয়ার মাজারকে কেন্দ্র করে বৈশাখ মাসে গড়ে ওঠা ব্যবসায় কিছু অসাধু লোক ধর্মকে আশ্রয় করে সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে। তারা মানুষের অন্ধ বিশ্বাস ও ধর্মীয় অনুভূতিকে শোষণ করে নিজেদের জীবিকা ও আর্থিক ফায়দা লোটে।

    'লালসালু' উপন্যাসেও মজিদ শস্যহীন এলাকা থেকে মহব্বতনগর গ্রামে এসে একটি অজ্ঞাত কবরকে 'মোদাচ্ছের পীর'-এর মাজার দাবি করে লালসালু কাপড়ে ঢেকে দেয়। এরপর সে গ্রামবাসীকে ধর্মের ভয় দেখিয়ে তাদের সরল বিশ্বাস ও কুসংস্কারকে পুঁজি করে নিজের আধিপত্য, জীবিকা ও সম্পদ গড়ে তোলে। সুতরাং, ধর্মকে আশ্রয় করে মানুষ ঠকিয়ে স্বার্থ উদ্ধারের দিক থেকে উদ্দীপকের 'অসাধু ব্যক্তি' চরিত্রটি উপন্যাসের মজিদের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “ধর্ম কখনো কখনো একশ্রেণির ব্যক্তির ব্যবসার উপজীব্য হয়ে উঠেছে।”—উদ্দীপকের সংক্ষিপ্ত পরিসরের চেয়ে 'লালসালু' উপন্যাসের কাহিনি ও পরিণতি নিঃসন্দেহে অধিকতর বৈচিত্র্যময় ও গভীর; মন্তব্যটি যথার্থ।

    উদ্দীপকে কেবল বৈশাখ মাসের শেষ বৃহস্পতিবার বার আউলিয়ার মাজারকে কেন্দ্র করে কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তির ধর্মব্যবসা ও মানুষকে ঠকানোর একটি সাময়িক রূপ ফুটে উঠেছে। এতে তাদের শোষণ ও জীবনসংগ্রামের গভীর রূপ বা কোনো সুনির্দিষ্ট পরিণতি প্রতিফলিত হয়নি।

    পক্ষান্তরে, 'লালসালু' উপন্যাসে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ধর্মব্যবসাকে কেন্দ্র করে একটি সমগ্র সমাজের মনস্তত্ত্ব, অন্ধবিশ্বাস, ভীতি ও টিকে থাকার লড়াইকে অত্যন্ত বিস্তৃত ও বৈচিত্র্যপূর্ণভাবে উপস্থাপন করেছেন। মজিদ কেবল মানুষ ঠকিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, বরং সমাজে নিজের শিকড় গেড়ে বসতে খালেক ব্যাপারীর মতো ধনিক শ্রেণির সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছে, রহিমার মতো অনুগত স্ত্রীকে নিয়ন্ত্রণ করেছে, জমিলাকে শাসন করতে চেয়ে ব্যর্থ হয়েছে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী পীরের আগমনকে প্রতিহত করেছে। শেষ পর্যন্ত প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের চরম ক্ষতি হলেও মজিদ তার লালসালু মোড়ানো মাজারটিকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার যে মরিয়া লড়াই চালিয়ে যায় ("বিশ্বাস বা অবিশ্বাসের চেয়েও সে যেন এক চরম সত্য"), তা উপন্যাসের কাহিনি ও পরিণতিকে বহুস্তরীয় এবং শিল্পোত্তীর্ণ বৈচিত্র্যে রূপ দিয়েছে।

    অতএব, উদ্দীপকে ধর্মব্যবসার একটি সাধারণ ও সীমাবদ্ধ চিত্র থাকলেও 'লালসালু' উপন্যাসে মানুষের মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব, সমাজবাস্তবতা ও টিকে থাকার গভীর লড়াই চিত্রিত হওয়ায় এর কাহিনি ও পরিণতি বহুলাংশে অধিক বৈচিত্র্যময়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন