অর্থনীতি ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৯
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
গণি মিয়া একজন কৃষক। বন্যা, লবণাক্ততা ও খরার কারণে তার জমিতে ফলন কমে যাচ্ছে। তাই তিনি চিন্তাগ্রস্ত। এ সমস্যা সমাধানে তিনি কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিলেন। কৃষি কর্মকর্তা। তাকে একটি বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে দিক নির্দেশনা দিলেন। ফলে গণি মিয়ার জমির ফলন বেড়ে গেল। এখন গণি মিয়া বেশ খুশি।
- ক)(1)
কৃষি খামার কী?
- খ)(2)
‘শস্য বহুমুখীকরণের ফলে ঝুঁকি হ্রাস সম্ভব'- ব্যাখ্যা করো ।
- গ)(3)
গণি মিয়ার জমিতে কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নে এই প্রযুক্তির ব্যবহার কতটুকু · যুক্তিযুক্ত তা উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একজন কৃষক বা একটি কৃষি পরিবারের একক ব্যবস্থাপনাধীন নির্দিষ্ট পরিমাণ কৃষি জমিকে কৃষি খামার বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শস্য বহুমুখীকরণ বলতে একই জমিতে শুধু একটি ফসলের চাষ না করে মৌসুমভেদে বিভিন্ন ধরনের ফসল ফলানোকে বোঝায়। একক ফসলের চাষ করলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ (যেমন খরা, বন্যা, পোকা-মাকড়ের আক্রমণ) বা বাজারে আকস্মিক মূল্যপতনের কারণে কৃষক মারাত্মক ক্ষতির শিকার হতে পারেন। কিন্তু শস্য বহুমুখীকরণ করলে একটি ফসলের ক্ষতি হলেও অন্য ফসল থেকে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়। ফলে উৎপাদন ও বাজারমূল্য সংক্রান্ত সামগ্রিক ঝুঁকি হ্রাস পায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গণি মিয়ার জমিতে মূলত 'কৃষি জীবপ্রযুক্তি' বা প্রতিকূলতা সহনশীল আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি (যেমন বন্যা, লবণাক্ততা ও খরা সহনশীল উন্নত জাতের বীজ উদ্ভাবন ও ব্যবহার) প্রয়োগ করা হয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, গণি মিয়ার জমিতে বন্যা, লবণাক্ততা ও খরার কারণে ফসলের উৎপাদন কমে গিয়েছিল। কৃষি কর্মকর্তার দিকনির্দেশনায় তিনি যে বিশেষ প্রযুক্তি গ্রহণ করেন, তা এই প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে। জীবপ্রযুক্তি বা বায়োটেকনোলজির মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা জিন প্রকৌশল প্রয়োগ করে খরা-সহনশীল (যেমন ব্রি ধান-৫৬), লবণাক্ততা-সহনশীল (যেমন ব্রি ধান-৪৭) ও জলমগ্নতা বা বন্যা-সহনশীল জাতের বীজ উদ্ভাবন করেছেন। এই বিশেষ প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ব্যবহারের ফলেই প্রতিকূল পরিবেশেও গণি মিয়ার জমির ফলন বৃদ্ধি পেয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নে উদ্দীপকে নির্দেশিত কৃষি জীবপ্রযুক্তি তথা প্রতিকূলতা সহনশীল প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং শতভাগ যুক্তিযুক্ত। নিচে এর যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা: বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত দেশ। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ততা, উত্তরাঞ্চলে খরা এবং মধ্যাঞ্চলে নিয়মিত বন্যার কারণে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ জমির ফসল নষ্ট হয়। প্রতিকূলতা সহনশীল জাতের বীজ ব্যবহারের মাধ্যমে এসব ঝুঁকি কাটিয়ে ফসল উৎপাদন সচল রাখা সম্ভব।
২. খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: বাংলাদেশের জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, অথচ কৃষি জমির পরিমাণ প্রতিনিয়ত কমছে। প্রতিকূল পরিবেশের কারণে পতিত থাকা জমিতে লবণাক্ততা বা খরা সহনশীল জাত চাষ করে খাদ্যশস্যের উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি করা যায়, যা ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা মেটাতে অপরিহার্য।
৩. কৃষকের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা: উদ্দীপকে যেমন দেখা যায়, প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে গণি মিয়ার ফলন বেড়েছে ও তিনি লাভবান হয়েছেন। তেমনিভাবে প্রতিকূল পরিবেশের কৃষকরাও নিয়মিত ফলন পেলে অর্থনৈতিক ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবেন এবং গ্রামীণ দারিদ্র্য হ্রাস পাবে।
৪. টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা: রাসায়নিক সারের অতিরিক্ত ব্যবহার না করে জিনগতভাবে উন্নত ও সহনশীল ফসলের চাষ পরিবেশবান্ধব ও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই।
সুতরাং, বাংলাদেশের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দেশে প্রতিকূলতা সহনশীল উন্নত কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার কৃষির স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য সম্পূর্ণ যুক্তিসংগত এবং অপরিহার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও